খুলনার তিন উপজেলায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষে ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প

0
533

নিজস্ব প্রতিবেদক
জেলার তিন উপজেলার আর্সেনিক কবলিত ইউনিয়নগুলোতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষে ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাঠানো হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলার ৬ লাখ অধিবাসীদের মধ্যে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষে এ প্রকল্প প্রেরণ করে। তিন উপজেলার ১৭ টি ইউনিয়নে প্রকল্প বাস্তবায়নে ৪৮ কোটি টাকা ব্যয় হবে। উপজেলাগুলো হচ্ছে রূপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়া।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, রূপসা উপজেলার টিএস বাহিরদিয়া, ঘাটভোগ, নৈহাটি, আইচগাতী, শ্রীফলতলা ইউনিয়নের আংশিক, দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি বারাকপুর, গাজিরহাট, দিঘলিয়া, যোগীপোল, আড়ংঘাটা, তেরখাদা উপজেলার আজগড়া, মধুপুর, ছাগলাদাহ, বারাসাত, তেরখাদা, সাচিয়াদাহ ইউনিয়নে ৮০ শতাংশ অগভীর নলকুপ আর্সেনিকে আক্রান্ত। বিশেষ করে রূফসার খাজাডাঙ্গা, তেরখাদার পারখালী, কোদলা, আদমপুর, আদালতপুর, আড়পাঙ্গাশিয়া গ্রামে বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে মানুষ বৃষ্টির পানি সংরক্ষন করে।
তেরখাদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্র জানান, ৬ ইউনিয়নে ৪৬ জন রোগী আর্সেনিকে আক্রান্ত। এখানে প্রতিনিয়ত অগভীর নলকুপের পানি পরীক্ষা করা হচ্ছে। আক্রান্ত রোগীদের জন্য দীর্ঘদিন যাবত ওষুধ সরবরাহ নেই। রোগীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছে উপজেলা সদরের ইখড়িকাটেঙ্গা গ্রামের হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী মুন্নী, বারাসাত ইউনিয়নের হাড়িখালী গ্রামের ফজলুল কবীর মোল্লার পুত্র আজিজুর রহমান মোল্লা, নাচুনিয়া গ্রামের আতিয়ার রহমান খানের পুত্র কবির খা প্রমুখ।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ জাহিদ পারভেজ এ প্রতিবেদককে জানান, তিন উপজেলায় বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহের লক্ষে তিন হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার ১৫শ’ পানির ট্যাংকি, ৩০টি কমিউনিটি ল্যাট্রিন, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উন্নতমানের ল্যাট্রিন, ২২শ’ গভীর নলকুপ, ১৫শ’ ফুট গভীরের ২২৩ টি গভীর নলকুপ ও ২ ইঞ্চি ব্যাসের ৫০টি হস্ত চালিত পরীক্ষামূলক গভীর নলকুপ স্থাপনের লক্ষে ৪৮ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন সাপেক্ষে আগামী বছরের শুরুতেই প্রকল্পের কাজ শুরু হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সূত্রগুলো জানান, আর্সেনিকে আক্রান্ত হয়ে দিঘলিয়া ও রূপসা উপজেলা গত ১০ বছরে ১২ জন নারী পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। আর্সেনিক যুক্ত নলকুপ ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উপকূলবর্তি উপজেলা পাইকগাছায় গভীর নলকুপ স্থাপন সফল হচ্ছে না। পাইকগাছা, দাকোপ ও কয়রায় ৫০ শতাংশ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে ভুগছে। এসব এলাকার মানুষ বৃষ্টির পানির উপর নির্ভরশীল। পাইকগাছার শামুকপোতা ও বটিয়াঘাটার সুরখালীরর ইউনিয়নের মানুষদের বছরের ৮ মাস পানি কিনে খেতে হয়।