খুলনা জিলা স্কুলের নিয়ন্ত্রণে তিন প্রভাবশালী শিক্ষক!

0
522

নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাতির মেরুদন্ড শিক্ষা, শিক্ষার মেরুদন্ড শিক্ষক। এই শিক্ষাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে ঐতিহ্যবাহী খুলনা জিলা স্কুলের নিয়ন্ত্রণ করছেন তিনজন প্রভাবশালী শিক্ষক। এরা হলেন মোঃ মিজানুর রহমান, মোঃ সালেহ আহমেদ ও এম জেড ফেরদৌস। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদের সাথে খারাপ আচরণ, গালিগালাজ করা, শ্রেণিতে ভালোভাবে পাঠদান না করা, কোচিং নীতিমালা-২০১২ লঙ্ঘন করে নিজ বিদ্যালয়ের ছাত্রদের বাসায় পাঠদান, ছাত্রদের জোর করে তাদের কাছে প্রাইভেট পড়তে বাধ্য করা, শ্রেণিকক্ষে দেরিতে প্রবেশ করা, অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ, পরীক্ষার প্রশ্ন প্রাইভেট ছাত্রদের বলে দেওয়া, খাতা মূল্যায়ণ সঠিকভাবে না করাসহ নানা অভিযোগ রয়েছে।
সূত্র জানায়, অনিয়ম, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও স্বেচ্ছাচারিতার কারণে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা খুলনা অঞ্চলের উপ-পরিচালক টি এম জাকির হোসেনকে খুলনা থেকে নওগাঁ একটি কলেজে বদলি করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘ আট বছর খুলনায় দায়িত্ব পালন করেছেন। সেই সময় থেকেই প্রাক্তন উপ-পরিচালক টি.এম জাকির হোসেনের আশীর্বাদপুষ্ট ছিলেন এই তিনজন শিক্ষক। প্রায়ই ধরাকে সরা জ্ঞান না করে স্কুল কর্তৃপক্ষকে তোয়াক্কা না করে ডিডির নির্দেশ পালনে ব্যস্ত থাকতেন এই তিন শিক্ষক। খুলনা অঞ্চলের ১০টি জেলা ৫৯টি উপজেলা ও ৩৬টি স্কুলে বদলি বাণিজ্যের যে বিষয়টি তার ক্যাশিয়ার ছিলেন এই তিন শিক্ষক।
সূত্র আরও জানায়, টি.এম. জাকিরের খুটির জোর এত বেশী ছিল যে, তার অপকর্মের বিরুদ্ধে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক ডিও লেটার শিক্ষা মন্ত্রণালয় জমা দেওয়ার পরও দীর্ঘসূত্রিতার পর অবশেষে স¤প্রতি তিনি নওগাঁয় বদলি হন। খুলনা জিলা স্কুলের রয়েছে শত বছরের ঐতিহ্য। অথচ এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এই তিন শিক্ষকের স্বৈরাচারি আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে অভিভাবক ও ছাত্রদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকায় এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য অভিভাবক মহল তাদের বদলীর জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে খুলনা জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আরিফুল ইসলাম এর মোবাইল ফোনে ০১৭২১-৭৬০৫৫৭ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।