খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত ৮৬৪ জন : মৃত ৭ জন, বিভাগে আক্রান্ত ৪৫১০ জন

0
423

আছাদ জাহিম সোয়াব
সরকারি হিসাব অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত খুলনা জেলায় এ পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ৮৬৪ জন। ওই সময় পর্যন্ত মারা গেছে ৬ জন। শনিবার বেলা দেড়টায় খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিল্পী বেগম (৩৫) নামে এক মহিলা ডেঙ্গু জ্বরে মারা যায়। এ হাসপাতালে আগস্ট মাসে ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ৫ জন। সে হিসেবে খুলনায় মোট ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু হয় ৭ জনের। এছাড়া সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এদিকে খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘন্টায় ১২১ জন ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। এ পর্যন্ত বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা প্রদান করা হয় ৪ হাজার ৫১০ জনকে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৬০৮ জন। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ও খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে এ তথ্য পাওয়া যায়।
খুলনা সিভিল সার্জন দপ্তর থেকে জানানো হয়, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে শনিবার সকাল ১১টা পর্যন্ত (৩১ আগস্ট) খুলনা জেলায় মোট ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়েছে ৮৬৪ জন। ওই সময়ের মধ্যে মারা যায় ৬ জন। এছাড়া শনিবার (৩১ আগস্ট) বেলা দেড়টায় নতুন করে শিল্পী বেগম (৩৫) নামে এক মহিলা ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি খুলনার তেরখাদা উপজেলার আঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাহেব আলীর স্ত্রী। তাকে গত ৩০ আগস্ট বিকেল সোয়া ৪টার দিকে খুমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করানো হয়। ওই হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সমন্বয়ক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (আরপি) ডাঃ শৈলান্দ্রনাথ বিশ্বাস বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সে হিসেবে ডেঙ্গু আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ জন। এ পর্যন্ত খুমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে ৫ জন। এর মধ্যে গত ৩ আগস্ট মারা যায় খুলনা দিঘলিয়া উপজেলার বাসিন্দা ইসরাইল হোসেনের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৭০), গত ১২ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ সেলিমের পুত্র মো রাসেল (৩২), গত ১৯ আগস্ট খুলনার রূপসা উপজেলার খাজাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মৃত আখের আলীর পুত্র মোঃ মিজান (৪২) ও পিরোজপুর জেলার ভা-ারিয়া এলাকার বাসিন্দা সাঈদ শিকাদেরর কন্যা শাহিদা (৫০)। এছাড়া খুলনা বেসরকারি হাসপাতালে মধ্যে গত ৪ আগস্ট গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে খুলনা রূপসা উপজেলার খাজাডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা মোঃ বাবুলের পুত্র মোঃ মঞ্জু (১৬) এবং ৫ আগস্ট সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার উত্তর তাফালবাড়ী এলাকার বাসিন্দা ধুল মোল্লার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০) ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ওই সূত্র মতে, খুলনা জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে চিকিৎসাধীন মধ্যে খুমেক হাসপাতালে ভর্তি ছিলো ৬৯১ জন, জেনারেল হাসাপাতালে ২৯ জন, সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৮ জন, গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৪ জন, আদ্ব-দ্বিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ৮ জন, রূপসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন, তেরখাদা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭ জন, ফুলতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৩ জন, ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন ও পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন।
খুমেক হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডের সমন্বয়ক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ (আরপি) ডাঃ শৈলান্দ্রনাথ বিশ্বাস এ প্রতিবেদককে বলেন, আগের তুলনায় বর্তমানে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম পাওয়া যাচ্ছে। অনেকেই জ্বর হলেই এ হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। পরে তাদেরকে ডেঙ্গু জ্বরের পরীক্ষা করানোর পর নিশ্চিত হই তারা ডেঙ্গু জ্বরের রোগী কি না।
খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, গত ২৪ ঘন্টায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ১২১ জন নতুন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হন। আক্রান্তদের মধ্যে যশোরে সবচেয়ে বেশি। এখানে আক্রান্ত সংখ্যা ৪৯ জন। এছাড়া বাগেরহাটে ১ জন, সাতক্ষীরায় ১১ জন, ঝিনাইদহে ৮ জন, মাগুরায় ৮ জন, নড়াইলে ৫ জন, কুষ্টিয়ায় ১১ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৩ জন, মেহেরপুরে ১ জন ও খুমেক হাসপাতালে ১৮ জন। এছাড়া বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে খুলনায় ২ জন ও যশোরে ৩ জন রয়েছে। এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫১০ জন । এর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলো ৩৩৫ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ৬০৮ জন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান ৩ হাজার ৬৮১ জন এবং রেফার্ড করানো হয় ২২১ জনকে। বর্তমানে ডেঙ্গু সনাক্তে কিটস মজুদ রয়েছে ১৩ হাজার ১৮১টি।
উল্লেখ্য, খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (রোগ নিয়ন্ত্রণ) সূত্র মতে, ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৪৩০ জন। এর মধ্যে খুলনায় ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার (ডিএইচএফ) রোগী ছিলো ২ জন এবং নড়াইলে ডেঙ্গু শক সিনড্রোম (সিএসএস) আক্রান্ত রোগী ২ জন পাওয়া যায়। এছাড়া ডেঙ্গু ফিভারে আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৪২৬ জন।