খুলনা নগরী সংলগ্ন ময়ূর নদীর পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর পরিবেশের অধিদপ্তরের প্রতিবেদন

0
502

নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনা মহানগরীর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ১১ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ময়ূর নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। জলজপ্রাণির বেঁচে থাকার সুযোগ নেই। মানববর্জ্য, নানাবিধ আবর্জনা ও নগরী থেকে নর্দমা দিয়ে বয়ে আসা বিষাক্ত পানি ময়ূর নদীর পরিবেশ বিপর্যস্ত করে তুলেছে। এই পানি জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক।
পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনার মে মাসের বিভিন্ন নদীর পানি পরীক্ষার প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিওএ’র মান নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে কম হওয়ায় পানি প্রতিনিয়ত দুষিত হচ্ছে। পিলখানার গরুর রক্ত প্রতিদিন রাতে ময়ূর নদীতে এসে পড়ছে। প্রতি মাসে শহর থেকে ভেসে আসা পলিথিনের পরিমান প্রায় দু’ মেট্টিক টন। এছাড়া মানববর্জ্য পরিবেশ বিপর্যস্ত করে তুলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র ক্যামিষ্ট কামরুজ্জামান সরদার জানান, বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ, অবৈধ দখলদার মুক্ত হলে ময়ূর নদীকে বাঁচানো সম্ভব হবে। মহানগরীর স্বার্থে ময়ূর নদীকে বাঁচাতে হবে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের এক প্রকাশনায় বলা হয়েছে, উপকূলীয় এলাকার ভূ-গর্ভস্থ পানিতে লবণাক্ততা বেড়েইে চলেছে। পানিতে লবণাক্ততা উপকূলের বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি করছে। নানা ধরণের চর্মরোগ হচ্ছে মানবদেহে।
অপরদিকে, কুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের খসড়া গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অবৈধ দখল ও ভরাটের কারণে ময়ূর নদী দিয়ে পানি নিস্কাষণ হয়না। ফলে শহরের ১৫ লাখ লোকের মধ্যে এক তৃতীয়াংশের অধিক লোক জলাবদ্ধতার ফলে নানা সমস্যায় ভোগে। মাঝারি থেকে ভারি বর্ষণের ফলে নগরীর ৮০ ভাগ রাস্তা পানিতে নিমজ্জিত হয়। মহানগরীর পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ময়ূর নদী ভূ-উপরিস্থ পানির বড় আধার। ময়ূর নদী বিশাল এক মিস্টি পানির আধার। যার সংরক্ষণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় খুলনা নগরীর সুপেয় পানি সরবরাহের চাহিদা পূরণ করতে পারতো। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সুপারিশমালায় বলা হয়েছে, ময়ূর দখলমুক্ত ও বর্জ্য নিক্ষেপ না করা হলে এখানকার পানি ব্যবহারযোগ্য হবে।