খুলনায় মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি : কমছে না গরম, বাড়ছে রোগ

0
1490

এম জে ফরাজী : বেশ কয়েক দিন ধরে খুলনাসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তীব্র তাপমাত্রার কারণে বেড়েই চলেছে গরম। দিনে যেমন রোদের খরতাপ তেমনি রাতে বইছে গরম হাওয়া। আষাঢ়ের বর্ষার পরিবর্তে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি খেলার কারণে প্রখর তাপদাহে অস্বস্তিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছে জনজীবন। হঠাৎ ঘণ্টা খানেকের বৃষ্টিতে তাপমাত্রা খানিকটা কমছে। কিন্তু বৃষ্টি বন্ধ হওয়ার পর আবার গরম পড়ছে।
খুলনা অঞ্চলজুড়ে প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে বইছে মৃদু তাপপ্রবাহ। মাঝে মধ্যে হঠাৎ করে ক্ষণিকের জন্য বৃষ্টির দেখা মিললেও তা জনজীবনে স্বস্তি এনে দিতে পারছে না। বরং বৃষ্টি কমার পর আবারও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে গরম বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে তাপমাত্রা বাড়লেও দুপুরে হঠাৎ মেঘ ঘনিয়ে এসে ঘন্টাখানেক এর মতো বৃষ্টিপাত হয়। এতে তাৎক্ষণিকভাবে মানুষজন স্বস্তি পেলেও আবারও গরম বাড়তে থাকে। যদিও দিনের চেয়ে রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কম ছিল। কিন্তু লোডশেডিং এর কারণে গরম কমার কোন লক্ষণই দেখা যায় না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েব সাইট থেকে জানা যায়, গতকাল বুধবার দিনের বেলায় খুলনার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর রাতে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে বৃহস্পতিবার খুলনায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হতে পারে ৩৭ ডিগ্রি ও সবনিম্ন ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এদিকে সূর্যোদয় থেকেই সেই থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত তাপদহে নাভিশ্বাস প্রাণীকূলে। হাঁপিয়ে উঠছে খুলনার মানুষ। দিনের বেলা রোদের কারণে বাসা থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। তাপমাত্রা অব্যাহত রয়েছে গত কয়েকদিনই। দুর্বিষহ গরমে মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে নানা ধরণের রোগে। মাঝে মধ্যে মেঘ-বৃষ্টির লুকোচুরি মানুষকে কিছুটা প্রশান্তি দিলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।
এরকম অবস্থার মধ্যেই গত সোমবার খুলনা বিভাগে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। খুলনা জেলায় ওইদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস আর চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা ২০১৮ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড।
খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আমিরুল আজাদ জানান, খুলনা অঞ্চলে বর্তমানে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আর এক-দু’দিন গরমের তীব্রতা থাকবে। এরপর বৃষ্টি হতে পারে।