খুলনায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ ৪১ দিন পর রেল কর্মকর্তার মৃত্যু

0
534

এম জে ফরাজী, খুলনাটাইমস:
খুলনার দৌলতপুরে চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরের আঘাতে আহত শিকদার বায়েজিদ দীর্ঘ ১ মাস ১১ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে মারা গেছেন। সোমবার রাত ৮টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিকদার বায়েজিদ পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের টিআই ছিলেন। বায়েজিদের বাড়ি বাগেরহাটে। তিনি এক সন্তানের জনক।
রেলওয়ে শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাছুম হাওলাদার জানান, ৩০ এপ্রিল খুলনা-বেনাপোল রুটের বেনাপোল কমিউটার ট্রেনে দায়িত্ব পালন করছিলেন বায়েজিদ। বেনাপোল থেকে খুলনা যাওয়ার পথে দৌলতপুর স্টেশন এলাকায় চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। এতে তিনি আহত হন। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ওই দিনই ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে আনা হয়েছিল বায়েজিদকে। পরে সেখান থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানেই সোমবার সন্ধ্যা ৮টায় তার মৃত্যু ঘটে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বলেন, বায়েজিদের মৃত্যু কোন দুর্ঘটনা নয়। পাথর ছুড়ে, এতে লোকজন মারা যায়। এটা কোনো তামাশা না। আমরা ধরে নেই, এটা হত্যার উদ্দেশ্যে মারা হয়েছে। এই ঘটনায় ইতোমধ্যে রেলওয়ের পক্ষ থেকে চারজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। এখন বাকি কাজ পুলিশের। শুনেছি এখন পর্যন্ত তারা একজনকে ধরেছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, জানায়, আহত বায়েজিদের চিকিৎসার জন্য রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক প্রথমে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন। সোমবার তার পরিবারকে আরও এক লাখ টাকা সহায়তা দেন তিনি।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ১ মে পর্যন্ত সারা দেশে পাথর নিক্ষেপের দেড় শতাধিক ঘটনা ঘটেছে এবং এতে দুই শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। বিষয়টি উদ্বেগজনক। ২০০৪ সালে একইভাবে নিক্ষেপিত পাথরের আঘাতে সিলেটগামী আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী সঞ্জিত কুমার চন্দ্র বিশ্বাসের দুটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাথরের আঘাতে প্রীতি দাশ নামে এক প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। শুধু বায়েজিদ, সঞ্জিত বা প্রীতি নন- চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুঁড়ে মারার ঘটনায় প্রায়ই দেশের বিভিন্ন স্থানে মানুষ আহত হচ্ছেন। পরে তাদের কেউ কেউ মৃত্যু অথবা পঙ্গুত্ববরণ করছেন।