খুলনার মানিকতলা পূর্ব সেনপাড়া বস্তি বাসীদের পূনবাসনের জায়গা ভরাটে বাঁধাঃ উত্তেজিত এলাকাবাসীর সড়ক অবরোধ

0
801

ফকির শহিদুল ইসলামঃ

মানিকতলস্থ আনসার ফ্লাওয়ার মিলের সামনে বড় পুকুরটি বালু দ্বারা ভরাট কাজ শুরুতেই বস্তিবাসীদের বাধা প্রধান । আজ সকালে পুকুরটি ভরাটের কাজ শুরু হলে স্থানীয় বস্তিবাসীরা ভরাট কাজের পাইপ খুলে রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল বের করে । বিক্ষোভকারীদের দাবী তারা দির্ঘ ৩৫/৪০ বছর এ জমিতে বসবাস করে আসছেন । অথচ তাদের কোনরুপ নোটিশ না দিয়ে আজ সকালে পুকুরটি বালু দিয়ে ভরাটের কাজ শুরু হলে পুর্ব সেনপাড়া ও পশ্চিম সেনপাড়ার বস্তিবাসীরা একত্রিত হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন । তারা খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে করতে স্থানীয় সংসদ বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান এমপির দ্বারস্থ হন । এ সময় সংসদ তাদেরকে পূনবাসনের জন্য গৃহিত পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে জানান ।
জানাগেছে, খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা ও মিরেরডাঙ্গার মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর ১৩.৩০ একর জমি দির্ঘ দিন যাবত অবৈধ দখলে রেখে স্থানীয় নিন্ম আয়ের লোকজন বসবাস করে আসছে । তাদের এ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কল্পে নোটিশ প্রদান করে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড । এ সময় বিস্তবাসীরা স্থানীয় সংসদ সদস্যের মাধ্যমে তাদের পূর্ণবাসনের দাবি জানিয়ে আসছিল । বস্তিবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে মেঘনা পেট্রোলিয়াম কোম্পানী তাদের ভূমি ব্যাবহারকারীতের একটি একটি তালিকা প্রনয়ন করে । তালিকায় মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর ১৩.৩০ একর জমি ও পুকুর ভোগদখলকারী হিসেবে ২৫৪টি পরিবারের নাম অন্তভুক্ত করেন । তালিকাভূক্ত বস্তিবাসীদের ক্ষতিপুরনে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর ১৩.৩০ একর জমির মধ্য থেকে কিছু অংশে জমিতে তাদেরকে পূনবানন করা হবে মর্মে সম্প্রতি সেনপাড়ায় প্রশাসনের উপস্থিতিতে জানিয়ে দেয়া হয় ।
বিদ্যুৎ ,জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের অধিনস্থ বিপিসির সাবসিডিয়ারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড । এ প্রতিষ্ঠানের খুলনাস্থ মহেশ্বরপাশা ও মিরেরডাঙ্গার এর ১৩.৩০ একর অব্যাহৃত জমির উপর ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মানের প্রকল্প গ্রহন করা হয় । চীনের অংশীদারিত্বে ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প বাস্তবায়নে পরিকল্পনা করা হয় । প্রকল্প বাস্থবায়নে প্রকল্প এলাকায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মান কারী ২৫৪টি পরিবারকে এক শতক জমি ও নগত পঞ্চাশ হাজারটাকা করে করে ক্ষতিপুরন দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহন করে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড । সেই লক্ষে প্রকল্প এলাকায় বাউন্ডারী ওয়াল ও মাটি ভরাটের কাজের জন্য খুলনার দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ প্রদান করে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড । গত ১৭-৯-২০১৮ ইং তারিখ মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর মহাব্যাবস্থাপক(এইচ আর) আক্তার হোসেন সাক্ষরিত ২৮,২৩,০০০০,৫০১,২৭,০০৬,১৯-১৮ নং পত্র স্বারকে কেএমপির দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতার অনুরোধ জানানো হয় । ওই পত্রে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড এর কার্যাদেশ প্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এল আর ইন্টারন্যাশনাশ ও মেসার্স এম এম ট্রেডার্স খুলনাকে অনুলিপি প্রদান করা হয় । ১কোটি ২০লক্ষ ২৩হাজার টাকা ব্যায়ে উক্তজমির মাটি ভরাট কাজের কার্যাদেশ পায় মনিরুজ্জামান মুকুলের মালিকানাধীন মেসার্স এম এম ট্রেডার্স । এবং প্রকল্প এলাকার বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানে ১কোটি ৮৬লক্ষ ৪২হাজার ৫শ টাকা ব্যায়ের কার্যাদেশ পান খুলনা জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাদুর রহমান লিংকন ।
এ ব্যাপারে কথা হয় মেসার্স এম এম ট্রেডার্স এর সত্বাধিকারী মনিরুজ্জান মুকুলের সাথে ,তিনি বলেন আমরা নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আজ যেখানে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করেছিলাম এই জমিতেই ক্ষতিগ্রস্থ পরিবাদের পূর্নবাসন করা হবে । অথচ একটি স্বার্থানেশী মহল নিজেদের স্বার্থে বস্তিবাসীদের ব্যাবহার করে আমাদের ভরাট কাজে ব্যাবহৃত পাইপসহ প্রায় ৪লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে সাধারন বস্তিবাসীদের উসকে দিয়েছে । তিনি বলেন এ জমিতে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প ৪০০ মেগাওয়াট পাওয়ার প্লাট তৈরি করা হবে । আমরা এ প্রকল্পের কার্যাদেশ পেয়ে স্থানীয় অধিবাসী ও গন্যমান ব্যাক্তিদের সাথে নিয়ে তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত করি । আমরা তাদের পূনবাসনের বিষয়ের সিদ্ধান্ত বাস্থবায়নে তাদের সকলের সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা এ কাজে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন । কিন্ত আজ যখনই কাজ করেতে আমাদের লোকজন সাইড এলাকায় পৌছামাত্র একটি স্বার্থানেশী মহল তাদেরকে মদদ নিয়ে এ অপকর্ম করেছে ।

খানজাহান আলী থানা যুবলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ সাজ্জাদুর রহমান লিঙ্কন বলেন, “সেনপাড়া বস্তিটি মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ১৩.৩০ একর জমি রয়েছে । সরকার এই জমিতে চারশ’ মেগাওয়াটের পাওয়ার প্লান্ট প্রকল্প গ্রহন করে। এখন ওইখানে যারা দির্ঘদিন যাবত বসবাস করে আসছেন তাদেরকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম পুনর্বাসন করার জন্যে কিছু জায়গাতে তালিকাভুক্ত ২৫৪টি পরিবারকে পুনর্বাসন করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা রাখা হয়েছে । খুলনা জেলা প্রশাসন হতে ২৫৪টি পরিবারকে ক্ষতাপুরোনের তালিকা তৈরি করেছিল। সে তালিকা অনুযায়ী ২৫৪ পরিবারকে এক শতক জমি ও পঞ্চাশ হাজার করে টাকা দেয়া হবে বলে মেঘনা পেট্রোলিয়াম পরিকল্পনা নেয়। যেখানে তাদের পুনর্বাসন করা হবে সেখানের পুকুরে বালি ভরাট করছিলাম। এখন তারা ওই পুকুরে বালি ফেলতে দেবে না। আমি মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ওই টেন্ডারটির ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছি। আমি এখানে ঠিকাদার মাত্র; অন্য কোন কিছু নই। এটা ডিসি, জ্বালানী প্রতিমন্ত্রী, স্থানীয় এমপিসহ সকলেই জানেন। এখন হয়তো কারো উসকানীতে ওরা এসব করছে।
দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী মোস্তাক আহমেদ বলেন, পূর্ব ও পশ্চিম সেনপাড়া বস্তি ও সড়কের পরিবেশ স্বভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । যাতে কোনরুপ পরিস্থিতির অবনতি না হয় সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েছিল পুলিশ । এই ঘটনায় কোন মামলা হয়নি,বা কাউকে আটক-গ্রেফতার করা হয়নি। মারপিট ও গণগ্রেফতারের অভিযোগ সঠিক নয় বলে তিনি জানান ।

মানিকতলাস্থ সিএসডি গোডাউন শ্রমিক জয়নাল,আফসার,মালেক আক্ষেপ করে বলেন, সেনপাড়ার বস্তির ৩০ থেকে ৩৫ বছরের অধিক সময় বসবাস করছেন এ বস্তিতে। ইতিমধ্যে বস্তির নিচু স্থানে ঠিকাদাররা বালি ভরাট শুরু করলে আজ শনিবার সকালে বাধা দেন স্থানীয় বস্তি বাসী । পরে বস্তি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার ভয়ে তারা খুলনা-যশোর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রর্দশন করেন ।একদিকে বস্তিবাসীদের বিক্ষোভ অন্যদিকে সাবেক কাউন্সিলর শাহাদাৎ মিনার ভাই রাজা রেলে পুকুর ভরাট করে চালিয়ে যাচ্ছেন জমজমাট বালুর ব্যাবসা । আর রেলের এ বিরাট প্রকৃতিক জলাশয়টি রেলের কর্মকর্তাদের না জানিয়ে রাতের অন্ধকারে ভরাট করে । এরপর পাইপ লাইনের মাধ্যমে বালি এনে রেললাইনের পাশদিয়ে বালুর পাড়ার বানিয়ে এ্যাসকেভেটর দিয়ে ড্রাম ট্রাকে করে বালু সরবরাহ করছে । এর ফলে একদিকে রাস্তায় চলাচল রত যাত্রীদের চোঁখে বালি যাচ্ছে এবং ট্রেনের যাত্রীরা পড়ছেন চরম ভোগান্তিতে । স্থানীয়া অবিলন্বে রেলের জায়গায় বালুর ব্যাবসা বন্ধে রেল কতৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্থক্ষেপ কামনা করছেন ।