খুলনায় ভাই-বোনের ওপর হামলকারী নাজু বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা

0
660

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনাটাইমস:
চাঁদা না পেয়ে আলমনগরে গৃহবধুকে পিটিয়ে পাঁ ভাঙ্গা ও তার ভাই আলমগীর হোসেনের চোঁখে মারাত্মক জখম করার ঘটনায় নাজুসহ বাহিনীর নয় জনের বিরুদ্ধে খালিশপুর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামী করা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী প্রধান নাজমুল আলম নাজুকে । যার মামলা নং-২৯ তারিখ ২৮-১-১৮ ইং । মামলা দায়ের হওয়ার পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খালিশপুর থানার ওসি সরদার মোশারেফ হোসেন ।
উল্লেখ,গত ২১ জানুয়ারী খুলনার খালিশপুরের আলমনগর এলাকায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক ওয়ার্ড নেতা ও আলমনগর বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক নাজমুল আলম নাজুকে চাঁদা না দেয়ায় তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে দুই ভাই বোনের উপর হামলা চালায় । হামলায় চাঁদা না দেয়া সাহানা বেগমের পাঁ ভেঙ্গে দেয়, তার ভাই আলমগীর হোসেনের চোঁখে মারাত্মক আহত করে নাজু বহিনী । গুরতর আহতরা হলেন শাহজাহান হাওলাদারের কন্যা সাহানা বেগম (২৪) ও তার ভাই আলমগীর হোসেন (২৩)। আহত ভাই বোনদের উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় সাহানা বেগম বাদী হয়ে নাজমূল আলম নাজুকে ১নং বিবাদী করে মামলা করেন । মামলার অপর আসামীরা হলেন,মুন্সি কামরুল আলম,নাজুর পুত্র লিয়ন,জয়নাল,মোঃ জুয়েল,কালু হোসেন নাসিম,পারভেজ ওরফে চোরা পারভেজ,মোঃ ইসরাফিল ও মোঃ শামিমসহ অজ্ঞাত ৩/৪জনকে আসামী করা হয় । মামলা হলেও সন্ত্রাসীরা এখনো প্রকাশ্যে ঘুরছে । আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বাদী সাহানা বেগম ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন ।
ভুক্তভোগীরা সাহানা জানান, আমিসহ আরো চার জন বিদেশে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি শুনে ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও আলমনগর বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক নাজমুল আলম নাজু ও তার পালিত সন্ত্রাসী বাহিনীর সদস্যরা আমাদের নিকট ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। সন্ত্রাসীদের দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় গত ২১ জানুয়ারী রোববার রাত ৮টার দিকে আলমনগর বাজারের পিছনে ডেকে নিয়ে যায় এবং জিজ্ঞাসা করে তোরা কোন দেশে যাবি? আমি তখন কাতারে যাওয়ার কথা বলে উত্তর দিলে এসময় নাজুর ছেলে লিওন ও কামরুল ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। তখন সাহানা বেগম নিজেকে ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের কর্মী দাবি করলে এসময় জয়নাল (পিতা: জাফর মিস্ত্রী), ইসরাফিল, জুয়েল, শামীম, রুবেল, আকাশ, জাহিদুল, নাসির, পারভেজ, কালু ওরফে চোরা কালু, শাওন, কিল, ঘুসি, ও লাঠি-সোটা নিয়ে আমাদের উপড়ে মারপিট শুরু করে। এসময় সন্ত্রাসীরা তার বাম পা ভেঁঙ্গে ফেলে ও তার ভাই’র বাম চোখে আঘাত করে ও মাথা ফেটে যায়। আমাদের আত্মচিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে তারা আমাদেরকে ফেলে চলে যায়। অতপর এলাকাবাসী ও আত্মীয় স্বজনরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সার্জারী ওয়ার্ড এ ভর্তি করে। এসময় সন্ত্রাসীরা ভুক্তভোগীদের কাছে থাকা ১৫শত টাকা, স্বর্ণালঙ্কার (আট আনা ওজনের পৃথক গলার চেইন ও কানের দুল), দুটি মোবাইল সেট ও বাইসাইকেল ছিনিয়ে নেয়।
এব্যাপারে খালিশপুর থানায় জানানো হলে কালীবাড়ী পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ রফিক ও দারোগা গনেশ ঘটনাস্থলে যান । মামলার আসামীরা আলমনগর প্রাইমারী স্কুলের প্রধান শিক্ষকের অভিযোগ আমাকে ছাড়াও ১৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ এর সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিব, আওয়ামী সদস্য সোহরাব, ও মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল, খালিশপুর থানা মহিলা সভানেত্রী দিলরুবা রুবীসহ আরও অনেককেই গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করে। চাঁদাবাজী, মাদক ব্যবসার আশ্রয়দাতা, নাজমুল আলম নাজু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে এলাকাবাসী ভীত সন্ত্রস্ত্র বলে তারা জানান।#