কয়রায় সড়কে বেহাল দশা, দুর্ভোগ

0
692

আজিজুর রহমান, কয়রা থেকে :
খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের চণ্ডীপুর গ্রামের বেড়িবাঁধ থেকে হরিকাটি এলাকা পর্যন্ত সংযোগ সড়কের প্রায় তিন কিলোমিটার অংশে বেশ কিছু স্থানে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ওই এলাকার বাসিন্দাসহ সড়ক ব্যবহারকারীরা। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে দুর্ভোগের মাত্রা আরও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ওই এলাকার ওয়াপদা রাস্তা থেকে হরিকাটি গ্রামের প্রবেশমুখে সড়কে বড় বড় গর্ত। সম্প্রতি বৃষ্টি হওয়ার কারণে গর্তগুলোতে পানি জমে যাওয়ায় সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। কাঁদাপানিতে সয়লাব সড়কে থেমে থেমে ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরণের ছোট বড় যানবাহন চলাচল করছে। সড়কের এই ভাঙাচোরা অবস্থা মসজিদপুর ও হরিকাটি গ্রাম পর্যন্ত।

চণ্ডীপুর গ্রামের বাসিন্দা খুলনা সরকারি ব্রজলাল কলেজের শিক্ষার্থী সুদীপ্ত বিশ্বাস বলেন, চণ্ডীপুর থেকে সকালে ওই সড়ক দিয়ে মসজিদপুর কিংবা হরিকাটি যাওয়াটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। সড়কে বড় বড় গর্ত ও ধ্বস। আর রাত আটটার পর এই সড়ক দিয়ে চলাচল করা সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, দিন দিন এই সড়কের অবস্থা আরও খারাপ হচ্ছে। এলাকার ফসলি জমি থেকে ফসল সংগ্রহ করাটাও খুবই কষ্টসাধ্য।

ওই গ্রামের আরেক বাসিন্দা সুশঙ্কর সরকার বলেন, সড়কের এই বেহাল দশার কারণে চলাচলের ক্ষতি হচ্ছে। বৃষ্টি নামলেই সড়ক কাঁদামাটিতে নাজুক হয়ে পড়ে। তিনি আরও বলেন, রাস্তাটি আর্ধেকেরও কম ইটের সোলিং ছিল। কিন্তু সংস্কার না করায় এ অবস্থাররূপ ধারণ করেছে।

স্থানীয়রা জানান, ওই এলাকার তিনটি গ্রামে প্রায় এক হাজার দুই’ শ লোকের বসবাস। সেখানে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মন্দির। প্রতিদিন স্কুলগামী শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের দৈনন্দিন কাজের জন্য ওই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে সড়কের বেহাল দশার কারণে ব্যবহারে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। তারা সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

চণ্ডীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক উদ্দভ ঢালী বলেন, বেহাল দশার এই সড়কটি আমাদী ইউনিয়নের ভেতরে পড়েছে। আমরা অনেকবার এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ভোটের আগে সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি থাকলেও নির্বাচন সম্পন্নের পর আর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে আমাদী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমির আলী গাইন খুলনাটাইমসকে বলেন, সড়কটি যেহেতু এলজিইডির আওতায় পেড়েছে তাই কর্তৃপক্ষ মাপঝোখ করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কয়রা উপজেলা প্রকৌশলী শামসুর আলম মুঠোফোনে খুলনাটাইমসকে বলেন, সড়কটি সংস্কার করার জন্য প্রাথমিক পর্যায়ের সকল প্রকার কাজ করা হয়েছে। এরপর কাজটির জন্য দরপত্র দেওয়া হবে। তবে বর্ষা মৌসুমের আগে রাস্তাটি সংস্কার করা সম্ভব নয়।