খুলনায় সরকারি সহায়তাপুষ্ট একমাত্র বিদ্যাপীঠ খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়

0
1902

ইয়াছিন আরাফাত :

গোটা বিশ্ব এখন প্রযুক্তি নির্ভর। বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো এগিয়ে থাকার নেপথ্যে এই প্রযুক্তি। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় উন্নত দেশ ও জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার পথেই আছে বাংলাদেশ। তাইতো দিন দিন কারিগরি শিক্ষায় ঝুঁকছে শিক্ষার্থীরা। তবে বিপত্তি আছে সুষ্ঠ ও সঠিক পন্থায় হাতে-কলমে শিক্ষাদান করা কারিগরি প্রতিষ্ঠান বেছে নেয়ার ক্ষেত্রে।
অবশ্য, সরকারি সহায়তা পুষ্ট বেসরকারি পলিটেকনিকে অধ্যয়ন করলে এই বিপত্তি আর থাকবে না। কেননা গোটা দেশের বেসরকারি ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই-বাছাই করেই সরকার গ্রান্ড প্রদানপূর্বক তদারকি করে।

জানা গেছে, সরকারি সহায়তা পুষ্ট খুলনায় একমাত্র বেসরকারি ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়। যেখানে শতভাগ শিক্ষার্থী কর্মমূখী করার লক্ষ্যে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাসে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি সরেজমিন শিল্প-কলকারখানা পরিদর্শন, অভিজ্ঞ প্রকৌশলী দ্বারা বাস্তবমুখী শিক্ষাদান, সৃজনশীল মেধার বহি:প্রকাশ ঘটাতে স্কিলস্ কম্পিটিশন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের জব ফেয়ার ও জব প্লেসমেন্ট সেলের মাধ্যমে চাকুরী প্রদান করা হয়। আর স্টেপ প্রজেক্টের মাসিক ৮শ’ টাকা হারে বৃত্তির সুযোগতো আছেই। ২০১১ সাল হতে শুরু হওয়া এই বৃত্তি সুবিধা ২০১৮-১৯ সেশনে ভর্তিকৃতরাও পাবে। এখানে বর্তমানে পনেরটি চার বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স্ চালু রয়েছে। এগুলো হচ্ছে ইলেকট্রো মেডিকেল, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ার কন্ডিশনিং, অটোমোবাইল, আর্কিটেকচার, ইলেকট্রনিক্স, শিপ বিল্ডিং, ফুড, ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, গার্মেন্টস্ ডিজাইন এন্ড প্যাটার্ণ মেকিং , কম্পিউটার, মেকানিক্যাল, ইলেকট্রিক্যাল, টেক্সটাইল, সিভিল ও মেরিন।

অত্র প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ইঞ্জিঃ আবুল কালাম আজাদ জানান, সাধারণ শিক্ষার ন্যায় কারিগরি শিক্ষায় যেন কোন ক্রমেই বেকারত্ব সৃষ্টি না হয়, সেলক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংক ও কানাডা সরকারের অর্থায়নে সহায়তায় কার্য্ক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় বেসরকারি পলিটেকনিক। উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে গ্রান্ডের অর্থ প্রদান করা হয়। খুলনায় একমাত্র আমরাই গ্রান্ড প্রাপ্ত। এর আওতায় ২০১৭ সাল হতে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা অত্যাধুনিক প্রযুক্তির জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে দেশে-বিদেশের নানা প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। সেখান থেকে লব্ধ জ্ঞানে পাঠদানের গুণগতমান উন্নয়ন হয়। ইতোপূর্বে কলেজটির পাঁচজন শিক্ষক সিঙ্গাপুর থেকে ইনোভেশন ইন টিচিং এন্ড লার্নিং এবং ঢাকার টিটিটিসি, বিটাক ও আইইউটি হতে সতেরো জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ইন-হাউস ট্রেনিং এর মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের কাজের গুণগত মান উন্নয়ন করানো হয়।

অধ্যক্ষ আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার মান উন্নয়নে প্রতি বছর অভিভাবক-শিক্ষক মতবিনিময় করা হয়। তাছাড়া শিক্ষার্থী অনিয়মিত হলেই তাৎক্ষণিক তার অভিভাবককে অবহিত করা হয়। স্বল্প খরচে ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ খানজাহান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ে আছে। আর মেধাবীদের জন্য রয়েছে নানান সুযোগ। শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন শেষ হওয়ার সাথে সাথে চাকুরীর নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়। এর আগে বিভিন্ন কলকারাখানায় ইন্টার্নি করার সুযোগ আছে। তাই অভিভাবকদের নিজ সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষতের কথা ভেবে ধূমপান ও রাজনীতি মুক্ত এই মহাবিদ্যালয়ে ভর্তির আহ্বান জানান, পাশাপাশি দালালের খপ্পড়ে পড়ে নামসর্বস্ব কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি না করানোর পরামর্শ দেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরীর মুজগুন্নীতে খানহাজান আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মহাবিদ্যালয়ের সাততলা বিশিষ্ট নিজস্ব ভবন রয়েছে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় চার হাজার। আছে অত্যাধুনিক ল্যাব, ওয়ার্কশপ ও অডিটোরিয়াম ভবন ও বিশাল খেলার মাঠ। সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও আছে ওয়াই-ফাই, ডিজিটাল ল্যাব, পৃথক আবাসন এবং ভাল ফলাফলের জন্য রয়েছে স্পেশাল কেয়ার সুবিধা। এটিই খুলনার সর্বপ্রথম ও সর্ববৃহৎ কারিগরি শিক্ষা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মহাবিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা কোর্সের (কম্পিউটার) ইন্সট্রাক্টর ফারহানা খানম, চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মৌমিতা দেবনাথ ও ষষ্ঠ বর্ষের ফয়সাল আহমেদ খুলনা টাইমসকে বলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরের অংশ হিসেবে গত ২৬ এপ্রিল যশোরের শেখ হাসিনা সফটওয়্যার ও টেকনোলজী পার্ক পরিদর্শনে গিয়ে অনেক ব্যবহারিক তথ্য জানতে পেরেছি। আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এসময় অনএয়ার (ইন্টাঃ) কোম্পানীর বিভিন্ন কার্যক্রম (মোবাইল এ্যাপস, ওয়েব এন্ড সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, ওয়েব ডিজাইন) ঘুরে দেখেন তারা।

ডিপ্লোমা ইন মেকানিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ইন্সট্রাক্টর মোঃ ইব্রাহিম আলম রুবেল ও মৌসুমী খাতুন এবং শিক্ষার্থী আরমান ও নাছিবুল ইসলাম খুলনা টাইমসকে বলেন, বিভিন্ন শিল্প কারখানায় বার বার পরিদর্শনের দ্বারা স্ব স্ব বিষয়ের অভিজ্ঞ প্রকৌশলী কর্তৃক বাস্তব সম্মত জ্ঞান লাভ করা যায়। তাছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার ও কাজের পরিবেশ সম্পর্কে বাস্তব ধারণা মেলে। যা কিনা ভবিষ্যতে দক্ষ প্রকৌশলী হতে সহায়ক হিসাবে কাজ করে।

এছাড়া ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টর ইন্সট্রাক্টর মোঃ তুহিনুর রহমান, শিক্ষার্থী সজিব আহমেদ ও তৌহিদুল ইসলাম জানায়, গত ২৩ এপ্রিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরের অংশ হিসেবে তারা বাংলাদেশ কেবল শিল্প লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন। সেখানে অপটিক্যাল ফাইবার গঠন ও পরিবহন পদ্ধতি সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। অবগত হন আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখার ক্যাবল শিল্প’র অজানা তথ্য সম্বন্ধে।