খুলনায় সুকুমার হত্যায় সাতজনের যাবজ্জীবন

0
393

খুলনা টাইমস প্রতিবেদক : খুলনায় ডুমুরিয়া উপজেলার সুকুমার বিশ্বাস হত্যা মামলায় সাতজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদন্ড এবং প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ২ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক এস এম আব্দুস ছালাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- ডুমুরিয়া উপজেলার আন্দুলিয়া গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র সাহার ছেলে প্রদীপ সাহা (৫২), উত্তর বিলপাবলা এলাকার শচীন বিশ্বাসের ছেলে বিকাশ বিশ্বাস (২৬), সুরেশ বিশ্বাসের ছেলে কার্তিক বিশ্বাস (২৫), হরিদাস শিকদারের ছেলে তপন শিকদার (৩০), কালীদাস শিকদারের ছেলে মতিলাল শিকদার (৪০), মৃত অমূল্য বিশ্বাসের দুই ছেলে সুভাষ বিশ্বাস (৩৯) ও রমেশ বিশ্বাস (৩৬)। দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রদীপ সাহা ও সুভাষ বিশ্বাস রায় ঘোষণাকালে আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত অন্য ৫জন পলাতক রয়েছেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১৩ জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করে আদালত।
ডুমুরিয়া উপজেলার উত্তর বিল পাবলা গ্রামের সুকুমার বিশ্বাসকে গুলি করে হত্যা মামলার ১২ বছর পর দন্ডবিধির ৩০২ ধারায় এ রায় ঘোষণা করা হলো। এছাড়াও ১৪৩ ও ৪৪৭ ধারায় দন্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেককে ৩মাস করে সশ্রম কারাদন্ড ৫০০ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের সশ্রম কারাদন্ড এবং ৩২৬ ও ৩০৭ ধারায় প্রত্যেককে ৩ বছর সশ্রম কারাদন্ড ১ হাজার টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ মাসের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করে আদালত। সকল দন্ডই একসাথে চলবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদ আহমেদ বলেন, উত্তর বিল পাবলা গ্রামে ১৬১ একর জলমহল ইজারা নিয়ে একটি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাথে মৎস্য চাষ শুরু করেন একই এলাকার অভিমুন্য সরদারের ছেলে ভরত সরদার। এ জলমহল নিয়ে প্রতিপক্ষ একটি গ্র“পের সাথে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। এ জলমহলটি পুনরায় ইজারা নেয়ার জন্য ২০০৬ সালের ১৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে মুকুন্দ নাথ বিশ্বাসের বাড়িতে বসে এ বিষয়ে আলোচনা চলছিলো। রাত ১১টার দিকে বেশ কিছু ব্যক্তি পিস্তল, রামদা, লাঠিসোটা নিয়ে আলোচনাস্থলে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে তারা ভরত সরদারের মামাতো ভাই সুকুমার বিশ্বাসের গলায় গুলি করে এবং অন্যান্যদের কুপিয়ে পালিয়ে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় সুকুমারকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পরের দিন ভরত সরদার ১২ জনের নাম উল্লেখ করে ডুমুরিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডুমুরিয়া থানার উপ-পরিদর্শক স্বপন কুমার মজুমদার ২০০৭ সালের ২১ জানুয়ারী ২০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।