খুলনা পাবলিক কলেজের নিহত ছাত্র রাজিনের পরিবার নিরাপত্তাহীনতায়

0
384

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস:
খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র শেখ ফাহমিদ তানভীর রাজিন (১৩) হত্যা মামলার আসামিরা গ্রেফতারের চার দিন পর জামিন পাওয়ায় নিহতের পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেছেন নিহত রাজিনের খুলনা মেট্রোপুলিশ লাইন্স হাই স্কুলের শিক্ষিকা মা রেহানা খাতুন। রবিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, সাক্ষীরা এখন ভীত হয়ে পড়েছেন। তারা ভয়ে  আদালতে সাক্ষ্য দিতে চাচ্ছেন না। দ্রæততার সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। আসামিদের মধ্যে মিতুল, রয়েল, আপন ও অন্যরা র‌্যাব ও পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, হত্যার মাত্র চার দিনের মাথায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি মো. সানি ইসলাম আপন ও সাক্রান সাহেল মিতুলকেও খুলনার শিশু আদালতের বিচারক ও অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মোসাম্মৎ দিলরুবা সুলতানা জামিন মঞ্জুর করেন। আসামিরা গ্রেফতারের পর দ্রæত সময়ের মধ্যে জামিন পাওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা দ্রæত জামিন পাওয়ায় সাক্ষীরা ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তারা এখন আর আদালতে সাক্ষ্য দিতে চাচ্ছেন না। এমনকি, উত্ত্যক্তের শিকার, যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে রাজিন খুন হয়েছে, সেই ছাত্রীও আদালতে সাক্ষ্য দিতে ভয় পাচ্ছে। এই অবস্থায় মামলার সঠিক বিচার হবে কি-না তা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে রাজিনের মা রেহানা খাতুন হত্যা মামলাটি চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে নিয়ে তিন মাসের মধ্যে আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি করে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ সময় নিহত রাজিনের বাবা শেখ জাহাঙ্গীর আলম, আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওলিউর রহমানসহ আত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
২০ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে পাবলিক কলেজে রাজিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। হত্যার পর দিন রাজিনের বাবা শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উলে­খ এবং অজ্ঞাত আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে খালিশপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। রাজিনের সহপাঠী এক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। ওই দিন রাতেই ছয় আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা সকলে রাজিনের সময় বয়সী এবং বিভিন্ন স্কুলের সপ্তম এবং অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। আদালত ২৪ জানুয়ারি তাদের মধ্যে চারজনকে জামিন দেয়।