খুবির চারুকলা ইনস্টিটিউটের ৪ দনব্যাপী প্রদর্শনীতে থাকছে দু’শতাধিক শিল্পকর্ম

0
349

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে শনিবার সকাল ১১ টায় কবি জীবনানন্দ দাশ একাডেমিক ভবনের ইংরেজি ডিসিপ্লিনের স্মার্ট ক্লাস রুমে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. আহমেদ আহসানুজ্জামান চারদিনব্যাপী আয়োজিত এই শিল্পকর্ম প্রদর্শনী সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন।
এ সময় ইনস্টিউটের তিনটি ডিসিপ্লিনের প্রধানবৃন্দ যথাক্রমে প্রিন্টমেকিং ডিসিপ্লিনের ড. নিহার রঞ্জন সিংহ, ড্রইং এন্ড পেইন্টিং ডিসিপ্লিনের চৈতন্য কুমার মল্লিক, ভাস্কর্য ডিসিপ্লিনের জাহিদা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিনসমূহের শিক্ষকবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেক্ট্রনিক, প্রিন্ট এবং অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে এই প্রদর্শনীর গুরুত্ব ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যাদি উল্লেখ করে বলা হয় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অন্তর্গত ড্রইং এ্যান্ড পেইন্টিং, প্রিন্টমেকিং ও ভাষ্কর্য ডিসিপ্লিনের বর্তমান শিক্ষার্থী ও পুরাতন ০২(দুইটি) ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দ তাদের সৃজনশীল কাজ নিয়ে ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০১৮’ আয়োজন করতে যাচ্ছে। সেই উপলক্ষ্যে ২৫ ফেব্রæয়ারি ২০১৮ থেকে ২৮ ফেব্রæয়ারি ২০১৮ পর্যন্ত চারদিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন হবে ২৫ ফেব্রæয়ারি বিকেল ৪টায়, এছাড়া থাকবে বাউল উৎসব। ২৬ ফেব্রæয়ারি বিকেল ৫.৩০টায় চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে থাকবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২৭ ফেব্রæয়ারি সন্ধ্যা ৭ টায় ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মঞ্চায়িত হবে নাটক হ্যামলেট। ২৮ ফেব্রæয়ারি সকাল ১০.৩০ টায় পুরস্কার বিতরণী এবং অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা বিকেল ৫.৪৫ টায়। শিল্পকর্ম প্রদর্শনী চলবে ২৫ ফেব্রæয়ারি থেকে ২৮ ফেব্রæয়ারি প্রতিদিনই বেলা ১২ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত।
প্রদর্শনীতে দুই শতাধিক শিল্পকর্ম স্থান পাবে। মোট উনচল্লিশটি শিল্পকর্ম পুরস্কৃত হবে। তিন ডিসিপ্লিনের তিনটি কাজ শশিভ‚ষণ পাল গ্রান্ড এ্যাওয়ার্ডে ভ‚ষিত হবে। বাকি পুরস্কারগুলো প্রতিটি ক্লাসের সেরা কাজের জন্য প্রদান করা হবে। প্রদর্শনীর শিল্পকর্মগুলো বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি নান্দনিকভাবে উপস্থাপন করবে। এ-প্রদর্শনী খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ তথা বিশ্বের শিল্পজগতে প্রবেশের প্রাঞ্জল স্বাক্ষর।
তিনি বলেন একটি দেশের শিল্প-সাহিত্য সে-দেশ ও জনগোষ্ঠীর মনন তৈরি করে, চেতন ঋদ্ধ করে। মঙ্গলালোকের দিশারী সৃষ্টিশীল মানুষ তাঁদের কর্মের মাধ্যমে নিজ নিজ ঐতিহ্য ও জনপদকে মূর্ত করেন; তাঁদের সৃষ্টিতে সাধারণ মানুষ প্রেরণা খোঁজে, পায় সামনে এগিয়ে যাওয়ার দীপ্ত প্রেরণা। বাংলাদেশের শিল্পী-কবি-সাহিত্যিকেরা সবসময় দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
দেশের ক্রান্তিকালে তাঁদের সৃষ্টিকর্ম সাধারণ মানুষের কথা বলেছে। তাঁরা তাঁদের কাজের মাধ্যমে যেমন ১৯৪৩-এর মনন্তরকে চিত্রার্পিত করেছেন, তেমনি তাঁরা আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশবাসীকে মুক্তিমন্ত্রে উদ্দীপিত হতে প্রেরণা যুগিয়েছেন। এবারের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতেও শিল্পকলার কলাকৈবল্যবাদী দিক প্রকাশের পাশাপাশি চিত্রাভাসে ফুটে উঠবে জনমুখি নন্দন। যা শিল্পকলার নূতনতর সম্ভাবনার উৎগাতা হিসেবে চর্চিত হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
তিনি আরও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের অন্তর্গত ড্রইং এ্যান্ড পেইন্টিং, প্রিন্টমেকিং ও ভাষ্কর্য ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজ নিয়ে ‘বার্ষিক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী ২০১৮’ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সংবাদ আপনাদের মাধ্যমে প্রচারিত হলে, এই প্রসার নতুন শিল্পিদের প্রাণনা যোগাবে। এই আয়োজনে এতদ্অঞ্চলের মানুষের স্বতঃস্ফ‚র্ত অংশগ্রহণ আমাদের প্রাণিত করবে।#