খুলনার হেরাজ মার্কেটে ৩য় দিনে প্রশাসনের অভিযান : দু’ফার্মেসীকে জরিমানা

0
1531

# দুইটি গোডাউন ও ফার্মেসীতে সিলগালা : মালিক পলাতক
# অভিযান অব্যাহত থাকবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
কামরুল হোসেন মনি:
বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নেতৃত্বে র‌্যাব-৬ এর একটি টিম হেরাজ মার্কেটে তৃতীয় দিনের অভিযানে নামেন। চলে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। ৩ ঘন্টার এই অভিযানে মার্কেটের নিচতলা ও ২য় তলায় কয়েককটি ফার্মেসীতে অভিযান চালানো হয়। এসময় মার্কেটের নিচতলার হেনা মেডিকেল হল (মডেল ফার্মেসী) থেকে মেয়াদউত্তীণ ও স্যাম্পল ওষুধ জব্দ করা হয়। এসময় দোকানের মালিক এসএম আজিজুর রহমানকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ২য় তলায় তরফদার ফার্মেসীতে স্যাম্পল ওষুধ (বিক্রি নিষিদ্ধ) পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানের মালিক এনামুল হককে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসেন ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন।

এর আগের দিন মঙ্গলবার ওই মার্কেটের ৩য় ও ৪র্থ অবস্থিত গোডাউনগুলোতে ভ্রম্যামান আদালতের নেতৃত্বে র‌্যাব-৬ অভিযানে নামেন। কিন্তু মালিক উপস্থিত না থাকা ও স্থানীয় ড্রাগ সুপার ও টেকনিক্যাল সাপর্ট না থাকায় ওই সব গোডাউনগুলের মেইন গেটে সিলগালা করে রাখেন। ওই দুটি ফ্লোরে প্রায় ২৫-৩০টির মতো গোডাউন রয়েছে।

গতকাল বুধবার অভিযানের সময় গোডাউনের মালিকদের উপস্থিত থাকার জন্য হেরাজ মার্কেট ওষুধ ব্যবাসয়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার সরকার শিবকে অনুরোধ জানিয়েছিলেন জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
বুধবার অভিযানের সময় হেরাজ মার্কেটের নিচ তলায় শুভ ফার্মেসী, শাহীন মেডিকেল হল, মেসার্স এ্যাপোলো মেডিকেল হল, পাপপু মেডিকেল হল, খান ড্রাগ হাউজ, মেডিসিন প্যালেসসহ কয়েকটি ফার্মেসীগুলো বন্ধ দেখা যায়।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ জাকির হোসেন বলেন, মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গোডাউনের সামনে প্রচুর ওষুধ পড়ে থাকতে দেখেন। ওই ওষুধগুলো মেয়াদোর্ত্তীন, অনুমোদনহীন ও লাইসেন্সবিহনী। ওই সব জব্দ করেন। স্থানীয় ড্রাগ অধিদপ্তরের ড্রাগ সুপারসহ বুধবার গোডাউনে অভিযান পরিচালনা করি। এ সময় গোডাউনের সামনে রক্ষিত ইউনানী, আয়ুর্বেদীক এবং এ্যালোপেথিক কোন ধরনের অনুমোদন নেই। ড্রাগ সুপার উপস্থিতিতেই এগুলো যাচাই-বাছাই এর জন্য ড্রাগের ওয়েবসাইটে যে ওষুধ আছে বিশেষ করে ইউনানী, আয়ুর্বেদী, এ্যালোপেথিক সার্চ করা হয়। ওই সময় দেখা যায় এগুলো অবৈধ এগুলো জব্দ করি। এছাড়া দুইটি গোডাউনের মধ্যে ৩/৩ নম্বর গোডাউনের মালিক কমরেশ ও ৩/৫ নম্বর গোডাউনের মালিক আঃ লতিফ শেখ উপস্থিত না থাকায় সিলগালা করা হয়। এ সময় তাদের গোডাউনে মধ্যে বিপুল পরিমান ওষুধ জব্দ করি। যেগুলো সরকারি নিষিদ্ধ ওষুধ, ভায়াগ্রা বিপকল্প যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, বিক্রি নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধও জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ওষুধ বিনামুল্যে রোগীদের দেয়ার কথা সেগুলো বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকে চুরি এখানে বিক্রি করা হতো। ওই গোডাউনের মালিকের নিজের যে (ফামের্সী শো রুম) রয়েছে যেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে কমরেশ এর পাপপু মেডিকেল হল ও আঃ লতিফ শেখের সালমা ড্রাগ হাউস এই দুইটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। যেহেতু মালিক পাওয়া যায়নি সেকারনে গোডাউন ও শো-রুম সিলগালা করাসহ তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। মালিক না পাওয়ায় সাজা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারি রেজিস্ট্রার ডাঃ শৈলান্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন মেয়াদোর্ত্তীন ওষুধ বা ইনজেকশন নেয়ার কোন সুযোগ নেই। কেউ যদি ওই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে থাকেন তাহলে ওই ব্যক্তির শারীরিকভাবে যে কোন ধরনের রিয়াকশন হতে পারে। ওই ব্যক্তির কিডনি, লিভার, পাকস্থলী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। এমনকি ওই ব্যক্তির মৃত্যুও ঘটতে পারে। কারণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, ওষুধ নয় ওটা পয়েজিং হিসেবে গন্য করা হয়।
অভিযানে র‌্যাব-৬ এর সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন ওই মার্কেটের গোডাউন ও ফার্মেসী দোকানে ভারতীয় নিষিদ্ধ ওষুধ, যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট, সরকারি ওষুধ, ভেজাল ও নিম্মমানের ওষুধগুলো বিভিন্ন জায়গায় বিক্রির উদ্দেশ্যে মওজুদ রাখা হয়। এ রকম তথ্যের ভিত্তিতে ভ্রম্যমান আদালতের মাধ্যমে তারা অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে বিপুল পরিমান ভারতীয় বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধসহ ভেজলা ও নি¤œ মানের ওষুধ ছিল। এ সময় ওষুধ ভর্তি বিপুল সংখ্যক কার্টন জব্দ করা হয়। ওষুধগুলো ট্রাক ভর্তি করে র‌্যাব কার্যালয়ে রাখা হয়েছে।
খুলনার অতিরিক্ত ড্রাগ সুপার রেহান হাসান বলেন, অভিযানের সময় ওই মার্কেটের দুইটি গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমান বিক্রি নিষিদ্ধ সরকারি ওষুধ, সেক্সসুয়াল ওষুধ, ভারতীয় ওষুধ, হারবাল কোম্পানীর বিভিন্ন ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। জব্দগুলো ওষুধগুলো ভেজাল ও মেয়াদোর্ত্তীর্ণ ওষুধ রয়েছে। এছাড়া অনিবন্ধিত ওষুধও রয়েছে। পাশাপাশি লাইসেন্সবিহীন ওষুধ দোকানগুলো পরিচালনা হচ্ছে কি না তাও দেখা হয়। তিনি বলেন, এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
সূত্র মতে, খুলনাঞ্চলের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সরকারি বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ সাধারন রোগীদের না দিয়ে একটি চক্র বাইরে পাচার করে দিতেন। যার অধিকাংশই চুরিকৃত ওষুধ হেরাজ মার্কেটে এনে মওজুদ করা হতো। এর আগেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় ড্রাগ সুপার একাধিকবার অভিযানে তা জব্দ করেন। এছাড়া ভেজাল, নি¤œমান ও অনিবন্ধিত ওষুধ, ফুড সাপ্লিমেন্ট ওই মার্কেটে বিভিন্ন গোডাউনে মওজুদ করে সুযোগ বুঝে গ্রামঞ্চলের বিভিন্ন ফার্মেসী ও কোয়াক ডাক্তারদের কাছে অসাধু ওষুধ ব্যবসায়ীরা বিক্রি করতেন। এছাড়া ভারতীয় আমদানী নিষিদ্ধকৃত ওষুধ ও যৌন উত্তেজক ওষুধ চোরাই পথে এনে ওই খানে রাখা হতো। গ্রামঞ্চলের সাধারণ মানুষ ওই গুলো সরল মনে বিশ্বাস করে তা সেবন করতেন। ওই মার্কেটে তয় ও ৪র্থ তলায় প্রায় ২৫-৩০টির মতো গোডাউন রয়েছে।