খুলনার আলোচিত মাদক সম্রাজ্ঞী জাহানারা ও হোসনে আরাকে আটক করেছে র‍্যাব-৬

0
1097

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনায় মাদক সম্রাজ্ঞী থ্রী সিস্টার নামে পরিচিত টু সিস্টার জাহানারা জানু(৫০) ও হোসনে আরা বেগম (৪৭) কে আটক করেছে র‌্যাব।

সোমবার (৪ জুন) দিবাগত মধ্যরাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৬ খুলনার একটি বিশেষ টিম অভিযান চালিয়ে খুলনা মহানগরীর আড়ংঘাটা থানাধীন পূর্ব বিল পাবলা এলাকা থেকে তাকে আটক করে।

আজ র‍্যাব-৬ এর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত দুই নারী মাদক ব্যবসায়ীকে সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। জাহানারা জানুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আটটি মামলা রয়েছে। হোসনে আরার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে। তারা নগরীর সোনাডাঙ্গা সহ বিভিন্ন পয়েন্টে মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। তারা নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচিত।

এসময় তাদের কাছ থেকে ৫১০ গ্রাম গাজা ও ৪৮ পিস ইয়াবা ১৮ উদ্ধার করে।

র‌্যাব-৬ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(কোম্পানি কমান্ডার) মোঃএনায়েত হোসেন মান্নান জানান,আসামীরা খুলনার সোনাডাঙ্গা সহ বিভিন্ন পয়েন্টে ইয়াবা, ফেন্সিডিল, গাজা পাইকারী চালানদাতা হিসেবে কুখ্যাত।উক্ত মাদক ব্যাবসায়ী তিন বোন ও তাদের পরিবারবর্গ মিলে দীর্ঘ বিশ-পচিশ বছর ধরে এই মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত বলে তারা কে থ্রী সিস্টার নামে পরিচিত।উক্ত মাদক ব্যাবসায়ী দুই বোনের নামে সোনাডাঙ্গা, হরিনটান ও বটিয়াঘাটা থানায় আলাদা আলাদা একাধিক মামলা আছে বলেও র‍্যাবের এই কর্মকর্তা জানান।

আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে খুলনা জেলা আড়ংঘাটা থানায় ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৯(১) এর টেবিল ৭(ক) ও ৯(ক) ধারায় মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জানা গেছে, থ্রি সিস্টার নামক পরিচিতি তিন বোন দুই যুগ ধরে ইয়াবা-ফেনসিডিলসহ নানা মাদক বিক্রি ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। এদের আত্মীয় স্বজনও এই ব্যবসায় জড়িত। জাহানারা ওরফে জানু, হোসনে আরা ও লুৎফার নাহার লুতু এই তিন বোন মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকায় এলাকায় এরা থ্রি সিস্টারস নামে প্রশাসনসহ এলাকায় বাসী কাছে পরিচিত। সোমবার র‌্যাবের হাতে জানু ও হোসনে আরা বেগম আটক হলেও অপর বোন লুৎফার নাহার লুতু গা ঢাকা দিয়েছেন।

তার আত্মীয় স্বজনের মাধ্যমে এ ব্যবসায় চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে জাহানার চাচাতো ভাই সোহরাব বাহাদুর ওরফে সরো মাছ বিক্রির পাশা পাশি মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতেন। আইন শৃঙ্খলার বাহিনীর হাতে আটকও হয়েছেন। এছাড়া জাহানারার মেয়ে জামাই মাস্টার রাজু নামে পরিচিত সেও ইয়াবা ব্যবসার সাথে জড়িত। সেও একাধিকবার মাদকসহ আটক হন। জাহানারার বোন হোসনে আরার স্বামী বাবুল মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা একাধিকবার আইনশৃঙ্খরা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছেন। এছাড়া তাদের মাদকগুলোকে নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে পৌছায় দেয়ার জন্য সোহরাব ওরফে সরো ও তার স্ত্রী, ইকবাল ও তার স্ত্রী , হারুন, ফারুকসহ ৮-১০ জন মিলে একটি মাদক বিক্রির সিন্ডিকেট রয়েছে। তারা নগরীর সোনাডাঙ্গা বৌ বাজার সংলগ্ন ২২ তলা নামক স্থানে মাদকের আকড়া গড়ে তোলেন। থ্রি সিস্টার্স এর ওই খানে নিজের আলাদা ঘর তুলে ভাড়া দিয়েছেন। এছাড়া সোনাডাঙ্গার থানা সামনে হোসনে আরা, জাহানারা ও লুতুর আলীশান বাড়িও রয়েছে যা সম্পুর্ণ সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রিত।

২০১৭ সালের ১১ নভেম্বর জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান ওই থ্রি সিস্টার্স বাসায় অভিযান পরিচালনা করলে সিসি ক্যামেরায় আওতাধীন বাড়িটি ধরা পড়ে।

এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, থ্রি সিস্টার্স নামক খ্যাত ওরা তিন বোন মাদক বিক্রেতারা হিসেবে নগরীতে পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীদের একাধিকবার আটক হয়েছে। পরবর্তীতে আইনের ফাকফোকর দিয়ে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও এই ব্যবসায় নেমে পড়েন। থ্রি সিস্টার্স বোন জানুর বাসায় আমরা অভিযান পরিচালনা করলে দেখা যায়, রাস্তা থেকে তার বাড়ির ভেতরসহ চারপাশে সিসি ক্যামারায় নিয়ন্ত্রিত ছিলো। ওই সিসি ক্যামারা দিয়ে তারা সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করতো।