খুলনা নগরীর সবুজবাগ জামে মসজিদের ইমামের বিরুদ্ধে অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ’র অভিযোগ

0
252

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ সবুজবাগ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা সোলাইমান হোসেন নোমানীর বিরুদ্ধে মসজিদে অনুদানের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই মসজিদের কতিপয় মুসল্লী গণস্বাক্ষর দিয়ে মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সাধ্রাণ সম্পাদকের কাছে এবিষয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকায় তাকে অপসারণপূর্বক নতুন ইমাম নিয়োগের আবেদন জানানো হয়। অবশ্য, অভিযুক্ত ইমাম অভিযোগটি নাকচ করে ঘটনাটি ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়, সোলাইমান হোসেন নামাজের সময়সূচী বানানোর নাম করে প্রফেসর আক্তার হোসেনের নিকট থেকে ১১ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। যার বাজারমূল্য ৬/৭ হাজার টাকা সর্বোচ্চ। বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকায় ইমামের সততা সম্পর্কে বিরুপ ধারণার সৃষ্ট্রি হয়েছে। উল্লেখিত কারণটি অভিযুক্তের অপসারণের জন্য যথেষ্ট বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
এছাড়া জনৈক মহিলার নিকট হতে ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করেন সোলাইমান। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরেও উন্নয়ন ফান্ডে জমা না দিয়ে অন্য কাজে ব্যয় করেন। আবার মোয়াজ্জেম হোসেনের নিকট হতে ১ হাজার টাকা গ্রহণ করে আত্মসাতের চেষ্টা করেন। আরো এক মুসল্লীর নিকট হতে এতিম-মিসকিন খাওয়ানোর নাম করে ১০ হাজার টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেন বলে মুসল্লী;ের ধারণা। কারণ তার কোন এতিমখানা নেই।
অভিযোগে আরও জানা যায়, প্রবল নামের মুসল্লীর নিকট হতে এতিমখানার নাম করে অনেক টাকা গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিয়ে সোলাইমান হোসেন নিজেই মন:ক্ষুন্ন হয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তাছাড়া করোনাকালীন সময়ে মসজিদের সকল স্টাফদের নামে দান/অনুদানের পণ্য গ্রহণ করে তার বড় অংশই একাই লুফে নেন। আবার তার নামে একটি নাশকতা মামলা (২৮৭/২০১৪) চলমান রয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। সবশেষ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের সাথে খারাপ আচরণসহ নোংরা গ্রুপিংয়ের কারণে মুসল্লীদের মধ্যে বিভক্তি দেখা দিয়েছে।
মুসল্লীরা অভিযোগে জানান, সোলাইমানের বিভিন্ন অনিয়ম, অস্বচ্ছতা ও চৌর্যবৃত্তির কারণে এলাকার মুসল্লীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা এই অসৎ ব্যাক্তির পেছনে নামাজ আদায় করতে চাচ্ছেন না। দ্রুত তাকে অপসারণ না করলে মুসল্লীদের ক্ষোভ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং মসজিদের পরিবেশ নষ্ট হবে।
সবুজবাগ জামে মসজিদ কমপ্লেক্স কমিটির সভাপতি ও সোনাডাঙ্গা থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সুলতান আহমেদ খান জানান, এবিষয়ে কোন অভিযোগ তিনি পাননি। তবে এনিয়ে অভিযোগ এলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।
কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক জানান, অভিযোগের বিষয়ে জানার পর তারা কমিটির নেতৃবৃন্দ একে অন্যের সাথে আলোকপাত করেন। লকডাউন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর এনিয়ে সভা ডেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। তবে তিনি দাবি করেন, মসজিদের দায়িত্বরত ইমাম সোলাইমান প্রকাশ্যে বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়েছেন। কিছু ব্যক্তি বিষয়টিকে ভিন্নভাবে প্রবাহিত করতে চাইছেন।