খুলনায় সড়ক-মহাসড়ক উন্নয়নের রেখাচিত্র নাকি লুটেরাতন্ত্রের শ্বেতপত্র : জিজ্ঞাসা খুলনা বিএনপির

0
427

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:
জায়গায় জায়গায় গভীর খানাখন্দ। পিচের আস্তর উঠে দাঁত বের হয়ে যাওয়া লাল ইট সোলিং। এবরো থেবরো হয়ে যাওয়া মাইলের পর মাইল রাস্তা। ধুলায় ধুসর যাত্রী এবং সড়কের পাশের সবুজ গাছের পাতা। আশপাশের বসতভিটা পর্যন্ত। শ্বাসকষ্ট আর কাশিতে আক্রান্ত হাজার হাজার মানুষ। বিভাগীয় সদর খুলনা থেকে বের হয়ে যশোর, সাতক্ষীরা, নড়াইল, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, বাগেরহাট- যেখানেই যাওয়া হোক একই চিত্র, একই দৃশ্যপট।
বাড়ছে দূর্ঘটনার হার। অসুস্থ ও নানা ভয়াবহ রোগে হচ্ছে মানুষ। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে কোটি টাকা মূল্যের যানবাহন। মাঝ রাস্তার অচল হয়ে পড়া বাহনে সৃষ্টি হচ্ছে সুদীর্ঘ যানজট। বাড়ছে পণ্য পরিবহনের সময়। যে কারণে বাড়ছে পণ্য মূল্যও। মহাসড়কের অসহনীয় ধুলায় দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হচ্ছে জনগনের। যে কারণে অবৈধ ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখলকারী সরকার যতই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রার কথা বলুন, দেশের মানুষ প্রকৃত অর্থে কোন উন্নয়ন চোখে দেখতে পাচ্ছেনা বলে মন্তব্য করেছেন খুলনা মহানগর বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
আজ এক বিবৃতিতে খুলনা মহানগর বিএনপি নেতারা খুলনা বিভাগের বিভিন্ন সড়ক মহাসড়কের বেহাল দশার কথা বলতে গিয়ে দূর্দশার এসব চিত্র তুলে ধরেন। বিএনপি নেতারা বলেন, এক জেলার সাথে অন্য জেলার সংযোগ স্থাপনকারী সড়ক গুলো এক প্রকার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বছরের পর বছর এসব সড়ক মহাসড়ক সংস্কারে কার্যকর কোন উদ্যোগ নেই।
মাঝে সাঝে কিছু অর্থ বরাদ্দ হলেও কাজের চেয়ে আওয়ামী লুটেরা লীগের সদস্যরা লুটপাট করে নিজেদের ব্যাংক ব্যালান্স বৃদ্ধি করছে ও বিদেশে অর্থ পাচার করছে। জনগনের দূর্ভোগ দূর্দশা লাঘবে তাদের কোন তৎপরতা নেই। জনগনের নিত্য দিনের ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ কিংবা প্রকল্প গ্রহণ না করে সরকারের সম্পূর্ণ মনোযোগ এখন মেগা প্রকল্প গ্রহণের দিকে। কারণ একটি মেগা প্রকল্প মানেই একটি মেগা লুটপাট। সরকার কথায় কথায় পদ্মা সেতু-উড়াল সেতুর গালগল্প শোনালেও ওসব সেতু অবধি পৌছাতে আম জনতাকে নরকের রাস্তা পাড়ি দিতে হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এ অঞ্চলের সড়ক মহাসড়কের এতোই বেহাল দশা যে তা মেরামত করতে, সংস্কার করতে কিংবা পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে নিতে প্রকৃত অর্থে কতো বছর অপেক্ষা করতে হবে, তা কারোরই জানা নেই। তারা বলেন, আওয়ামী নিযুক্ত ঠিকাদার দ্বারা এ কাজ আর সম্ভব নয়। কারণ তাদের অস্থি-মজ্জায়, মননে-মেধায়, চিন্তায়-চেতনায় ‘শুধুই লুটপাট, এবং লুটপাট, অতঃপর লুটপাট’ স্থায়ীভাবে ইন্সটল হয়ে গেছে।
প্রকৃত উন্নয়ন চিন্তাকে ক্রাশ করেছে শতাব্দীর ভয়াবহতম ‘লুটেরা ভাইরাস’। যে কারণে এই দলটি রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে থাকা অবস্থায় প্রকৃত পক্ষে দেশের এবং সড়ক-মহাড়কের কোন উন্নয়ন কাজ সম্ভবপর নয়। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা ছাড়া সড়ক-মহাসড়কে দুঃসহ দূর্ভোগের অবসান ঘটবে না বলে মন্তব্য করেন বিএনপি নেতারা।
বিবৃতিদাতারা হলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য ও সাবেক এমপি এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতি সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সাধারণ সম্পাদক ও কেসিসির মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, মীর কায়সেদ আলী, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, শেখ মোশারফ হোসেন, জলিল খান কালাম, সিরাজুল ইসলাম, খায়রুজ্জামান খোকা, স ম আব্দুর রহমান, জাহিদুল ইসলাম, ইকবাল হোসেন, ফখরুল আলম, এ্যাড. ফজলে হালিম লিটন, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আমজাদ হোসেন, অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপু, সিরাজুল হক নান্নু, মাহবুব কায়সার, ইকবাল হোসেন খোকন, আসাদুজ্জামান মুরাদ প্রমুখ। #