খুবি’তে বহিরাগতদের সাথে ছাত্রদের সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগ

0
894

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খানজাহান আলী (খাজা) হলের সামনে মাঠে সিনিয়র ডিভিশন লীগ-২০১৮ খেলা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে সংঘর্ষে দুই পক্ষের ১৩ জন শিক্ষার্থী সহ বহিরাগত ৩ জন আহত হয়েছে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষুব্ধ হয়ে খাজা হলের সম্মূখের গেটে ৪টি মোটরবাইক আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে।

জানা যায়, স্লেজিং করাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। সিনিয়র ডিভিষন ফুটবল লীগ-বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১২ই অক্টোবর থেকে ২০শে অক্টোবর পর্যন্ত চুক্তিভিত্তিক মাঠ ব্যাবহারের অনুমতি নেয়।

১২ই অক্টোবর (শুক্রবার) বিকাল ৩ টায় খেলা শুরু করার পূর্বে মটর সাইকেল শোডাউন দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় গেটে বহিরাগতরা প্রধান ফটক থেকে ঢোকার চেষ্টা করলে প্রথমে বাধার সৃষ্টি করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন,
প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীরা জানায়, খুলনা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগের পঞ্চম ম্যাচটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত হচ্ছিলো। খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পর বহিরাগত সমর্থকরা খালিশপুর এসবি আলী ক্লাবের খেলোয়াড়দের লক্ষ্য করে কটূক্তি শুরু করে।

একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসিই ডিসিপ্লিনের ১৫তম ব্যাচের একজন শিক্ষার্থী এর প্রতিবাদ করেন।খেলা চলাকালীন সময় ঐ শিক্ষার্থীকে সমর্থকেরা মাঠ থেকে ধাওয়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেটে নিয়ে যায়,এ সময় প্রতিবাদী শিক্ষার্থীকে সমর্থকরা ব্যাপক মারধর করেন। এ খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে আবাসিক হলগুলোর শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে খেলার মাঠের আক্রমণকারী সমর্থকদের ধাওয়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য আটকে ফেলেমারধর করেন। এ সময়  মারধর করে বহিরাগত ৭-৮ জনকে আটকেও রাখেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা এবং চারটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে।

উলেখ্য, সার্কিট হাউজ ময়দানে উন্নয়ন মেলার কারণে খুলনা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগে টাউন ক্লাব ও খালিশপুরের এসবি আলী ক্লাবের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালে এ সংঘর্ষ ঘটে।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে খুলনা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘খেলা বন্ধ করে ছেলেদের ফিরিয়ে নিয়ে এসেছি। এখন সব ঠিক আছে।’

হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম খান বলেন, ‘সমর্থক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত। মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ, মারপিট ও কয়েকজনকে আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। উভয়পক্ষের পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চলছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক পরিচালক (ডি.এস) ড. শরীফ হাসান লিমন বলেন, ‘জরুরি মিটিং কল করা হয়েছে, কিছুক্ষণের ভেতরেই আটকে রাখাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’

সূত্র জানায়, খুলনা সার্কিট হাউজ ময়দানে উন্নয়ন মেলার কারণে ১২ থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে মাঠটি ব্যবহারের অনুমতি নিয়েছিল খুলনা সিনিয়র ডিভিশন ফুটবল লীগ কর্তৃপক্ষ।