খুলনায় ৬ মাসে শিশুসহ ১৪ ব্যক্তি এইচআইভি পজেটিভ শনাক্ত

0
416

কামরুল হোসেন মনি:
খুলনা বিভাগে বিগত বছরের তুলনায় এইচআইভি/এইডসের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতাল দ্বারা পরিচালিত এআরটি কর্নার বিভাগ থেকে গত ৬ মাসে শিশুসহ ১৪ ব্যক্তির শরীরে ওই পজেটিভ শনাক্ত করা হয়েছে। যাদের মধ্যে একই পরিবারের শিশুসহ তিনজন রয়েছেন। আক্রান্ত ব্যক্তিরা সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, খুলনা ও বাগেরহাট এলাকার বাসিন্দা। সীমান্তবর্তী হওয়ার কারণে খুলনা বিভাগের খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, নড়াইল, যশোর, ঝিনাইদহ ও মাগুরা এলাকা অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে।
খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৪ নভেম্বর সরাসরি সরকারিভাবে খুমেক হাসপাতালে রুম নং-২২১ এআরটি কর্নার থেকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে সাধারণ মানুষের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এইচআইভি এইডস পজেটিভ শনাক্তকরণ করা হচ্ছে।
খুমেক হাসপাতালের এআরটি কর্ণারের পিআর কাউন্সিলর কাজী আব্দুর রহমান বলেন, ‘মা থেকে শিশুকে এইচআইভি সংক্রামক প্রকল্প’ সংক্ষেপে এসএইচএস প্রকল্প আওতাধীন খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের অধীনে এ সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
খুমেক হাসপাতালের এআরটি কর্নার সূত্র জানা যায়, গত বছর ১৪ নভেম্বর থেকে চলতি বছর এপ্রিল পর্যন্ত ৫৪৫ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ১৪ জনের শরীরে এইচআইভি এইডস পজেটিভ পাওয়া গেছে। সেই হিসেবে প্রতি মাসে গড়ে ২ জনের বেশি এইডসের পজেটিভ পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র মতে, নভেম্বর মাসে ৪২ জনের রক্ত পরীক্ষার পর দুইজন পুরুষের শরীরের এইডস পজেটিভ শনাক্ত করা হয়। এরা খুলনা ও বাগেরহাট এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া ডিসেম্বরে ৮৮ জনের মধ্যে ১ জন (মহিলা), জানুয়ারি মাসে ৯৩ জনের মধ্যে ৪ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী-সন্তান রয়েছেন। এরা সাতক্ষীরা এলাকার বাসিন্দা। ফেব্রুয়ারি মাসে ৮৮ জনের মধ্যে একজন শনাক্ত (মহিলা), মার্চ মাসে ১০৭ জনের মধ্যে ৪ জনকে এইচআইভি এইড পজেটিভ শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে মা ও শিশু রয়েছেন এবং এপ্রিল মাসে ১২৭ জনের মধ্যে ৩ জনের শরীরের মধ্যে ওই পজেটিভ শনাক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে বাবা ও মেয়েও রয়েছেন পজেটিভ।
এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, এইচআইভি এইডস পজেটিভ শনাক্তকারীদের হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। ওষুধের কোন ঘাটতি নেই।
জানা গেছে, খুলনায় ২০১৬ সালের ২২ মে পর্যন্ত এইচআইভি/এইডস পজেটিভ সংখ্যা ১৯৩ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬ বছর থেকে ১৪ বছরের শিশু রয়েছে ১৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৮৪ জনই মহানগরীসহ খুলনা জেলার। এছাড়া যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, মাগুরা, পাবনা ও গোপালগঞ্জের লোকও রয়েছে। পজেটিভদের মধ্যে ওই সময় পর্যন্ত ৪৩ জন মারা গেছেন। ২০১৭ সালে খুলনায় আক্রান্ত সংখ্যা ৩৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২১ জন, মহিলা ১৫ জন, হিজড়া একজন ও শিশু ছেলে দুইজন। ওই সালে খুলনাঞ্চলে আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে পুরুষ ৫৩ ও মহিলা ৩১ জন ছিল। যার মধ্যে শিশু ছিল ১০ জন।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের একটি সূত্র জানান, ভারত থেকে প্রতিদিন ১ হাজার ট্রাক বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করছে। এই ট্রাক ড্রাইভারদের একটা অংশ এইচআইভি/এইডস পজেটিভ আক্রান্ত। ওয়ার্ল্ড ভিশনের এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অঞ্চলের নিষিদ্ধ পল্লীতে যৌনকর্মীদের নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা করা হয় না। অবৈধ যৌনাচারে লিপ্তদের মধ্যে ২৫ শতাংশের বেশি কনডম ব্যবহার করতে আগ্রহ দেখায় না। তাছাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে আসা ট্রাক চালকদের রক্ত পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা নেই। ট্রাক চালকরা অবসর মুহূর্তে পতিতা পল্লীতে যান।