খুলনায় মাদকের সাথে জড়িত ৫ পুলিশকে বদলি; বাকিদের তদন্ত চলছে

0
342

টাইমস্ ডেস্ক:

খুলনায় মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান এখনও চলমান আছে। অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। তবে তালিকায় নাম থাকা বেশ কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে নগরীতে মাদকের বিকিনিকি কমেছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)’র ডেপুটি কমিশনার (সাউথ) মোঃ এহসান শাহ জানান, তালিকায় নাম থাকা ৪-৫ জনকে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত এখন চলমান রয়েছে। বাকী সদস্যদের বিষয়ে আরও বেশি করে খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ প্রধানের নির্দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা মাদকের বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছি। কোনো পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি মাদকের প্রমাণ পেলে শুধু বদলি নয় ফৌজদারী মামলাও করা হবে।

কেএমপি’র ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোল্লা জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, তালিকায় যাদের নাম ছিল তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে কমিশনার স্যার কয়েকজনকে বদলি করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই সারা দেশের ন্যায় খুলনাতে অভিযান শুরু হয়। মাদক বিক্রেতা ও মাদকের সঙ্গে জড়িত পুলিশ ও রাজনৈতিক নেতাদের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। এরপর থেকেই মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হয়। তালিকায় নাম থাকা পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। যা এখনও চলমান রয়েছে। তবে এই তালিকায় থাকা ৫-৬ জন পুলিশ সদস্যকে বদলি করা হয়েছে। মাদকের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে তালিকায় নাম থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযুক্ত নয় এমন অনেকের নাম থাকায় তালিকার সঠিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গোয়েন্দা সংস্থার কয়েকজন সদস্য প্রভাবিত হয়ে অসৎ উদ্দেশে কয়েকজন পুলিশ ও দলীয় নেতাদের নাম দিয়েছেন এমন গুঞ্জন চলছে।

খালিশপুর থানার ওসি সরদার মোশাররফ হোসেন বলেন, এসআই কানাই লাল মজুমদার অভিযুক্ত নন। কিন্তু তালিকায় তারও নাম রয়েছে। সম্প্রতি তাকে বদলি করা হয়েছে।

দৌলতপুর থানার ওসি কাজী মোস্তাক আহমেদ জানান, তালিকায় এএসআই মেহেদী হাসানের নাম রয়েছে। তাকে অনেক আগেই বদিল করা হয়েছে।

সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমতাজুল হক বলেন, এএসআই এমদাদুল হক ও এএসআই নূরুজ্জামানকে বদলি করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ জানান, জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে। ঈদের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি মাদক বিক্রেতা ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের নামের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পেশাজীবী সংগঠনের অনেকের নাম প্রকাশ করা হয়েছে। খুলনার নয়টি উপজেলায় সরাসরি মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ১১৮ জন, আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী ১২ জন ও ১২ পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে। কেএমপির আট থানা এলাকার সরাসরি মাদক বিক্রির সাথে জড়িত ১৫৪ জন, আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী ২৮ জন ও ২২ জন পুলিশ সদস্যের নাম রয়েছে। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীর নাম রয়েছে।