খুলনায় কেডিএ’র ৩টি সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ধীরগতি

0
744

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
বাস্তবায়নে গতি পাচ্ছে না চারশ’ তিন কোটি টাকা ব্যয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনপ্রাপ্ত খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-এর তিনটি সংযোগ নির্মাণ সড়ক প্রকল্প। অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে এ প্রকল্পের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও কার্যত অনুমোদন না মেলায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য কর্মকর্তারা বলছেন, ডিপিপি এখন পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। এরপর একনেক-এর অনুশাখায় যাবে। সেখানে চূড়ান্ত অনুমোদন মিললে বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, খুলনা নিরালা থেকে সিটি বাইপাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়েরমহল এবং দৌলতপুর কৃষি কলেজ (পুরাতন সাতক্ষীরা রোড) থেকে বাস্তুহারা পর্যন্ত তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহণ করে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রস্তাবিত প্রথম সড়কটি নিরালা ১নং সড়ক হয়ে দীঘির পাশ দিয়ে সোজা বাইপাসে গিয়ে মিশবে। এ সড়কটি হবে আড়াই কিলোমিটার। দ্বিতীয় সড়কটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়ের মহল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং তৃতীয় দৌলতপুর কৃষি কলেজ (পুরাতন সাতক্ষীরা রোড) থেকে বাস্তুহারা পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এই তিনটি সড়কের ব্যয় ছিল ৩০১ কোটি টাকা। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন তিন সংযোগ সড়কের মধ্যে নিরালা সড়কের পুরোটা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সড়কটি ময়ূর ব্রীজ পর্যন্ত অর্থাৎ ১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার রেখে বাকিটা বাদ দিয়ে দেয়। ফলে দু’টি সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ১২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে উত্থাপন করে কেডিএ।
সূত্রটি জানায়, চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি একনেক বৈঠকে ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেডিএ’র দু’টি সংযোগ সড়ক প্রকল্প উত্থাপন করা হয়। তখন বৈঠকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান প্রকল্প কেন এতো ছোট করা হলো? তখন তৎকালীন কেডিএ চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন প্রকল্পে তিনটি সংযোগ সড়ক প্রকল্পের নির্মাণের কথা ছিলো। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি ছোট করে ১২৮ কোটি টাকা করেছে। তখন প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় ৩০১ কোটি টাকার আগে পাঠানো তিনটি সংযোগ সড়ক প্রকল্পের পুরোটাই অনুমোদনের ঘোষণা দেন এবং ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। এরপর একনেকের সভায় সিদ্ধান্ত হয় প্রথম প্রকল্পের তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের সঙ্গে অবশ্যই বাড়তি ব্যয় সংযুক্ত করতে হবে। সে অনুযায়ী প্রকল্প রিভাইস করে ফের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল (ডিপিপি) পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকা। জানা গেছে, এরপরও নিরালা সড়কটি ৪ লেনের পরিবর্তে দুই লেন নির্মাণ করতে হবে বলে জানায় পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু এতে আপত্তি জানায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)। ঐ আপত্তির প্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সাব কমিটির ঐ বৈঠকে একনেকে ঘোষণা অনুযায়ী তিনটি সংযোগ সড়ক অর্থাৎ ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে অনেক যুক্তির প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশন নিরালা সড়কটি ৪ লেনে নির্মাণে সম্মতি দেয়। কেডিএ নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন বলেন, ডিপিপি এখন পরিকল্পনা কমিশনে রয়েছে। এরপর প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)-এর অনুশাখায় যাবে। ঐ শাখায় চূড়ান্তঅনুমোদন মিললে তখন বাস্তবায়ন কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।