খুলনায় ভৈরব নদ থেকে উদ্ধার যুবতীর লাশের পরিচয় মিলেছে

0
624

নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতীর সেনের বাজার ঘাট সংলগ্ন ভৈরব নদী থেকে উদ্ধার হওয়া যুবতীর লাশের পরিচয় মিলেছে। যুবতীর নাম সোনিয়া আক্তার (২০)। সে খালিশপুর উত্তর কাশিপুর পোঁড়াবাড়ি মসজিদ সংলগ্ন আক্কাস আলীর বাড়ির ভাড়াটিয়া রাজমিস্ত্রীর হেলপার মোঃ মিন্টু মিয়ার স্ত্রী।
গত ২১ জুন বাড়িওয়ালা আক্কাস ও তার পরিবারের নির্যাতনের তাড়নায় সন্ধ্যায় সাতটায় ঘর থেকে পালিয়ে যায়। ২৩ জুন বিভিন্ন সংবাদের মাধ্যমে আইচগাতী পুলিশ ফাঁড়িতে একটি মহিলার লাশ নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে সোনিয়ার স্বামী মিন্টু মিয়া, পিতা মোঃ নাদিম হোসেনসহ এলাকার লোকজন লাশের বর্ননা পরনে কালো বোরখা, সালোয়ার কামিজ ও হাত, পাসহ অন্যান্য চিহ্ন দেখে লাশটি সোনিয়ার বলে সনাক্ত করেন। সোনিয়া ও মিন্টুর ঘরে দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এদিকে সোনিয়ার লাশ নদী থেকে উদ্ধার হওয়ার সংবাদ এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকা চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
সোনিয়ার স্বামী মিন্টু জানান, বাড়িওয়ালার মেয়ে আকলিমার সাথে তার স্বামী সাদ্দাম হোসেনের সাথে মনোমালিন্য চলছিল। সাদ্দাম মাঝে মধ্যে সোনিয়ার মোবাইলে ফোন দিয়ে স্ত্রী আকলিমার খোঁজ খবর নিতেন। আর এটাই সোনিয়ার জন্য কাল হয়ে দাড়ায়। ২১ জুন সন্ধ্যায় আক্কাস, আকলিমা, আক্কাসের স্ত্রীসহ ৫/৬ জন সোনিয়াকে বেদম মারপিট করে। এ মারপিটের অপমান ও ক্ষোভে সোনিয়া সন্ধ্যায় সাতটায় কাওকে কিছু না বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যায় বলে সোনিয়ার স্বামী মিন্টু জানায়। এক পর্যায়ে রাত সাড়ে ৮ টার দিকে একটি মোবাইল ফোনের দোকান থেকে সোনিয়া মিন্টুকে ফোন করে সে বহু দূরে চলে যাচ্ছে তার সন্তার দিকে খেয়াল রাখতে বলে ফোনের লাইন বিছিন্ন করে দেয়। পরে মিন্টু সেই মোবাইল নম্বরে ফোন দিয়ে রূপসা এলাকা থেকে কলটি করা হয়েছিল বলে যানতে পারে। রাত সাড়ে ১১টায় মিন্টু আক্কাস, আকলিমা, সাদ্দাম, আক্কাসের স্ত্রীসহ ৫ জনের নামে তার স্ত্রীকে মারধোর ও ঘর থেকে নিরুদ্দেশ হওয়ার অভিযোগ এনে খালিশপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
গতকাল রবিবার নদী থেকে লাশ উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে সোনিয়ার পরিবারের লোকজন আইচগাতী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এইচ,এম শহিদুল ইসলামের সাথে যোগযোগ করে। তিনি লাশ উদ্ধার করে প্রথমে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতের মর্গে পাঠান। সেখানে ময়না তদন্ত শেষ করে বিকাল ৫টায় আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে লাশটি দাফন করা হয়। পরে সোনিয়ার সোনিয়ার স্বামী ও পিতা পুলিশের তোলা ছবি দেখেন ছবির বিভিন্ন আলমত ও চিহৃ দেখে সোনিয়াকে সনাক্ত করে তার পরিবার। লাশ উদ্ধার হওয়ার সময় জ্বিব বের হয়ে ছিল এবং তার গলায় ও চোখে রক্তের দাগ ছিল বলে পুলিশ ও সোনিয়ার পরিবার দাবী করেছে। সোনিয়াকে পরিকল্পিত হত্যা অথবা তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করা হয়েছে নেবেন বলে জানান। এ ঘটনার পর থেকে আক্কাস ও তার পরিবার গা ঢাকা দিয়েছে।