খুলনায় পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহন প্রকল্পের তথ্য অবহিতকরণ সেমিনার অনুষ্ঠিত

0
56

নিজস্ব প্রতিবেদক:
পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহন প্রকল্পের বেইজলাইন সার্ভে ও জনধারণা জরিপ এর তথ্য অবহিতকরণ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৯ জানুয়ারী) বেলা ১১ টায় সিএসএস আভা সেন্টারে ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অর্থায়নে নাগরিক উদ্যোগ, ক্রিশ্চিয়ান এইড, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি, ব্লাস্ট এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন এর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহন প্রকল্পের আওতায় ২০২১ সালের জুন এবং জুলাই মাসে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর অধিকার ও অংশগ্রহণের পরিস্থিতি ও তাদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা যাচাইয়ের জন্য, একটি বেইজ লাইন গবেষণা ও একটি জনধারণা জরিপ করা হয়। উক্ত গবেষণা ও জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, খুলনা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইউসুপ আলী। বিশেষ অতিথি ছিলেন,খুলনা জেলা জজ কোর্টের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সহকারী জজ প্রবীর কুমার দাস। খুলনা জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ পরিচালক হাসনা হেনা, খুলনা জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ের উপ পরিচালক খান মোতাহার হোসেন, খুলনা চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির উধ্বর্তন সহ-সভাপতি শরিফ আতিয়ার রহমান, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, প্রকল্প সমন্বয়কারী মোঃ আব্দুল্লাহ আল ইসতিয়াক মাহমুদ, বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলরে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বিভুতোষ রায়।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলনের খুলনা জেলা শাখার সভাপতি সুব্রত কুমার মিস্ত্রী। এছাড়াও সেমিনারে বিভিন্ন সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন, এডভোকেসি নেটওয়ার্কের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রকল্পের চেইঞ্জ এজেন্ট ছাড়াও দলিত, সমতলের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

জরিপের তথ্য মতে, শুধুমাত্র ৫% পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী জানিয়েছেন যে উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় যেমন- বিভিন্ন কমিটিতে সদস্যপদ, স্থানীয় রাজনীতিতে সদস্যপদ, স্থানীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রনয়ন ইত্যাদিতে তাদের মতামত নেয়া হয়। জরিপে আরও দেখা যায় যে, হিজড়া ও ট্রান্সজেন্ডার জনগোষ্ঠীর অবস্থা সব থেকে বেশি নাজুক। জনধারণা জরীপে দেখা যায় যে, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে বিশেষ সুযোগ সুবিধা দেয়া এবং কোটা ব্যবস্থার প্রতি সাধারন মানুষের সহানুভূতি থাকলেও তাদেরকে সমঅধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী রয়েছে। এতে করে বোঝা যায় যে, সাধারণ মানুষ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সহানুভূতির চোখে দেখে এবং তাদের সম-অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।

সেমিনারে খুলনা জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিবৃন্দ তাদের সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন।

জরিপের প্রাপ্ত তথ্য এই প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম গ্রহণে অবদান রাখবে যা সকল বৈষম্য এবং দুরত্ব দুর করে পারস্পরিক বন্ধন দৃঢ়তর করবে এবং দেশের জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এবং স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) গুরুত্বপূর্ণ “লিভ নো ওয়ান বিহাইন্ড” এজেন্ডা বাস্তবায়নে আবদান রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন নেতৃবৃন্দ।