খুলনা নগরীতে পৃথক ঘটনায় দু’যুবতীর আত্মহত্যা! ধ্রুমজাল হত্যা না-কি…

0
746

ফকির শহিদুল ইসলাম: খুলনা মহানগরীতে পৃথক দুটি আত্মহত্যার ঘটনায় দুই যুবতীর মৃর্ত্যু হয়েছে। তবে এই দুটি ঘটনা হত্যা, না-কি আত্মহত্যা, তা নিয়ে ধ্রুমজাল তৈরি হয়েছে। একটি প্রেমঘটিত ও অপরটি দাম্পত্য কলহের জের। এজন্য পুলিশ দুটি ঘটনাকেই অপমৃর্ত্যু বলছে।অবশ্য, ভিন্নমত পোষণ করছে নিহতের পরিবার। উভয় ঘটনায় খালিশপুর থানায় অপমৃর্ত্যু মামলা হয়েছে।

জানা গেছে, সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) আদ্-দ্বীন কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষানবিশ সেবিকা (নার্স) রুমানা আক্তার ঝুমুর (২৩) সকাল আনুমানিক ১০টায় নিজ কলেজ হোস্টেল কক্ষে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। সে ইস্টান জুট মিল কলোনীর বাসিন্দা আবুল হাসান শরিফের মেয়ে। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার রামচন্দ্রপুর তাদের গ্রামের বাড়ি।
খালিশপুর থানার এসআই কানাই লাল মজুমদার খুলনাটাইমসকে জানান, আত্মহত্যাকারী কিশোরীর লাশ উদ্ধারকালে একটি চিরকুট মেলে। সেখানে উল্লেখ রয়েছে তার এই মর্ত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। প্রেমঘটিত কারণে এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। এঘটনায় খালিশপুর থানায় অপমৃর্ত্যু মামলা হয়েছে।
তবে নিহতের পিতা আবুল হাসান খুলনা টাইমস’র এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করেন, তার কন্যার আত্মহত্যার পেছনে দায়ী আদ্বদ্বীন হাসপাতাল নার্সি ইউন্সটিটিউটের অধ্যক্ষ সাবিরা বেগম। তিনি বিভিন্ন সময়ে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো এবং কারণে-অকারণে অনৈতিক কাজ ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল।
আবুল হাসানের ভাষ্যমতে, হোস্টেলের তৃতীয় তলায় সাবিরা খাতুন পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। স্বামী একটি বেসরকারি কোম্পানীতে চাকুরী করার সুবাদে বেশিরভাগ সময় বাসার বাইরে থাকেন। আর এই সুযোগে অনৈতিক কর্মকান্ড করে থাকেন নানা পুরুষ মানুষ বাসায় এনে। এখানে সে নানা ফন্দি এটে হোস্টেলে থাকা মেয়েদেরকে ব্যবহার করে থাকে।
অবশ্য এমন অভিযোগ অস্বীকার করে সাবিরা খাতুন খুলনাটাইমসকে বলেন, শ্রেণীকক্ষে পাঠদান সংক্রান্ত বিষয়ে তাকে বকাবকি দেয়া হয়েছে, এখানে অন্যকিছু নয়।
এসআই রফিকুল ইসলাম খুলনাটাইমসকে বলেন, লাশের কাছ হতে প্রাপ্ত চিরকুটটি ঝুমুরের হাতের লেখা কি-না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আত্মহত্যার আগে তার সাথে রাজু নামের এক ছেলের সাথে মুঠোফোনে কথোপকথোন চলে। ময়না তদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয় খালিশপুর থানায় অপমর্ত্যু মামলা (নং ১৭) হয়েছে।

অপরদিকে খালিশপুর থানাধীন আফজাল মোড় সংলগ্ম এলাকায় এক গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে খালিশপুর থানার এসআই হাতেম আলী। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনের কলহের কারণে নিশি (১৮) নামের এই গহবধূ গলায় ওড়না পেচিয় আত্মহত্যা কর। গোপালগঞ্জ কাশিয়ানি উপজেলার বাসিন্দা কবির হোসেনের কন্যা সে। সম্প্রতি প্রেমের টানে ছুটে এসে বয়রা আফজাল মোড়ের বাসিন্দা সুজন শেখ (২১) এর সাথে ঘর বাধে। তবে স্বামীর পরকীয়ার ঘটনা জানতে পেরে চরম আঘাত পায় নিশি। এই ব্যথা সইতে না পেরে তার আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া।
স্থানীয়দের মাঝে এই ঘটনায় মিশ্রু প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তারা বলছে, এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যা, তানিয়ে সন্দেহ আছে। তাদের প্রত্যাশা, পুলিশ তদন্তপূর্বক সত্য ঘটনা উদঘাটন করুক।