খুলনা জেলা যুবলীগের নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা সরব

0
1020

এম জে ফরাজী : খুলনা জেলা যুবলীগের শীর্ষ দুই পদে (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক) আসতে ইতোমধ্যে জোরেসোরে মাঠে নেমেছেন সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা। জেলা যুবলীগের বর্তমান নেতাদের সাথে পদ প্রত্যাশীদের তালিকায় রয়েছেন বেশ কয়েকজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা। এদের মধ্যে অনেকে দলের দুর্দিনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। নিজেদের অবস্থান থেকে প্রত্যেকেই পদ পেতে যোগ্য দাবিদার বলছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৩ সালের ২৫ মে সর্বশেষ খুলনা জেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে কামরুজ্জামান জামাল সভাপতি ও মোঃ আকতারুজ্জামান বাবুকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। এই দুই নেতা ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর মূল দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ায় নেতৃত্ব শূন্যতায় পড়ে জেলা যুবলীগ। প্রায় ১৫ বছর পর আগামী ২৭ অক্টোবর আওয়ামী লীগের এ অঙ্গ সংগঠনটির সম্মেলনের ডাক দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। তবে সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার বিষয়ে দুটি পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন দাবি করছে। কেন্দ্রীয় কমিটির পক্ষ থেকে এখনো কোন তারিখ ঘোষণা করা হয়নি বলে দাবি অনেকের।
এবারের সম্মেলনে দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আলোচনায় রয়েছেন জেলা যুবলীগের বর্তমান যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক অজিত বিশ্বাস, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম কামরুজ্জামান, দপ্তর সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিয়াজ, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা চৌধুরী রায়হান ফরিদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ মো: আবু হানিফ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান সোহাগ, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এস এম ফরিদ রানা, বিধান চন্দ্র রায় ও আশরাফুল আলম কচি।
এবিএম কামরুজ্জামান : জেলা যুবলীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক তিনি। এর আগে রূপসা থানা ছাত্রলীগ ও বঙ্গবন্ধু কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্মেলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এবারের সম্মেলনে আমি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। বর্তমান কমিটির অনেকেই নেতৃত্বে আসতে চান; তাদের মধ্যে আমিও রয়েছি’।
আসাদুজ্জামান রিয়াজ : জেলা যুবলীগের বর্তমান দপ্তর সম্পাদক তিনি। এর আগে তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)’র অনেক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি মনে করেন, ‘যারা দীর্ঘদিন যুবলীগের সাথে রয়েছেন তারাই শীর্ষ পদে আসবেন। ২৯৬ জন কাউন্সিলর ভোটের মাধ্যমে যোগ্যদের নেতা নির্বাচিত করবেন। এবারের নির্বাচনে তিনি নিজেকে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বলে দাবি করেন’।
চৌধুরী রায়হান ফরিদ : জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্য তিনি। এর আগে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক, সুন্দরবন কলেজ ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সম্মেলনের বিষয়ে এক প্রতিক্রিয়য় তিনি বলেন, ‘আমি অনেকদিন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয় ছিলাম। খুলনা দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে থেকে রাজনীতি করছি তবে কোন পদে আসিনি। প্রায় ১২ বছর কোন পদে না আসা সাবেক ছাত্রনেতা বলেন, দলের শীর্ষ স্থানীয় নেতারা ও নীতি-নির্ধারকরা আমাকে যে পদে দেখতে চান আমি সেই পদেই আগ্রহী’।
শেখ মোঃ আবু হানিফ : খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি তিনি। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক পদে ছিলেন। সম্মেলন হবে কিনা এ বিষয়ে সন্দিহান সাবেক এই ছাত্রনেতা বলেন, ‘সম্মেলনের বিষয়ে কেন্দ্র থেকে এখনো কোন চিঠি ইস্যু হয়েছে কিনা আমার জানা নেই। সম্মেলন যদি অনুষ্ঠিত হয় তবে আমি সভাপতি পদপ্রত্যাশী। আমি দলের দুর্দিনে জেলা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছি। তাই এবারের সম্মেলনে সভাপতি পদে লড়তেও আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি’।
এস এম ফরিদ রানা : বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)’র নির্বাহী সদস্য ও খুলনা জেলা বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সভাপতি তিনি। এর আগে সৈনিক লীগের সাধারণ সম্পাদক, বটিয়াঘাটা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা ছাত্রলীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। এবারের যুবলীগের সম্মেলনের তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী। এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘খুলনার আওয়ামী রাজনৈতিক অঙ্গনে আমি পরিচিত। অনেকদিন ছাত্ররাজনীতির নেতৃত্ব দিয়েছি। এখন আমাদের আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা চাইলে যুবলীগের নেতৃত্বে আসতে চাই’।
মাহফুজুর রহমান সোহাগ : খুলনা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তিনি। এর আগে খুলনা সদর থানা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। এবারের সম্মেলনে নতুনদের মধ্যে নেতৃত্বে আসতে আলোচনায় রয়েছেন তিনি। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন খুলনার রাজপথে থেকে ছাত্রলীগের সকল কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়েছে। বর্তমান পদ না থাকলে যুবলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। এবারের সম্মেলনে সাবেক ছাত্রনেতাদের মূল্যায়ন করলে তিনি পদ পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন’।
বিধান চন্দ্র রায় : খুলনার এম এম সিটি কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক, কর্মাস কলেজ ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য, খুলনা সদর থানা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এরপর ছাত্ররাজনীতির বয়স না থাকায় জেলা কমিটিতে আসতে পারেননি। অনেকদিন পদের বাইরে থাকা সাবেক এ ছাত্রনেতা বলেন, ‘যদি রাজপথের ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করা হয় তবে তিনি যুবলীগের নেতৃত্বে আসবেন। এবারের সম্মেলনে তিনি সাধারণ সম্পাদক পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন’।
আশরাফুল আলম কচি : ফুলতলা থেকে বেড়ে ওঠা সাবেক এই ছাত্রনেতা খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এরআগে তিনি তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিয়েছেন। হঠাৎ করে যুবলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় তিনি সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী। তিনি মনে করেন, ‘যদি কাউন্সিলরদের ভোটে নেতা নির্বাচিত হয়; তাহলে তিনি নেতৃত্বে আসবেন। প্রত্যেক উপজেলার যুবলীগ কাউন্সিলররা তাকে খুব ভালভাবেই চেনে এবং জানে বলে দাবি করেন তিনি’।