খুলনা-কলকাতা ট্রেনে কমছে যাত্রী, চলছে লোকসানে

0
386

টাইমস রিপোর্ট:

খুলনা-কলকাতা রুটে সরাসরি চলাচলকারী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেসে দিন দিন কমছে যাত্রী। ১০টি কোচের এই ট্রেনে ৪৫৬টি আসন থাকলেও যাতায়াত করছে ১০০ থেকে ১২০ যাত্রী। অথচ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার পাসপোর্ট যাত্রী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে।

কর্তৃপক্ষের ট্রেন পরিচালনার পদ্ধতিগত ভুলের কারণে যাত্রীস্বল্পতার অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন এই ট্রেনে যাতায়াত করা ব্যক্তিরা। তাদের ভাষ্যে, যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি না করা, ওই অঞ্চলের মানুষের জন্য স্টপেজ না দেয়া, সপ্তাহে এক দিন মাত্র এ রুটে ট্রেন চলাচল- এমন সব কারণ সামনে আসছে যাত্রী কম হওয়ার পেছনে।

ভাড়ার পরিমাণও যাত্রীস্বল্পতার আর একটি বড় কারণ। ১২০ কিলোমিটার সড়কে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। অথচ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একজন পাসপোর্ট যাত্রীর কলকাতা যেতে ট্রাভেল ট্যাক্সসহ খরচ হয় ৬০০ টাকা।

যশোর নাগরিক কমিটি যশোর রেলস্টেশনে টিকিট বিক্রি ও যাত্রী ওঠানো-নামানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাতেও তেমন একটা সাড়া মেলেনি রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

খুলনা-কলকাতা রুটে আন্তদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘বন্ধন’ এক্সপ্রেসের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর। গত ৭ মাসে ট্রেনের যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি না পেয়ে ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে। ফলে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষের।

ভারতীয় পাসপোর্ট যাত্রী মনতোষ বসু খুলনা-কলকাতা রুটে ট্রেন চলাচলের প্রচার না হওয়া, নির্দিষ্ট দুটি স্টেশনে টিকিট বিক্রি করায় যাত্রীরা ট্রেন যাতায়াতে আগ্রহ হারাচ্ছে বলে মনে করেন। অনলাইনের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি ও স্টপেজ বাড়ালে যাত্রী বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।

বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রী আসাদুল হক বলেন, ভারতীয় কাস্টমসে যাত্রী হয়রানি বন্ধসহ সম্প্রতি বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের ভারতে গিয়ে কমপক্ষে দুই রাত অবস্থান বাধ্যতামূলক করায় এবং সপ্তাহে এই রুটে এক দিন বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেন চালু থাকায় ট্রেনে করে কেউ আর যাতায়াত করতে চায় না। সপ্তাহে ২-৩ দিন ট্রেন চলাচল ও ভাড়ার পরিমাণ কমালে যাত্রীরসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৬ নভেম্বর খুলনা-কলকাতার মধ্যে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হয়। গত ৭ মাসে ৩ হাজার ৪৪৫ জন যাত্রী কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৫৭৯ জন যাত্রী কলকাতায় গেছে। নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে যাত্রী চলাচল করার পরও যাত্রীসংখ্যা দিন দিন কমছে। বন্ধন এক্সপ্রেসটি সপ্তাহে একাধিক দিন চলাচল করলে এবং যশোর ও বেনাপোলের মানুষের জন্য টিকিটি বিক্রি ও স্টপেজ দেয়া হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বন্ধন এক্সপ্রেসে যেসব যাত্রী সরাসরি যাতায়াত করেন, আমরা তাদের ভালো সার্ভিস দিচ্ছি। আপাতত যাত্রীসংখ্যা একটু কম। আমরা যত দ্রুত সম্ভব ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করি।’

বেনাপোল কাস্টম হাউস সহকারী কমিশনার নু চ প্রু বলেন, বন্ধন ট্রেনের বেশির ভাগ যাত্রী হয় রুগী, না হয় আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। তাই কাস্টমসের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সেবা দেওয়া হয়। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে হল রুমে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে থাকি আমরা।’