খুলনায় ক্ষমতাসীন দলের সিবিএ নেতা আলমগীরের চাকুরী নবায়নে দৌড়-ঝাপঃ ওজোপাডিকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আতঙ্কিত

0
368

ফকির শহিদুল ইসলাম,খালিশপুর (খুলনা) থেকেঃ
নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো)র সাধারণ সম্পাদক শেখ আলমগীর চাকুরী নবায়নে কোটি টাকার মিশন নিয়ে দৌড়-ঝাপ শুরু করেছেন।দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রতিষ্ঠান ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো)র এই সিবিএ নেতা কোটি টাকার মিশন নিয়ে বিভিন্ন মহলে দেন-দরবার করছেন। ফলে ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর আগে কোম্পানির বিধি অনুযায়ী তার চাকুরিচ্যুত ও সীমা নবায়ন না হওয়ার ঘটনায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন প্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা।
ওজোপাডিকো সূত্রে জানা গেছে, সামান্য বাবুর্চি হিসেবে চাকুরীতে যোগদানের পর শেখ আলমগীর সিবিএ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর থেকেই তিনি ছুটি না নিয়েই কর্মস্থলে নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন। স্ত্রী ফাতেমা বেগমের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ছেলের নামে আকাশ এন্টারপ্রাইজ নামে লাইসেন্স গ্রহন করে ওই লাইসেন্সের বিপরীতে ওজোপাডিকো থেকে লাখ লাখ টাকার কাজ বাগিয়ে নেন। আবার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না করেও বিল কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করে বিল তুলে নিয়েছেন। জোরপূর্বক কোম্পানির কক্ষ এবং গাড়ি দখল করে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে এভাবে খুব সীমিত সময়ে অঢেল সম্পদের পাহাড় গড়ে কোটিপতি বনে গেছেন তিনি।
অপরদিকে ওজোপাডিকোর শ্রমিক কর্মচারী লীগের (রেজিঃ-বি২১৩৮) সভাপতি শেখ আলমগীর শ্রম আইন নীতি সম্পূর্ণভাবে লঙ্ঘন করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শ্রমিক-কর্মচারিদের স্বার্থ বিবেচনা না করে শ্রমিকদের ব্যক্তিগত কাজে লাগানো এবং বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। শ্রমিকদের ওপর নির্যাতনের পাশাপাশি ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কোম্পানির কর্মচারী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন। কোম্পানির পক্ষ থেকে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করলে আলমগীর তাদের পক্ষে অবস্থান নিতেন। গত বছর ২২ সেপ্টেম্বর কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ উপস্থিত উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ে ঢুকে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। এসব কারনে কর্তৃপক্ষ শেখ আলমগীরের কাছে লিখিত কৈফিয়ত তলব করেন। কিন্তু তিনি কোন প্রকার জবাব দিতে ব্যর্থ হন। এসব কারণে তার ওপর কোম্পানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই নাখোশ ছিল। সর্বশেষ কর্তৃপক্ষ ওজোপাডিকোকে একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে তার চাকরির চুক্তি নবায়ন করেনি। এখন সিবিএ নেতা আলমগীর তার চাকরি নবায়নের জন্য ওজোপাডিকোর উর্ব্ধতন মহল, মন্ত্রণালয় ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার দারাস্থ হচ্ছেন। মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে দেন-দরবার শুরু করেছেন। ফলে ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান,অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলায় লিপ্ত থাকা, কর্তৃপক্ষের সাথে দুর্ব্যবহার, ক্ষমতার অপব্যবহার, শ্রম আইন লঙ্ঘন করা আলমগীরের অত্যাচারে সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ। সহকর্মীদের সঙ্গে প্রায়ই খারাপ ব্যবহার করতেন। সিবিএ নেতা হওয়ার পর কোম্পানির একটি গাড়ি ও রুম অন্যায়ভাবে দখল করেন। শ্রমিকদের ব্যক্তিগত কাজে লাগানো এবং বদলি বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। তাই কোম্পানির বিধি অনুযায়ী তার চাকুরিচ্যুত ও সীমা নবায়ন না হওয়ার ঘটনায় হাঁফ ছেড়ে বাঁচেন তারা। এখন বিভিন্ন মহলে দেন-দরবারে ফের আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন তারা।
ওজোপাডিকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিক উদ্দিন বলেন, কোম্পানির সিষ্টেম লসে যারা জড়িত তাদের সহযোগিতা করেছেনে। এতে কোম্পানি ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুগ্ন হচ্ছে। এছাড়া আরও তার বিরুদ্ধে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে। সংগতকারনে তার চাকুরী নবায়ন করা হয়নি।
সিবিএ নেতা আলমগীর তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থাকত তাহলে চাকরিবিধি অনযায়ী কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিত। কিন্তু এগুলোর কোনোটাই হয়নি। শুধুমাত্র তার চাকরি নবায়ন করা হয়নি, যা উদ্দেশ্য প্রণোদিত, খাম খেয়ালিপনা ও ষড়যন্ত্রমূলক। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চাকরী নাবায়নের জন্য চিটি দিয়েছেন। এখন তারা নবায়ন না করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন।