খুলনায় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত যুবক ওবায়দুলের পরিবারকে হত্যার হুমকি

0
490

ধরা ছোঁয়ার বাইরে চিহ্নিত খুনিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনায় মাদক ব্যবসায়ীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হাফেজ ওবায়দুল প্রায় ৫ দিন পর শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকায় মারা গেছেন। নিহত যুবক বাগমারা মেইন রোডের চা বিক্রেতা আব্দুল মান্নান এর বড় ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত দুইজনকে আটক করলেও মূল হত্যাকারীরা রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আর মামলা তুলে নিতে নিহত যুবকের পরিবারকে মোবাইলে হত্যার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন বিকালে কে বা কারা ওবায়দুলকে মোবাইলে ডেকে নিয়ে যায়। ঘর থেকে বেরিয়ে বাগমারা প্রাইমারী স্কুলের সামনে গেলে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাজু ওরফে ভাগ্নে রাজু, দাউদ, হাবিব, রাসেল, জিন্নাত, টনিসহ আরো কয়েকজন মিলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে ধাওয়া করে। স্কুলের পাশের গলিতে নিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত ভেবে ফেলে রেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এসময় ওবায়দুলের কাছে থাকা মোবাইল ফোনটি নিয়ে যায়।
পরে এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাকে খুলনা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় তার অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পাঁচদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে শুক্রবার সকালে সে মারা যায়।
নিহত ওবায়দুলের ছোট ভাই আব্দুল্লাহ জানান, আমার মা ও ভাবিকে ফোন করে খুনিরা হত্যার হুমকি দিয়েছে। আমাকে এবং ছোট ভাইয়ের ছেলে মেরে ফেলবে বলে বারবার ফোন করে মাকে বলছে। আমাদের পরিবার এখন নিরাপত্তাহীনতায় দিন অতিবাহিত করছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বেঁচে থাকার নিরাপত্তা চাই।
এদিকে গত ১৮ জুন রাতে নিহতের বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন বলে জানিয়েছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: হুমায়ুন কবির। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দাউদ নামে এক যুবককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অপর আরেকজনকে ইতোমধ্যে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
শনিবার সকালে বাগমারা নিহতের বাসায় মরদেহ পৌছালে স্বজনদের কান্নায় এলাকা ভারী হয়ে ওঠে। মরদেহ দেখতে আসেন ২৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো: শমসের আলী মিন্টু, ২৭ নং ওয়ার্ড বর্তমান কাউন্সিলর কে এম হুমায়ুন কবীর, নবনির্বাচিত কাউন্সিলর জেড.এ. মাহামুদ ডন, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো: সিদ্দিকুর রহমান, ২৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শিকদার আতাউর রহমান রাজুসহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় সকলে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেন। বাদ জোহর নামাজে জানাজা শেষে নিরালা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।