খুলনায় চিংড়ি উৎপাদন ও রপ্তানি দু’টিই ভাল

0
1204
বিশেষ প্রতিনিধিঃ মৌসুমের আট মাস ছিল আবহাওয়া প্রতিকুলে। দাবদাহ, শৈত্য প্রবাহ ও পানির স্বল্পতা ছিল মৌসুম জুড়ে। মৌসুমের শুরুতেই পোনার সংকট দেখা দেয় উপকূল জুড়ে। খামারিদের অর্থের অভাব বরাবরি। এত কিছু শর্তেও বাগদা ও গলদা চিংড়ির উৎপাদন ও রপ্তানি দু’টিই ভাল। এবার ৫৭২ কোটি টাকা মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে ১৯ দেশে।
জেলায় প্রতি মৌসুমে ৭’শ কোটি গলদা ও বাগদার পোনার চাহিদা রয়েছে। কক্সবাজার ও সাতক্ষীরার হ্যাচারী গুলোতে মৌসুমে ১’শ কোটি পোনা উৎপাদন হয়। বাকি পোনার ঘাটতি রয়ে যায়। ২০১৮ সালের প্রথম দিকে শৈত্য প্রবাহের কারণে খামারে ছাড়া বেশকিছু পোনা মারা যায়। এপ্রিল – মে মাসে দাবদহের কারণে রোগ বালাই দেখা দেয়। জুন মাসে ২৬৬ ও জুলাই মাসে ২৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকড করা হয়। যা ২০১৭ সালের বর্ষা মৌসুমের তুলনায় অর্ধেক। পানির স্বল্পতাতার কারণে বাগদা চিংড়ির ওজন কিছুটা কম হয়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আবু ছাইদ জানান, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ৩৬ হাজার ১৫২ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৪১২ মে.ট. বাগদা, ২০ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৬৬ মে.ট. গলদা এবং ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৩৬ হাজার ১৬০ হেক্টর জমিতে ১২ হাজার ৪৬৩ মে.ট. বাগদা এবং ২০ হাজার ৩৪ হেক্টর জমিতে ১৩ হাজার ৬৮০ মে.ট. গলদা উৎপাদন হয়। আবহাওয়া নানা প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে জেলার ৬৯ হাজার খামারি কাংখিত উৎপাদন পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পানির স্বল্পতা থাকলেও উল্লেখযোগ্য রোগবালাই দেখা দেয়নি।
ডুমুরিয়া উপজেলা মৎস্য ককর্মকর্তা সরোজ কুমার মিস্ত্রী জানান, উপজেলার রংপুর,  গুটুদিয়া, ভান্ডারপাড়া ইউনিয়নে গলদা, আটলিয়া,সাহস, শোভনা ও মাগুরখালী ইউনিয়নে বাগদা উৎপাদন বেশি হয়েছে। ২০১৭ সালে এখানে ১১ হাজার ৮৮৮ মে.ট. বাগদা ও গলদা উৎপাদন হয়। এবছর ৩৪২ মে.ট. বেশি উৎপাদন হয়েছে।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর সহকারী পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম এ প্রতিবেদকে জানান, চট্রগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এ অঞ্চল থেকে ৩ হাজার ৮২৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। গত অর্থ বছরে রপ্তানির পরিমান ছিল ৫৭২ কোটি ৪০ লাখ টাকা মূল্যের। বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ড, রাশিয়া, ইতালি, স্পেন, সাইপ্রাস, জার্মান, ডেনমার্ক, কানাডা, অস্ট্রেলীয় সহ ইউরোপীয় ইউনিয়ন দেশগুলোতে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হচ্ছে।
রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান কসমস সী ফুড এর প্রতিনিধি আমিরুল ইসলাম জানান, চীন দেশে বাংলাদেশের হিমায়িত চিংড়ির নতুন বাজার সৃষ্টি হয়েছে। লকপুর ফিস, মডার্ণ সী ফুড, ব্লাসিক সী ফুড ও আলফা সী ফুড এবং কসমস সী ফূড চীনে হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি করছে। ২০ পিসে এক পাউন্ড ওজনের চিংড়ি ৬ ডলার এবং ২৫ পিসে এক পাউন্ড  ওজনে ৫ ডলার মূল্যে বিক্রি হচ্ছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার জিলেরডাঙ্গা গ্রামের চিংড়ি চাষী সুজিত মন্ডল জানান, পানির স্বল্পতা শর্তে ও স্থানীয় টিয়াবুনিয়া বিলে চিংড়ি উৎপাদন সন্তোষজনক।  তিনি এবার ছয় একর জমিতে বাগদা ও গলদা চিংড়ি উৎপাদন করেছে।