খুলনা নেছারিয়া ইয়াতিমখানার নিবাসীরা যেন একটি পরিবার…

0
761

ইয়াছিন আরাফাত/ফকির শহিদুল ইসলাম :

নানা সুযোগ-সুবিধার মধ্য দিয়ে শিক্ষা গ্রহণ করছে খুলনা নেছারিয়া ইয়াতিমখানার শিক্ষার্থীরা। সব হারানো এসব শিশু-কিশোররা প্রতিষ্ঠানটিতে একটি পরিবারের মতো জীবন অতিবাহিত করছে। এখানে যেমন রয়েছে তাদের থাকার সুব্যবস্থা, তেমনি আছে পাঠদানের ব্যবস্থা। খাবার পরিবেশন করা হয় নিয়মমাফিক। দ্বীন শিক্ষা আর খেলাধূলাও চলে নিয়মিত। সম্প্রতি ইয়াতিমখানা পরিদর্শনে গেলে এসব চিত্র মেলে।

সূত্রমতে, ১৯৬২ সালে ২একর ১৬শতক জমির ওপর যাত্রা শুরু হয় খুলনা নেছারিয়া ইয়াতিমখানার। মুহা: আব্দুল হাকিম আজাদি ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৭২ সালে অব্যাহিত নেন এই প্রতিষ্ঠান প্রধান। অব্যাহতি নেয়ার পূর্বে তিনি খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসাহ প্রতিষ্ঠা করেন। অবশ্য, এই প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তা ছিলেন মুহা: আব্দুল হাকিম আজাদির বড় ভাই ও বরিশাল শর্ষিণা কামিল মাদরাসাহ’র তৎকালীন উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবুল খায়ের আব্দুল আজিজ। এই মহতি উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে তিনি ছোট ভাই আব্দুল হাকিমকে দিয়ে ইয়াতিমখানার যাত্রা শুরু করেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খুলনা নেছারিয়া ইয়াতিমখানায় রয়েছে অত্যাধুনিক স্থাপত্য’র তিনতলা বিশিষ্ট ভবন। ভবনটিতে মোট ২শ’ ইয়াতিম থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। যার প্রত্যেক কক্ষ সুবিস্তৃত। আছে ফ্লোর প্রতি কমনরুম, লন্ড্রী, লাইব্রেরী, ফার্স্টএইড, গোসলখানা, শৌচাগার, সহযোগী সুপারের কক্ষ। সমগ্র ইয়াতিমখানা দেখভাল করেন একজন সুপার। এছাড়া ভবন সম্মুখে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান। আর খেলাধূলার জন্য আছে বিশাল মাঠ। পরিস্কার-পরিছন্ন ডাইনিং স্পেস। ১শ’ জন ধারণ সম্পন্ন কনফারেন্স রুমও আছে ভবনটিতে। দ্বীনের শিক্ষা গ্রহণের জন্য আছে হেফজখানা। আর মসজিদ-মাদ্রাসাতো আছেই।

ইয়াতিমখানার নিবাসী রবিউল ইসলাম, আবু সাঈদ ও আব্দুর রহমানসহ একাধীক শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, যথাসময়ে তাদের খাবার পরিবেশন করা হয়। বিকেলে নাস্তা, সপ্তাহে দু’দিন মাংস, একদিন ডিম, একদিন সবজি, একদিন খিচুড়ি এবং দু’দিন মাছ থাকে তাদের খাবারের মধ্যে। নিয়মিত খাবারের সাথে মৌসুমি ফল পায় তারা। এছাড়া দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় সকল ধরণের সামগ্রীর প্রদান করা হয় তাদের।

সহযোগী হোস্টেল সুপার মুহা: আবূ সাইদ বলেন, তিনি চার বছর ধরে এখানে রয়েছেন। এরমধ্যে দু’বছর সহযোগী সুপারের দায়িত্বে এবং অন্য দু’বছর ছিলেন শিক্ষার্থী। তার ছাত্রজীবন সময়ের থেকে এখন এখানকার পরিবেশ অনেক উন্নত। আগে এতো ভালো খাবার পরিবেশন করা হতো না, এখন যা হয়। ছিলো থাকার জন্য এমন সুব্যবস্থা।

জানা গেছে, খুলনা নেছারিয়া ইয়াতিমখানায় মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮শ’। বর্তমানে এখানে আছে শতাধীক ইয়াতিম। মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ১২জন। ইয়াতিমদের জন্য সার্বক্ষণিক চারজন শিক্ষক থাকেন। বিভিন্ন সময়ে এখানে প্রতিষ্ঠান প্রধানের (সুপার/অধ্যক্ষ) দায়িত্ব পালন করেছেন, তার মধ্যে রয়েছেন মুহা: নুরুল ইসলাম, মুহা: নুরুল আমীন, মুহা: আব্দুল আউয়াল আনোয়ারী, এজেডএম আব্দুস সাত্তার, মুহা: রহমাতুল্লাহ এবং সর্বশেষ চলতি বছর মার্চ থেকে জিএম নুরুল ইসলাম দায়িত্বে আছেন। সমাজ কল্যাণ সংস্থা কর্তৃক ৩৬জন শিক্ষার্থী গ্রান্ড সুবিধা পেয়ে থাকে বলে জানা যায়। প্রতি বছর শিক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য আছে প্রতিষ্ঠানটির।

আরও জানা গেছে, খুলনা নেছারিয়া মাদ্রাসার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধিতে সাবেক অধ্যক্ষ মুহা: রহমাতুল্লাহ’র অবদান অনস্বীকার্য। তার দায়িত্ব পালনকালীন একক প্রচেষ্টায় ১৯৯৬ সালে কামিল ডিগ্রী অনুমোদন হয়। এছাড়া ২০০১-০২ সালে মুসলিম এইড ইউকে’র সহায়তা নিয়ে তিনি দ্বি-তল ভবন তিনতলা সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্ন করেন এবং ২০টি কম্পিউটার সেট শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করেন। পাশাপাশি তিনি তুরস্ক ভিত্তিক এনজিও আইএইচএইচ’র সহায়তায় ইয়াতিমদের জন্য তিনতলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করান। প্রতি তলা ৮ হাজার স্কয়ার ফিট হিসেবে যার মোট আয়তন ২৪ হাজার স্কয়ার ফিট।