খুলনায় সিপিবির জনসমর্থন দিন দিন কমছে

0
706

কাজী মোতাহার রহমান:
প্রতি মাসে সিপিবির দু’একটা মানববন্ধন থাকে স্থানীয় পিকচার প্যালেস মোড়ে, সাথে লিফলেট। লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ, পানির সংকট নিরসন, সুন্দরবন বাঁচাতে রামপালের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, মাদকমুক্ত নগরীসহ বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের এ কর্মসূচীর আয়োজন। গণদাবী আদায়ের লক্ষে আন্দোলন সংগ্রাম নিয়মিত করলেও তাদের সপক্ষে জনমত গড়ে উঠছে না। জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারে শেষ ধাপ পর্যন্ত তাদের প্রতিনিধিত্ব নেই বললেই চলে। পঞ্চম কেসিসি নির্বাচনে দলের প্রার্থী গো হারা হেরেছে।
সমাজ পরিবর্তনে অঙ্গিকারবদ্ধ মার্কসবাদ-লেনিনবাদে বিশ্বাসী বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির খুলনা অঞ্চলে স্বাধীনতার পর পর ইমেজ, সূণাম, সুখ্যাতি ছিল। চিংড়ি ঘের বিরোধী আন্দোলনে এবং ¤্রমিক আন্দোলনে সিপিবি এখানে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এসব আন্দোলনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ ভূমিকা ছিল রতন সেন, মনিরুজ্জামান মনি, অচিন্ত্য বিশ্বাস, কেএস জামান, এম ফিরোজ আহমেদ, লিয়াকত হোসেন, নুরুজ্জামান বাচ্চু প্রমুখের। তাদের কেউ বেঁচে নেই।
বিশেষ করে এরশাদের সামরিক শাসন বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সিপিবি সাহসী ভূমিকা নেয়। দলের জনসমর্থনের কারনে সিপিবি মনোনীত খুলনা-২ আসনে ১৯৯১ সালে এড. এম ফিরোজ আহমেদ প্রার্থী হন। তার ভোটের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৭২। তিনি ছাত্র ইউনিয়নের জেলা শাখার সভাপতি, বি,এল কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও জেলা আইনজীবি সমিতির চার বার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। শেষাবধি দর্শন পরিবর্তন এবং মার্কসবাদী চিন্তা চেতনায় বিশ্বাসী ছিলেন না। ২০০৮ সালে কেসিসির তৃতীয় দফা নির্বাচনে মেয়র পদে সিপিবি মনোনীত এম ফিরোজ আহমেদের প্রাপ্ত ভোট ১৪ হাজার ২২৩। জেলা সাধারণ সম্পাদকের গেল সম্মেলনের রিপোর্ট অনুযায়ি ২০১৩ সালের কেসিসি নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ মনোনীত তালুকদার আঃ খালেককে সমর্থন জানায়। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে খুলনা-১ আসনের সিপিবির মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অচিন্ত্য বিশ্বাস যথাক্রমে ৪০ হাজার ও ২৫ হাজার ভোট পান। অচিন্ত্য বিশ্বাস ও ফিরোজ আহমেদের মৃত্যুর পর কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনে সিপিবির শ্রমিক সংগঠন টিইউসি, কৃষক সমিতি ও ক্ষেত মজুর সমিতি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারছে না। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গেল ফেব্রæয়ারি মাসে খুলনায় কৃষক সমিতির জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলন সফল ভাবে শেষ হয়। সেখানে হাজার হাজার নেতা কর্মীর উপস্থিতি ছিল। ইদানিংকালে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সংগঠনের নির্বাচনে সিপিবির প্রতিনিধিত্ব থাকছে না। নগর শাখার সভাপতি এড. বাবুল হাওলাদার আওয়ামী আইনজীবি সমিতির সাথে জোট বেঁধে ২০১৭ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিভাগীয় সম্পাদক পদে পরাজিত হন। এ অঞ্চলে সিপিবির প্রতিনিধিত্ব বলতে বটিয়াঘাটা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই গাইন, বটিয়াঘাটা উপজেলার গঙ্গারামপুর ইউপি সদস্য দীপ্তি মল্লিক ও ডুমুরিয়া উপজেলার সরাফপুর ইউপি সদস্য শ্যামল দাস উদাহারন হয়ে আছে। কেসিসির পঞ্চম দফা নির্বাচনে ৩১টি ওয়ার্ডে উল্লেখযোগ্য স্থান গুলোতে দলের মনোনীত প্রার্থীর পোস্টার দেখা যায়নি। ২৮৯টি কেন্দ্রের কোথাও এজেন্ট ছিলনা। দলের মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবুর প্রাপ্ত ভোট ৫৩৪। নির্বাচন শেষে সিপিবি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু সংবাদপত্রে প্রদত্ত এক বিবৃতিতে বলেন, এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে ক্ষমতাসীন দল নৌকা প্রতীকে সিল মেরেছে। নিরপেক্ষ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি কেসিসি নির্বাচনকে প্রহসন বলে উল্লেখ করেন। বাগমারা, রূপসা, বানিয়াখামার, খালিশপুর ও বয়রা এলাকায় সিপিবির এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়ে এ আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। এবারের নির্বাচন দিয়ে জনসমর্থন যাচাই করা যাবে না।
কেসিসি নির্বাচনের চিত্র বর্ণনা করে দলের জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক এড. রুহুল আমীন এ প্রতিবেদককে বলেন, গেল মঙ্গলবারে খুলনায় প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলে এ দিয়ে কমিউনিস্ট পার্টির জনসমর্থন বৃদ্ধি বা কম তুলনা করা যাবেনা। মানুষ তার সুচিন্তিত রায়ের প্রতিফলন ঘটাতে পারেনি। আওয়ামীলগই ঠিক করে দেয় কোন মেয়র প্রার্থী কত ভোট পাবে। খুলনায় বিশেষ করে শ্রমিক অঞ্চলে সিপিবির সমর্থ রয়েছে বলে তিনি দাবী করেন।