খুমেক হাসপাতালে অনিয়মরোধে তত্ত্বাবধায়কের নানান উদ্যোগ গ্রহন : সুফল পাচ্ছেন রোগীরা

0
531

কামরুল হোসেন মনি:
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (খুমেক)’র রোগীদের খাবারে ব্যাপক অনিয়ম, পর্যাপ্ত ওষুধ থাকা সত্বেও রোগীরা না পাওয়া, সার্টিফিকেট বাণিজ্য, বহিঃ বিভাগে দালাল চক্র সক্রিয়, রোগীদের কাছ থেকে জোর পুর্বক টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতির চিত্র ধরা পড়ে। এ সব অনিয়মের বিরুদ্ধে নতুন তত্ত্বাবধায়ক নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। এ প্রদক্ষেপ নেয়ার পর ইতিমধ্যেই হাসপাতালের ভর্তিকৃত রোগীরা এর সুফল পেতে শুরু করেছেন। আর হাসপাতালে ঘাপটি মেরে থাকা অনিয়ম ও দুর্ণীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারিরা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। মঙ্গলবার রোগীদের সাথে কথা বলে এ সব তথ্য পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটি এম এম মোর্শেদ বলেন, অনিয়ম ও দুর্ণীতি খবর যেখানে পাচ্ছি সেখানেই নিজেই হাজির হচ্ছি। ইতিমধ্যেই কয়েকটি বিষয় অনিয়ম পাওয়ার পর সেখান থেকে দায়িত্বদের সরিয়ে আনা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগে দুই কর্মচারিকে শোকজ করা হয়েছে। খাবারের অনিয়ম পাওয়ায় রান্না ঘরে দায়িত্ব থাকা ফ্রি সার্ভিস বেলালকে বের করে দেয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এইসব অনিয়ম ও দুর্ণীতি না হয় সে জন্য হাসপাতালের রান্না ঘরসহ গুরুত্বপুর্ণ স্থানে সিসি’র ক্যামেরায় আওতায় আনা হয়েছে। সাটিফিকেট বাণিজ্য বিষয়ে বহিরাগত দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, রোগীরা যাতে দালালদের খপ্পরে না পড়েন সেই জন্য সতর্কতা ও নীতিগত বার্তা উল্লেখ করে জরুরী বিভাগ ও বহিঃ বিভাগের প্যানা টানানো হয়েছে। এছাড়া সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত দালাল বিষয়ে সর্তকতা করে মাইকিং করা হচ্ছে। এছাড়া দালালমুক্ত করার জন্য কেএমপি’র ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব-৬ তাকে সব সময়ই সহযোগিতা করছেন। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও হাসপাতালে অনেক জায়গায় সংস্কারের জরুরী হয়ে পড়েছে। যেহেতু এই কাজটি পিডাব্লিউডি করে থাকেন সেকারণে এই সব কাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে। যদি এই কাজগুলো তার হাসপাতালে নিয়ন্ত্রন থাকতো তাহলে অনেক আগেই তিনি নিজ উদ্যোগেই সংস্কারের কাজ করিয়ে নিতে পারতেন। তিনি বলেন, একার পক্ষে একবারে এইসব অনিয়ম দুর করা সম্ভব না, সেক্ষেত্রে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
খুমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই নতুন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটি এম এম মোর্শেদ হাসপাতালের গাইনী ও লেবার ওয়ার্ডে আকষ্মিকভাবে পরিদর্শনে যান। এ সময় রোগীদের সকালে নাস্তায় ব্যাপক অনিয়ম ও ডেলিভারি রোগীদের কাছ থেকে জোরপুর্বক অর্থ আদায়ের বিষয়টি হাতে নাতে ধরে ফেলেন। অর্থ নেয়ার অভিযোগে ওই সময় তিনি দুই কর্মচারিকে শোকজ করেন। এর আগে গত ৩ জুলাই সাড়ে সাত কেজি ডালের স্থলে দু’কেজি ডাল দিয়ে রান্না এবং মাছের পরিবর্তে ডিম দেয়ার বিষয়টি হাতে-নাতে ধরেন তত্ত্বাবধায়ক। পরে এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন তিনি। এই সব অনিয়ম ও দুর্ণীতিরোধে নতুন তত্ত্বাবধায়ক নানান পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। এর মধ্যে রান্না ঘর, বহিঃ বিভাগসহ গুরুত্বপুর্ণস্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরায় আওতায় আনা হয়েছে। যাতে তার চোখ ফাকি দিয়ে হাসপাতালের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারিরা অনিয়ম ও দুর্ণীতি করতে না পারেন। এই উদ্যোগটি আগত রোগীরা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সরেজিমনে মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, আগে যেভাবে অনিয়মভাবে খাবার সরবরাহ করা হতো এখন তা হচ্ছে না। রোগী নাজমা বেগম জানান, সকালের নাস্তা হিসেবে বর্তমানে ৮পিস রুটি, ১টি ডিম ও ১টি কলা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া দুপুরের খাবার হিসেবে মুরগীর মাংস, ডাল ও ভাত দেয়া হচ্ছে। এর আগে হাসপাতালে রোগীদেরকে রূটি ৭ পিসের পরিবর্তে ৪ পিস ও অনেক রোগীদের ডিমও দেয়া হতো না। তার মতো অনেক রোগীরা জানান, ভর্তি হওয়ার পর থেকে হাসপাতাল থেকেই সব ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। আমার আগে যেসব রোগীরা ভর্তি ছিল তাদের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, আগে এসব ওষুধ অনেক রোগীরা পেতো না। এছাড়া দুপুরের মাংসের পরিমান আগের চেয়ে বেশি পাওয়া ও ডাল ও ভাতের মানও ভাল দেয়া হচ্ছে। যা রোগীরা এসব থেকে দিনের পর দিন বঞ্ছিত ছিল।
নতুন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটি এম এম মোর্শেদ এ্সব অনিয়ম হাতে নাতে ধরার পরই হাসপাতালে রোগীদের এখন থেকে সরকারি নিয়মনানুযায়ী খাবার সরবারহ করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক রোগীরা ওষুধের পাওয়ার সুফলও পেতে শুরু করেছেন। এই নিয়ে দৈনিক প্রবাহ’ একটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। এই রিপোর্টের ভিত্তিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটি এম এম মোর্শেদ সিনিয়র চিকিৎসকদের নিয়ে বৈঠক করেন। বৈঠকে ওষুধ পাচারসহ অনিয়মের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গিকার করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে হাসপাতালের খাবার অনিয়ম, ভর্তিকৃত রোগীরা ওষুধ না পাওয়া, রোগীদের সাথে খারাপ ব্যবহার, ইনজুরি সার্টিফিকেট বাণিজ্য, বহিঃ বিভাগে দালাল চক্র আনাগোনা, রোগীদের কাছ থেকে ফ্রি সার্ভিস ও চতুর্থশ্রেনী কর্মচারিরা জোরপুর্বক টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম ও দুর্ণীতি চরম আকারে ধারন করেছিল। বিষয়টি ভুক্তভোগীরা সাবেক তত্ত্বাবধায়ককে অবহিত করলেও তিনি কার্যকারি কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেননি বলে ওই সূত্রটি জানায়। নতুন তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ এটিএম মঞ্জুর মোর্শেদ আসার পর একের পর এক দুর্ণীতি ও অনিয়ম ধরায় হাসপাতালে ঘাপটি মেরে থাকা দুর্ণীতিবাজরা আতংকগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে নতুন তত্ত্বাবধায়ক একের পর এক রোগীদের স্বার্থে নানান পদক্ষেপ গ্রঞন করায় হাসপাতালে আসা আগত রোগীরা সুফল পেতে শুরু করেছেন। ##