খুলনার মতো গাজীপুরে নির্বাচন করতে পারবে না: মোশাররফ

0
439

অনলাইন ডেস্কঃ

খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মতো গাজীপুরে সরকার একই রকম নির্বাচন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

শুক্রবার (২৫ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব ড্যাবের আয়োজনে শহীদ জিয়ার ৩৭ তম শাহাদত বার্ষিকী ও খালেদা জিয়ার সু-চিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দেশবাসীর উদ্দেশে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আগামী নির্বাচন নিয়ে এই সরকারের নীল নকশা আপনারা খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে দেখেছেন। খুলনায় দলীয় ও প্রশাসনের মাধ্যমে ভোট ডাকাতি করেছে তারা। এখন গাজীপুরেও একই নীল নকশা করছে। তবে খুলনায় যা করেছে গাজীপুরে তা করতে পারবে না। কারণ গাজীপুর আর খুলনার মানুষ এক নয়। খুলনার অভিজ্ঞতা মূল্যায়ন করে সরকারের কূটকৌশল প্রতিহত করার জন্য আমরা আমাদের কৌশল পরিবর্তন করে মাঠে থাকবো। এমপি-মন্ত্রীদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করানোর জন্য সংসদে নির্বাচনী আইন সংশোধন করা হয়েছে। যেন আমরা গাজীপুর নির্বাচন থেকে সরে আসি। কিন্তু আমাদের সরানো যাবে না। শেষ সময় পর্যন্ত মাঠে থাকব।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘এই সরকারের পতন হবে আমাদের আগামী আন্দোলনের প্রধান ইস্যু। আদালত দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না। মুক্তি হবে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে। সময়ই বলে দেবে কি ধরনের আন্দোলন হবে। নরম আন্দোলন হবে না গরম আন্দোলন হবে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের নামে সরকারের মানুষ হত্যার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে এখন একটি মাদকবিরোধী অভিযান চলছে। রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষও জানে মাদকের মূল হোতা কারা। আন্তর্জাতিকভাবে কারা মাদক ব্যবসা করে। কোন এমপি কোন মন্ত্রী এ ব্যবসা করে এসব সবাই জানে। প্রত্যেক নির্বাচনী এলাকায় সরকার দলীয় এমপি ও নেতাকর্মীর ছত্রছায়া ছাড়া কোন মানুষ মাদক ব্যবসা করতে পারে না। একই সঙ্গে প্রশাসনের সহযোগিতা ছাড়া কেউ মাদক ব্যবসা করতে পারে না। অথচ তাদেরকে গ্রেপ্তার করছে না। সাধারণ মাদক বহন করা লোকটিকে ধরে ধরে হত্যা করছে। তাদের জিজ্ঞাসা করলে নেতাদের নাম বলবে বলে হত্যা করা হচ্ছে। এছাড়া, তাদের হত্যা করার আরেকটি কারণ হল নির্বাচনের বছরে মানুষের মধ্যে ভয় ঢুকিয়ে দেয়া। যেন মানুষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস না পায়।’

খন্দকার মোশাররফ বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতে গেছেন। বার বার যান। কয়েকবার ভিজিট করেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের মরা বাচার সমস্যা হলো তিস্তার পানি। সেই পানি নিয়ে কোন আলোচনার বিষয়-বস্তু আনতে পারেন না। কোনদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সাথে পানি নিয়ে আলোচনা করতে পারেন না। এই জন্য মানুষের আশঙ্কা হচ্ছে ভারত গিয়ে ১৪ সালের ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের মতো কোন ষড়যন্ত্র করছেন কি না। এবার যদি তিস্তার পানি চুক্তি নিয়ে ভালো কোন খবর আনতে পারেন তাহলে মনে করব আপনার সফর যৌক্তিক। না হলে মানুষের আশঙ্কাই বাস্তবায়িত হবে। তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি এই ষড়যন্ত্রকে ভয় পায় না। এদেশের জনগণ আগামী দিনে আপনাদের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। বিএনপি তাদের পাশে থাকবে।’

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান লে. কর্নেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বীর প্রতীক, ড্যাব সভাপতি আজিজুল ইসলাম, ড্যাবের সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল শাখার সহ-সভাপতি খায়রুল ইসলাম, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ।