ক্রিকেটারদের মানসিকতায় বড় বদল দেখছেন বাংলাদেশের ট্রেনার

0
467

স্পোর্টস ডেস্কঃ
‘শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে’-মারিও ভিল্লাভারায়ন যখন বলছেন, তার চোখেমুখে তৃপ্তির আভা। বাংলাদেশ দলের এই ট্রেনার বলছিলেন ফিটনেস নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মানসিকতা বদলাতে কতটা পরিশ্রম করতে হয়েছে। এখন সেই পরিশ্রমের ফল মিলছে, ভিল্লাভারায়ন যেটিকে মনে করছেন বড় পাওয়া।

ফিটনেস টেস্ট দিয়ে রোববার থেকে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ দলের আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের প্রস্তুতি। শ্রীলঙ্কায় ত্রিদেশীয় সিরিজের পর ঘরোয়া ক্রিকেট খেলেছেন ক্রিকেটারদের অনেকে। এরপর ছিল ছুটি। নতুন অভিযান শুরুর আগে কার ফিটনেস কোন অবস্থায়, এ দিন সেটি পরখ করলেন ভিল্লাভারায়ন।

ছুটির পর ক্রিকেটারদের ফিটনেসে মোটামুটি সন্তুষ্ট ট্রেনার। তবে তার সবচেয়ে বড় তৃপ্তি ফিটনেস নিয়ে ক্রিকেটারদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোয়। এক সময় ট্রেনার-ফিজিওর করে দেওয়া রুটিন মানতে অনেক আপত্তি দেখা যেত অনেক ক্রিকেটারের। রুটিনের বাইরে কিছু তো করা হতোই না। এখন সেই ছবি বদলে গেছে অনেকটাই।

এবারই যেমন, এই ছুটির সময়েও শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের জিমে নিয়মিত ফিটনেস ট্রেনিং করতে দেখা গেছে ক্রিকেটারদের অনেককে। ফিটনেস নিয়ে খুব সচেতন নন বলে একসময় যার বিরুদ্ধে ছিল অভিযোগ, সেই তামিম ইকবাল এই পুরো সময়টাতেই ডায়েট করে, জিমে ঘাম ঝরিয়ে কাজ করেছেন ফিটনেস আরও ধারাল করতে।

ভিল্লাভারায়ন এসবকেই মনে করছেন বড় অর্জন। চার বছর আগে ট্রেনারের দায়িত্ব নেওয়ার সময় যেমন মানসিকতা দেখেছিলেন ক্রিকেটারদের, এখন সেখানে পরিবর্তন দেখতে পান অনেক।

“বিশাল পরিবর্তন হয়েছে, অনেক বড় পরিবর্তন। আজকে সকালেই আমি ছেলেদের বলছিলাম, চার বছর হয়ে গেল। ২০১৪ সালের মে মাসে এসেছিলাম। দারুণ চারটি বছর কাটল। অনেক বদল এসেছে। এবারই যেমন কলম্বোতে ছুটি কাটানোর সময় আমি জানতে পারলাম, তামিম নিজের তাগিদেই ফিটনেস ট্রেনিং করছে। আরও অনেকেই নিজে থেকে করছে। এসব আমাকে দারুণ তৃপ্তি দিয়েছে।”

“আমি যখন এখানে এসেছিলাম, ঠিক এমনটিই চেয়েছিলাম। চেয়েছিলাম যে মূল দায়িত্বটি ক্রিকেটারদেরই নিতে হবে এবং নিজের তাগিদে ফিটনেস ট্রেনিংয়ের অভ্যাস গড়তে হবে। সেই কারণেই বলছি, ছেলেদের মানসিকতায় অনেক উন্নতি হয়েছে।”

মানসিকতা বদলানোর লড়াইটি সহজ ছিল না। সাবেক এই শ্রীলঙ্কান পেসার জানালেন, অনেক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টায় এসেছে আজকের এই সুদিন।

“শুরুতে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে আমাকে। ওদেরকে বোঝাতে হয়েছে কেন এটা ভীষণ জরুরি। সেই পরিশ্রমের ফল মিলতে শুরু করেছে। সবাই এখন অনেক সচেতন। আমি তো আজীবন এখানে থাকব না। তবে আশা করি, আমি যাওয়ার পরও ওরা এমনই থাকবে।”

গত কিছু দিনে বাংলাদেশের ক্রিকেটে তুমুল আলোচনা ছিল গা গরমের ফুটবল খেলতে গিয়ে ইনজুরি। ট্রেনার হিসেবে ট্রেনিংয়ের পদ্ধতিগুলো ঠিক করেন ভিল্লাভারায়ন। ফুটবলে ঝুঁকিটা তিনি অস্বীকার করলেন না। তবে নিজের কাজটা ঠিকভাবে করে আসছেন বলে দাবি জানিয়ে সতর্ক হতে বললেন ক্রিকেটারদেরই।

“আমার চার বছরের মেয়াদে এবারই প্রথম মনে হয় ফুটবলে ইনজুরি হলো। আর হয়নি। গত দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে মুস্তাফিজ অ্যাঙ্কেলে চোট পেল, তবে সেটা সরাসরি ফুটবল ছিল না। হাঁটার সময় মচকে যায়, খেলায় নয়।”

“যখন আমি থাকি, তখন আমি একটি গাইডলাইন ঠিক করে দেই যে এভাবে খেলতে হবে। যেন বিশৃঙ্খলভাবে না খেলে। এজন্যই জাতীয় দলে খেলার সময় ফুটবলে বড় কোনো ইনজুরি গত চার বছরে হয়নি। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে বা অন্য জায়গায় তো আমি দেখভাল করতে পারব না। অবশ্যই এখানে ঝুঁকি আছে। দায়িত্বটি ক্রিকেটারদের নিজেদেরই নিতে হবে। নিজের ভালো বুঝতে হবে।”