খুমেক হাসপাতাল পরিচালকের বিতর্কিত কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ ডাক্তার-কর্মচারীরা : প্রতিবাদ করায় বদলী চিকিৎসক

0
233

নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের বিরুদ্ধে কর্মরত ডাক্তারকে লাঞ্ছিতের অভিযোগসহ নানা বিতর্কিত কর্মকা-ের কারণে ফুসে উঠেছে চিকিৎসকরা। এছাড়াও একক সিদ্ধান্তে নিয়ম বর্হিভূতভাবে বহিরাগতদের দিয়ে হাসপাতালে তদারকি কমিটি গঠন করে স্বাভাবিক কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টির প্রতিবাদ করায় হাসপাতালে বহি: বিভাগে মেডিকেল অফিসার (মেডিসিন মহিলা) ডা: সুমন রায়কে বদলী করা হয়। কর্মরত ডাক্তার বাপ্পী রায়কে লাঞ্ছিত করার ঘটনার পর থেকেই চিকিৎসকরা ক্ষোভে ফুসে ওঠেন। অপরদিকে কর্মচারীদের হয়রানী, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে নিজ এলাকার লোক নিয়োগসহ নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডে ক্ষুব্ধ হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সার্বিক বিষয়ে জানার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সী রেজা সেকেন্দারকে গত তিনদিন ধরে ফোন দিলে তিনি নিজে ফোন রিসিভ না করে অন্যদেরকে দিয়ে রিসিভি করাচ্ছেন। এর আগে হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সী রেজা সেকেন্দার এই প্রতিবেদককে বলেছিলেন কাজ না করলে বকাবকি করি। স্টাফদের বাপ-মা তুলে গালিগালাজ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার মনে নেই। ডাঃ বাপ্পী রায়কে গালিগালাজ করা হয়নি। তাকে শুধু চেম্বার থেকে বেরিয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে তিনি ওই সময় দাবি করেন। বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডা: এসকে বাহারুল আলম সোমবার ২৬ অক্টোবর দুপুরে এই প্রতিবেদককে বলেন, খুমেক হাসপাতালে পরিচালক ডাঃ মুন্সী রেজা সেকেন্দারের বিরুদ্ধে ডা: বাপ্পী রায়কে লাঞ্ছিত করার ঘটনা আমাকে মৌখিকভাবে ভুক্তভোগী ওই চিকিৎসক অবহিত করেছিলেন। আমি বিষয়টি জানার পর তাদেরকে লিখিতাবে আমাদের সংগঠনকে জানাতে বলেছি। কিন্তু তারা কেউ লিখিতভাবে অবহিত করেনি। লিখিত স্টেটমেন্ট পেলেই আমি সাথে সাথে এর বিরুদ্ধে এ্যাকশানে যেতাম। ডা: সুমন রায়কেও পরিচালকের নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য বদলী করানোর বিষয়টি আমি শুনেছি। কোন সরকারি হাসপাতালের কোন কর্তৃপক্ষ নিজের ব্যক্তি স্বার্থের জন্য বদলী করাতে পারেন না। সুমন রায়কে বদলীর আদেশে তিন কার্যদিবসের আগে বদলীর ছাড়পত্র দিতে পারেন না। ওটা পরিচালক নিয়ম বহির্ভূত কাজ করেছেন। যদি কি না বদলীটি স্ট্যান্ড রিলিজ না হয়ে থাকে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগী কল্যাণ সমিতির আজীবন সদস্য ও তদারিক কমিটি সদস্য আল মাসুম খানের বিষয় তিনি বলেন, কোন সরকারি হাসপাতালের প্রতিষ্ঠানে বেসরকারিভাবে কোন সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান জড়িত থাকার নিয়ম এখতিয়ার নেই এবং এইসব কমিটিতে হাসপাতালের কর্তৃপক্ষও সংযুক্ত থাকতে পারেন না। যদি কেউ থাকেন সে নিয়ম বহি:ভূর্ত কাজ করেছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজের উপাধক্ষ্য ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা: মেহেদী নেওয়াজ রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, ডা: সুমন রায় আমাকে লিখিত আকারে ওই সব ঘটনার বিবরণ দিতে চেয়েছিলো। কিন্তু বিষয়টি জাতে সহজেই সবাই বসে সমাধান করা যায় সে ভাবে প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ডা: সুমন রায়কে বদলীর বিষয় নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি বিষয়টি তিনি কিছুই জানে না। এছাড়া আল মাসুম খানের কিছু নিয়ম বহির্ভূত কর্মকান্ডের বিষয়টি তিনি হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সী রেজা সেকেন্দারের কাছে অবহিত করেছেন। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন রায় জানান, সম্প্রতি নিজের চোখের চিকিৎসার জন্য পাশে সহকর্মীর চেম্বারে যান। চিকিৎসা নিতে রোগিরা ভোগান্তীতে না পড়েন, সে জন্য আমি না আসা পর্যন্ত ডা: বাপ্পী রায় রোগীদের দেখছিলেন। এসময় হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগে তার চেম্বার ২১২ নম্বর রুমে যান হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মুন্সী রেজা সেকেন্দার। সেখানে আমাকে (ডা: সুমন রায়) না পেয়ে বাপ্পী রায়কে দেখে উত্তেজিত হয়ে পড়েন এবং হাসপাতালের স্টাফসহ রোগীদের সামনে অপমান করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। তাকে ওই রুম থেকে বের করে দেন। ঘটনা জানতে পেরে অন্যান্য সহকর্মীরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বিষয়টি নিয়ে তারা লিখিতভাবে তার সংগঠনকে উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) খুলনা শাখার সাধারণ সম্পাদক ডা: মেহেদী নেওয়াজ তাকে নিষেধ করেন। এ বিষয়টি তিনি দেখবেন। যার কারণে লিখিতভাবে ডা: বাপ্পী রায় ঘটনাটি জানায়নি। হাসপাতালের সাথে সম্পৃক্ত নন মো: আল মাসুম খানকে নিয়ে পরিচালক একটি তদারকি কমিটি গঠন করেছেন। ওই কমিটি গঠনের বিষয়ে অন্যান্য চিকিৎসকরাও কিছু জানেন না। হঠাৎ করেই হাসপাতালের বিভিন্ন অংশের দেওয়ালে ওই কমিটির পোস্টার লাগানোর জন্য আনা হয়। যা নিয়ে সাধারণ চিকিৎসকরা ক্ষুব্ধ। বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলেও পরিচালক এ বিষয়ে কারও সাথে কথা বলেননি। পরিচালকের অনিয়মের বিরুদ্ধে আমি ( ডা: সুমন রায়) প্রতিবাদ করায় তাকে বদলী করা হয়। ডা: সুমন রায় বলেন, আমাকে বদলী করে ক্ষান্ত হননি। আমাকে এক দিনের মাথায় বদলীর ছাড়পত্র দিয়েছেন। যা নিয়ম বর্হিভূত। আমি হাসপাতালের পরিচালকের অনিয়মের বিষয় প্রতিবাদ করায় আমাকে বদলী করেন তিনি। খুমেক হাসপাতালের (আইএমও) নিউরোলজী মেডিকেল অফিসার ডাঃ বাপ্পী রায় বলেন, ‘চোখের চিকিৎসার জন্য ডাঃ সুমন রায় পাশের ডাক্তারের ওখানে গেলে আমি তার চেম্বারে বসে রোগী দেখছিলাম। যাতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগিরা ভোগান্তীতে না পড়েন। এ সময় পরিচালক ডা: মুন্সী রেজা সেকেন্দার রুমে এসে রোগী ও হাসপাতালের স্টাফদের সামনে আমার টেবিল থাপড়ে গালিগালাজ করেন। এ সময় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা আতংকিত হয়ে পড়েন। আমাকে ‘বিয়াদবের বাচ্চা’সহ হাসপাতালের স্টাফ ও রোগীদের সামনে অকথ্য ভাষা উচ্চরন করেন। আমাকে রুম থেকে বের করে দেন। পরে আমরা অন্যান্য সহকর্মীরা মিলে তার চেম্বারে গেলেও ওই ঘটনায় তিনি সেভাবে রেসপন্স করেননি।’
খুলনা কৃষক লীগ খুলনা মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস সজিব এ প্রতিবেদককে বলেন, দেশের করোনাকালীন সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী অসহায় মানুষদের বিতরনের সময় আল মাসুম খান তার ফেসবুকে সরকার বিরোধী ‘একটি মৃত্যু’র ক্ষুধা দুর্ভিক্ষের ছবি’ পোস্ট ও প্রচারনা করেন। তৎকালীন বিষয়টি খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নজরে আসে। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের নিদের্শক্রমে তাকে বহিস্কারের নির্দেশ প্রদান করেন। যার কারণে সরকার বিরোধী পোস্ট বা প্রচারনা করায় আল মাসুম খানকে খুলনা কৃষক লীগ বহি: স্কার করা হয়। পাশাপাশি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকেও তাকে বহি:স্কার করা হয়েছিলো। জনৈক মোহাম্মদ আল মাসুম খান নিজেকে সাংবাদিক ঐক্য জোট খুলনা জেলা শাখা আহবায়ক হিসেবে পোস্টার ছাপানো ও ফ্রেসবুকে তুলে ধরার বিষয়ে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন ( কেইউজে) সভাপতি মুন্সী মাহবুব আলম সোহাগ জানান, ওই সব সংগঠনের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বা এ ধরনের কোন সংগঠন নেই। কেউ যদি সংগঠন তৈরি করে অপকর্মে করে থাকেন এর দায়ভার আমাদের না। এছাড়া আল মাসুম খান নামক কোন সংবাদিক আমি চিনি না।