ক্ষোভে ফুঁসে ওঠা খুবি, অতঃপর কুয়েট, বিএল কলেজ

0
568

নিয়ামাতুল্লা আল মারুফ, খুবি থেকেঃ

“চাইলাম অধিকার, হয়ে গেলাম রাজাকার”
এই স্লোগানে খুবিতে বুধবার ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে শিক্ষার্থীরা কোটা প্রথা সংস্কার আন্দোলনে অংশগ্রহন করে। এসময় তারা কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরির ‘রাজাকার বাচ্চা’ মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানায়।

সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত খুলনা বিশ্ববিদ্যলয়ের ক্যাম্পাসের হাদী চত্তর প্রাঙ্গণে গত দিন মঙ্গলবার(০৯ এপ্রিল) সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ বুধবার সকালে অধিকাংশ ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার মানববন্ধনে অংশগ্রহন করে।
এ সময় শিক্ষার্থীরা কোটার সংস্কার পক্ষে নানা স্লোগান দিয়ে ক্যাম্পাস প্রকম্পিত করে তোলে। এ সময় মানববন্ধনে কোটা সংস্কার, মতিয়া চৌধুরির মন্তব্য প্রত্যাহার, অতি উৎসাহী অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত এর বিষয় উঠে আসে। মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহন ছিল চোখে পড়ার মত।

 

 

অপরদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত কোটা সংস্কার অান্দোলন এর কেন্দ্রীয় কমিটির পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী খুলনার শহরের শিববাড়ী মোড়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে অবস্থান গ্রহণ করে। মিছিলটি ক্যাম্পাস থেকে শুরু হয়ে গল্লামারি, ময়লা পোতা মোড় হয়ে শিববাড়ী মোড়ে পৌছে।এরপরে সেখানে একে একে খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বি.এল. কলেজ অংশগ্রহন করে।অবস্থান কর্মসূচী চলতে থাকে দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত।

এ সময় অবস্থান কর্মসূচির মাঝে খবর আসে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড.মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান কোটা সংস্কার নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, যা কিনা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে আরও চাঙ্গা করে তোলে।

 

 

উপাচার্য তার বিবৃতিতে বলেন -প্রকৃত মেধার মূল্যায়নে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটার যৌক্তিক সংস্কার সঙ্গতভাবে বিবেচনা প্রয়োজন। গত কয়েক দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কার দাবিতে যে কর্মসূচী পালন করেছে তাতে একাডেমী কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে। উপাচার্য আশা করেন কোটা সংস্কার বিষয়টি সরকার গুরুত্ব সহকারে দেখবেন।

বিকেলে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে কোটা প্রথা বাতিল ঘোষনা দেন। বাতিল সংবাদ শুনে শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলন কেন্দ্রের ঘোষনা অনুযায়ী প্রত্যাহার করে এবং শিক্ষার্থীরা জানান কোটা সংস্কার আন্দোলন এর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। সর্বশেষ জাতীয় সঙ্গীত এর মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সমাপ্তি টানেন তারা।