খানজাহান আলী (রহ:) এর জীবনাদর্শকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে: বিভাগীয় কমিশনার

0
702

খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ লোকমান হোসেন মিয়া বলেছেন, আধ্যাত্মিক সাধক মহাপুরুষ হযরত খানজাহান আলী (রহ:) এর আদর্শকে বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। নতুন প্রজন্মের মাঝে মোবাইল-ইন্টারনেট এবং মাদকের প্রতি যে আসক্তি সৃষ্টি হয়েছে তা থেকে দুরে রাখতে এই মহামনীষির জীবনশিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

তিনি আজ সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে সুশাসক ও আধ্যাত্মিক সাধক পীর খানজাহান আলী (রহ:) এর ৫৫৮ তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে কুইজ, কবিতা পাঠ ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং আলোচনা সভা ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। খুলনা হেরিটেজ মিউজিয়াম ও বাংলাদেশ ডিবেটিং সোসাইটি খুলনা যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রধান অতিথি বলেন, খানজাহান আলী (রহ:) একাধারে একজন সমাজ সংস্কারক, একজন স্থপতি এবং একজন শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তার সময়কার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তিনি ছিলেন একজন অত্যন্ত দুরদর্শী সুশাসক। তিনি অত্যাচারী রাজাকে উচ্ছেদ করে মানবতার ধর্ম প্রচার করলেন। তিনি একদিকে ছিলেন অলিয়ে কামেল প্রসিদ্ধ বুজুর্গ অপরদিকে ছিলেন একজন বিজেতা ও ন্যায়পরায়ন রাষ্ট্রনায়ক। এ অঞ্চলে খলিফাতাবাদ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে তিনি বারোবাজার হতে শুরু করে যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটসহ সুন্দরবনের গভীরে নির্মাণ করেছিলেন অসংখ্য দালানকোটা, মসজিদ, রাস্তাঘাট আর খনন করেছিলেন সুপেয় পানির জন্য বিশাল বিশাল দীঘি। ষাট গম্বুজ মসজিদ তার স্থাপত্য শিল্পের এক অপূর্ব নিদর্শন। শৈল্পিক গুণ আর অনুপম সৌন্দর্য্যরে জন্য এটি আজ ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ হিসেবে স্বীকৃত।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, বতর্মান সমাজ এক ভোগবাদী সমাজ, আমরা সবাই আজ পন্যদাস। কিন্ত এই মহামনীষি নিজের কথা ভাবেননি। তিনি ভেবেছিলেন সাধারণ মানুষের কল্যাণের কথা। তার এই শিক্ষাকে কাজে লাগাতে পারলে আমাদের আজকের ভঙ্গুর সামাজটাকে নতুন করে নির্মাণ করা যাবে।

অনুষ্ঠানে মূখ্য আলোচক হিসেবে মুলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা হেরিটেজ মিউজিয়াম এর সভাপতি ও উপভূমি সংস্কার কমিশনার এস এম রইজ উদ্দিন আহম্মদ। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস এবং প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোঃ বি করিম। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ নূর ই আলম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। পরে প্রধান অতিথি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। তথ্য বিবরণী