ক্রমাগত হয়রানির স্বীকার বাগেরহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার শাহজাহান

0
192

বাগেরহাট প্রতিনিধি:
কতিপয় দুর্বৃত্তের হাতে ক্রমাগত হয়রানির স্বীকার একাত্তরে দেশ মাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা বাগেরহাটের বীর মুক্তিযোদ্ধা সরদার শাহজাহান আলী। সাংবাদিকদের কাছে হয়রানির বিবরন দিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান বলেন, দুর্বৃত্তরা আমাকে ষড়যন্ত্র করে একটি মিথ্যা হত্যা মামলা আসামী করে ফাঁসানোর চেস্টা করেছে। পুলিশের তদন্তে ওদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হওয়ায় সে যাত্রা রক্ষা পেয়েছি। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট ধারায় আমার প্রতিপক্ষরা সে মামলায় আসামী হয়েছে। এরপর দুর্বৃত্তরা আমিসহ আমার স্ত্রী ও নাতির উপর সন্ত্রাসীরা হামলা করে আমাদের জখম করেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হলেও সম্পুর্ন সুস্থ হতে পারিনি। ওরা আমার বসত বাড়ী ভাংচুর করে অর্থ ও মালামাল লুট করে নিয়েছে। যতবার ওরা আমার উপর সন্ত্রাসী হামলা করেছে প্রতিবারই আমি পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু ওরা প্রতিবার মিথ্যা কাউন্টার অভিযোগ দিয়ে ন্যায় বিচারকে শুধু বিঘিœতই করে না আমাকে হয়রানি করে চলেছে। আমার বাড়ীর পিছনে খাল এবং সামনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সড়ক রয়েছে। সড়কে মাটি দেয়ার নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কতিপয় কর্মচারীর সাথে যোগসাজোস করে আমার বাড়ী থেকে বের হওয়ার রাস্তা কেটে সেখানে বিশাল গর্ত করে রেখেছে। আমার বসবাসের শেষ আশ্রয় টুকু যেকোন মুহুর্তে পড়ে যাওয়ার আশংঙ্কা রয়েছে। আমাকে অমুক্তিযোদ্ধা বানানোর জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়, জেলা প্রশাসক, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত দিয়েছে। আমাকে ভুয়া আখ্যায়িত করে পত্রিকায় খবরও ছাপিয়েছে এই চক্রটি। সরকারের দেয়া সম্মানী ভাতা পেলেও জীবন জীবিকার প্রয়োজনে বাদাম বিক্রি করি। সেখানেও বাধা দেয়ার চেস্টা করেছে এই কুচক্রি মহল। যৌবনে সহযোদ্ধাদের সাথে মিলে দেশকে হানাদার মুক্ত করতে সক্ষম হলেও জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দুর্বৃত্তদের নানাবিধ হয়রানির ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বলে আক্ষেপ করে জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা সাহজাহান সরদার। তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর আহবানে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছি সেই থেকে আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক হিসাবে নৌকায় ভোট দিয়ে যাচ্ছি। যেহেতু আমি খেটে খাওয়া গরীব এবং অশিক্ষিত মানুষ তাই দলের কোন কমিটিতে আমি নাম লেখাতে যাই না। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগে ভোট দেয়ার অপরাধে সে নির্বাচনে ক্ষমতায় আসা বিএনপিরা আমাকে মেরেছে। তারপরও আওয়ামী লীগ ত্যাগ করি নাই। নড়াইল থেকে এসে এখানে বসতি স্থাপন করা আজিজুর রহমান হিরক নামে একব্যাক্তি নব্য আওয়ামী লীগার হয়ে আরো ২/১ জনকে সাথে নিয়ে কখনও প্রকাশ্যে কখনও সরাসরি আমাকে ক্রমাগত হয়রানি ও নির্যাতন করে চলেছে।