খুলনায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে ১৩ তম নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত

0
1287

সাইমুম মোর্শেদঃ বন্দরনগরী খুলনার রুপসা নদীতে আয়োজিত হল ১৩ তম নৌক বাইচ প্রতিযোগিতা। রূপসী রূপসা নদীতে কাশা, বাঁশি আর ঝাঝরের সুরে ছলাৎ ছলাৎ ঢেউয়ের তালে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে আবারো মুখোরিত হলো নদীর দুই কূল। বেসরকারি মোবাইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোনের সহযোগিতায় খুলনা নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হলো এবারের ১৩ তম নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা।

নৌকাবাইচ উপলক্ষে শনিবার (২০ অক্টোবর) সকাল থেকেই মহানগর জুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সকাল থেকে খুলনার বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছোট বড় নৌকা নিয়ে উৎসাহী দর্শকেরা নদীর দুই পাড়ে হাজির হতে থাকে।বিকেল দুইটায় খুলনার রুপসা নদীর কাষ্টম ঘাট থেকে আয়োজিত গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে রুপসা ব্রীজের নিচে এসে শেষ হয়।

ঐতিহ্যবাহী এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে একে একে রুপসা নদীর দুই পাড়ে জরো হয় হাজার হাজার ক্রীড়ামোদি নারী-পুরুষ।এবারের নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ৩টি গ্রুপে মোট ৩৪টি দল। এবারের প্রতিযোগিতায় কয়রা, পাইকগাছা,তেরখাদা, কালিয়া, নড়াইল থেকে ১০ টি বড় এবং ৯ টি ছোট বাইচ দল অংশগ্রহণ করে।  এছাড়াও গোপালগঞ্জ, মাদারিপুর ফরিদপুর এলাকার ১১টি বাচারি নৌকা নিয়ে একটি বিশেষ দল তৈরি করা হয়েছিল।

বড় দলের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে এক লক্ষ টাকা জিতে নেয় খুলনার কয়রার সুন্দরবন টাইগার। দ্বিতীয় হয়ে পুরষ্কার হিসেবে ৬০ হাজার টাকা পান খুলনার তেরখাদার ভাই ভাই জলপরী। আর তৃতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা পান ঐ একই এলাকার আল্লাহ ভরসা।
ছোট গ্রুপে প্রথম হয়ে ৫০ হাজার টাকা পুরষ্কার পান খুলনার পাইকগাছার ভাই ভাই দুরন্ত । দ্বিতীয় বিজয়ী দল কয়রার সোনার তরী পায় ৩০ হাজার টাকা। আর তৃতীয় স্থান অধিকারী দল পাইকগাছা, খুলনার দুরন্ত পায় ২০ হাজার টাকা।

বিশেষ বাছারি দলের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করে ৫০ হাজার টাকা জিতে নেয় খুলনার সোনাডাঙ্গার ফলিয়া এন্টারপ্রাইজ। দ্বিতীয় হিসেবে ৩০ হাজার টাকা পায় গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়ার সোনার তরী। আর তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা পায় ঐ একই এলাকার মা-বাবার আশীর্বাদ।

নৌকা বাইচে বড় গ্রুপে প্রথম পুরস্কার ১ লাখ টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৬০ হাজার ও তৃতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। অন্যদিকে ছোট গ্রুপে প্রথম পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার ও তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয় এবং বিশেষ গ্রুপে প্রথম পুরস্কার ৫০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় পুরস্কার ৩০ হাজার ও তৃতীয় পুরস্কার ২০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টায় মহানগরীর শিববাড়ি মোড় থেকে হাদিস পার্ক পর্যন্ত বর্নাঢ্য র‌্যালি বের হয়। এবং সন্ধ্যায় রূপসা ফেরীঘাট বাস টার্মিনালে পুরস্কার বিতরণী এবং জাতীয় ও আঞ্চলিক শিল্পীদের নিয়ে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়। প্রতিযোগিতা শেষে প্রধান অতিথি খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
সভাপতি হিসেবে ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল হোসেন।

গ্রামীণফোনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন এর খুলনা সার্কেল বিজনেস হেড মোঃ আওলাদ হোসেন, হেড অব ব্র্যান্ড এন্ড ডিজিটাল মার্কেটিং নাফিস আনোয়ার চৌধুরী, খুলনা সার্কেল মার্কেটিং হেড আবুল হাসনাত, খুলনা রিজিওনাল হেড আহসান হাবিব সহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র থেকে উপস্থিত ছিলেন এর সভাপতি মোল্লা মারুফ রশীদ,  সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান রহিম, প্রধান উপদেষ্টা  শেখ আশরাফ-উজ-জামান সহ অন্যান্যরা। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন মিজানুর রহমান মিজান, সংসদ সদস্য, খুলনা ২; সর্দার রাফিকুল ইসলাম,  পুলিশ কমিশনার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ; এস এম শফিউল্লাহ, পুলিশ সুপার, খুলনা।

অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের মোঃ আওলাদ হোসেন বলেন, “গ্রামীণফোন সবসময়ই বাংলাদেশের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের পৃষ্ঠপোষক। গ্রামীণফোন মনে করে যে একটি দেশের উন্নয়নে সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের বিরাট ভূমিকা আছে।   বাংলাদেশের উন্নয়নের অংশীদার হিসেবে গ্রামীণফোন তাই সব সময় এ ধরণের অনুষ্ঠানে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে”।

নগর সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সভাপতি প্রধান উপদেষ্টা  শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, “নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে-এই স্লোগান নিয়ে আমরা র্দীঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছি। আসুন নদীকে ভালবাসি, নদীকে ভাল রাখি।”।

প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিল্লাল হোসেন খান, উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড; ডাঃ রেজাউল করিম, ভেটেরিনারি সার্জন, খুলনা সিটি কর্পোরেশন; নিজাম উর রহমান লালু, সহ-সভাপতি, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি; মোঃ মোতালেব হোসেন মিয়া, সদদ্য, জেলা ক্রীড়া সংস্থা, খুলনা।

সন্ধ্যায় রূপসা ফেরি ঘাট চত্ত্বরে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয় এবং পরবর্তীতে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।পুরো আয়োজনটি খুলনা সিটি কর্পোরেশন, খুলনা জেলা প্রশাসন, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‍্যাব, নৌ পুলিশ, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বন বিভাগ, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, আনসার ও ভিডিপি, বিআইডব্লিউটিএ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ, বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি, রূপসা সেতু কর্তৃপক্ষ ও ট্রলার মালিক সমিতির তত্ত্বাবধানে সুষ্ঠু ভাবে সম্পন্ন করা হয়।

নৌকা বাইচ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড, নৌ-পুলিশ, নৌ-বাহিনী, খুলনা সিটি কর্পোরেশন, রূপসা সেতু কর্তৃপক্ষ, রোডস্ অ্যান্ড হাইওয়েসহ সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ছিলো লক্ষনীয়।