খুলনায় ছাত্রলীগ নেতার বিরুদ্ধে পণ্য বিক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তনাধীন, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

0
1077

নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা উপেক্ষা করে কোভিড-১৯ সংক্রামন রোধে ‘ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন’ কর্মসূচির পণ্য বিক্রিতে অনিয়মের চিত্র খোদ খুলনা নগরীতেই। তাও সাবেক ছাত্রলীগ নেতার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ইতোমধ্যে তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রসঙ্গত, রাতের আধাঁরে ওএসএম চাল বিক্রির অভিযোগ আছে অভিযুক্ত ডিলারের নামে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তোলেন খোদ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।
এদিকে এনিয়ে খুলনার আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর আহবানে সাড়া দিয়ে খুলনাসহ গোটা দেশের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রনেতারা যখন কর্মহীন, ক্ষুধার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাড়াচ্ছেন, ঠিক তখনই এমন অভিযোগ খুলনার আওয়ামী লীগের গোটা অর্জনকে বিলীন করেছে। এঅবস্থায় অভিযুক্তর বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি তোলেন তারা।
অবশ্য অভিযুক্ত ডিলার সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট’র ভাষ্য, একটি মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আগামীর পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি। এছাড়া গোটা অভিযোগটাই বায়বীয় দাবি করে তিনি বলেন, যেখানে ওএমএস’র চাল বন্ধ আছে। সেখানে কিভাবে এমন অভিযোগ ওঠে। এজন্য যে বা যারা চিঠি ইস্যু করেছে, তার জবাবদিহিতা করতে হবে।

তদন্ত কমিটির আহবায়ক খুলনা জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইউসুফ আলী খুলনাটাইমসকে বলেন, ডিলার সম্রাটের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের প্রথম দিন তার বক্তব্য কমিটির কাছে পেশ করেছে। আরও কিছু তথ্য প্রয়োজন। এজন্য আজ মঙ্গলবার পুনরায় কমিটির বৈঠকে বসবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করতে আরও সময় প্রয়োজন হবে বলে জানান তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির একজন খুলনাটাইমসকে বলেন, সম্রাটের নিজ নামে ছাড়াও নিকটজনের নামে একাধীক ডিলার লাইসেন্স রয়েছে, যার সবকটি সে পরিচালনা করে আসছে। এরমধ্যে অন্তত: তিনটি লাইসেন্সের মালিক ও প্রতিষ্ঠান ভিন্ন ব্যাক্তি হলেও একই মুঠোফোন নম্বর, প্রত্যেক লাইসেন্সের সাথে সংযুক্ত করা। তাছাড়া দুয়েকটি ডিলারের উল্লেখিত ঠিকানায় কোন প্রতিষ্ঠান নেই। ভাবনার বিষয় হচ্ছে, তার পরিচালিত এসব লাইসেন্সর মধ্যে একটির মালিক সাবেক এক শিবির নেতা!
খুলনা ছাত্রলীগের সাবেক এক শীর্ষ নেতা খুলনাটাইমসকে বলেন, ইতোপূর্বে অভিযুক্ত সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাট রাতের আধারে চাল পাচারকালে আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে। তখন স্থানীয় সংবাদপত্রে তা প্রকাশ পায়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হয়েও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে, চলমান সংকটের সময়ে পুনরায় তার এমন অনিয়মের ঘটনা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। এজন্য খুলনা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক এই সহ-সভাপতির কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী জাফর ওয়াজেদ সম্প্রতি জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে অভিযুক্ত ব্যাক্তি সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাটের নামে অহমিকা, অসদাচরণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আনেন। এসময় কাজী জাফর ওয়াজেদ বলেন, নিজে সাংবাদিকতা না করেও তিনি কিভাবে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিত্ব করেন? তা তার বোধগম্য নয়। তার আচার-আচরণ কোনটাই সংবাদকর্মীর ছোঁপ মেলেনি, মন্তব্য তার। পাশপাশি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রদত্ত সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান, নিকট আত্মীয়কে পাইয়ে দিতে সাহায্য করে সে, এতে সঠিক ব্যাক্তি বঞ্চিত হয়। এসময় নূন্যতম সৌজন্যবোধ তার ছিল না।
জানা যায়, করোনা ভাইরাসের কারণে গত ২৬ মার্চ থেকে সব কিছু বন্ধ করে দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে দরিদ্র মানুষদের মাঝে চাল বিতরণ কর্মসূচি চালু হয়। এজন্য খুলনায় ৮৯ জন ডিলার নিয়োগ করা হয়। সাঈয়েদুজ্জামান সম্রাটও নিজ নামে ডিলারশীপ নিয়ে ব্যাপক অনিয়ম করেন। অভিযোগ উঠেছে তিনি ভিন্ন নামে একাধিক ডিলারশীপ নিয়ে চাল বিতরণে অনিয়ম করে চলেছেন। এর আগেও তিনি ভিন্ন ভিন্ন ৮ টি নামে ডিলারশীপ নিয়ে অনিয়ম করেন।

উল্লেখিত অভিযোগ আমলে নিয়ে খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন গত ১৬ এপ্রিল ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন কওে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলেন। কমিটির সদস্যরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ ইউসুফ আলী, সদস্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ এনএম ওয়াসিম ফিরোজ, দুদকের উপ পরিচাকল মোঃ নাজমুল হাসান, খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবং জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ তানভীর রহমান।