খুলনায় পিয়াজের দাম বাড়ছে হু হু করে 

0
498

শেখ মোঃ নাসির উদ্দিনঃ 
লাগামহীনভাবে পিঁয়াজের দাম বাড়ায় ক্রেতারা হতাশ। গত বছর এই সময়ে প্রতি কেজি পিঁয়াজের দাম ছিল ২৫ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে। এছাড়া গত বছরের তুলনায় পিঁয়াজের উৎপাদন ও আমদানি দুটোই বেড়েছে। তাহলে কেন বাড়ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির দাম?

ব্যবসায়ীরা বলেছেন, চাহিদার তুলনায় বাজারে পিঁয়াজের সরবরাহ কম। বিশেষ করে ভারত পিঁয়াজের রফতানি মূল্য বৃদ্ধি করায় দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যটির বাজারে রীতিমতো ‘আগুন’ লেগেছে। দুই সপ্তাহ আগে হঠাত্ করেই পিঁয়াজের রফতানি মূল্য এক লাফে টন প্রতি ৩৫২ ডলার বাড়িয়েছে ভারত। এর প্রভাবেই পিঁয়াজের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে।

টিসিবির হিসেবেই গতকাল শুক্রবার খুলনায় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৬৫ থেকে ৭০ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। অথচ এক সপ্তাহ আগেও আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৫৫ থেকে ৫৮ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৭০ থেকে ৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

সরকারের এ সংস্থাটির হিসেবে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে আমদানিকৃত পিঁয়াজ ৩০ দশমিক ৭৭ শতাংশ ও দেশি পিঁয়াজ ৩৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়েছে। আর গত এক বছরের ব্যবধানে দেশি পিঁয়াজের দর ২০৯ শতাংশ আর আমদানিকৃত পিঁয়াজ ২০৭ শতাংশ বেড়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে দেশে বছরে ২২ থেকে ২৪ লাখ টন পিঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ১৮ লাখ ৬৬ হাজার টন পিঁয়াজ উত্পাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১ লাখ ৩১ হাজার টন বেশি।

আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, আলোচ্য সময়ে দেশে ১০ লাখ ৪১ হাজার টন পিঁয়াজ আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৩ লাখ ৪০ হাজার টন বেশি। সব মিলিয়ে গত অর্থবছরে পিঁয়াজের যোগান এসেছে ২৯ লাখ টন। যা চাহিদার চেয়ে ৭ লাখ টন বেশি। তারপরও বাড়ছে পিঁয়াজের দাম।

সাতক্ষীরা ভোমরা স্থল বন্দর সূত্র জানায়, প্রতি টন পিঁয়াজের রফতানি মূল্য আড়াই’শ ডলার থেকে কয়েক দফা বাড়িয়ে গত ২৩ নভেম্বর ৫শ ডলার থেকে ৮৫২ ডলার নির্ধারণ করে ভারতের কৃষিজাত কাঁচা পণ্যের মূল্য নির্ধারণী সংস্থা (ন্যাফেড)।

গত অক্টোবর মাসে প্রতি টন পিঁয়াজের রফতানি মূল্য ২৫০ ডলার থেকে সাড়ে ৩শ ডলার নির্ধারণ করে। এরপর দফায় দফায় তা বাড়িয়ে ৫শ ডলার নির্ধারণ করেছিল ভারত। এরপর গত ২৩ নভেম্বর এক লাফে ৩৫২ ডলার বাড়িয়ে প্রতি টন পিঁয়াজের রফতানি মূল্য নির্ধারণ করেছে ৮৫২ ডলার। এরপর থেকেই পিঁয়াজের বাজারে রীতিমতো ‘আগুন’ লেগেছে।

ভোমরা স্থল বন্দরের আমদানিকারক মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, কোন কারণ ছাড়াই ভারত পিঁয়াজের রফতানি মূল্য বাড়িয়েছে। এজন্য বিপাকে পড়েছে দেশের পিঁয়াজ আমদানিকারকরা।

খুলনা বড় বাজারের আশা বানিজ্য ভান্ডারের মালিক  পিঁয়াজ বিক্রেতা হারুণ অর রশিদ বলেন, প্রতি বছর এ সময় বাজারে মুড়িকাটা পিঁয়াজ উঠলেও এবার এখনো উঠেনি। এ পিঁয়াজ বাজারে আসলে দাম কিছুটা কমে যাবে।