কোভিড উত্তর ডি-৮ মহামারী সহায়তা মডেল তৈরির আহ্বান মোমেনের

0
17

টাইমস ডেক্স: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন কোভিড যুগের পরে সদস্য দেশগুলোর জীবন ও জীবিকা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সকল ডি-৮ দেশের মধ্যে একটি টেকসই-মহামারী সহযোগিতা মডেল তৈরির প্রস্তাব করেছেন।

তিনি বলেন, ‘সকল সদস্য দেশের অভিন্ন স্বার্থ নিশ্চিতে আমি আন্তরিকভাবে সবার জন্য উপযুক্ত একটি ডি-৮ ডিজিটাল মার্কেটপ্লেস এবং একটি সর্বজনীন মহামারী-উত্তর সহযোগিতা মডেল তৈরি করার প্রত্যাশা করছি।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বুধবার সভাপতি হিসেবে ডি-৮-এর ১৯তম কাউন্সিল অব মিনিস্টারস (সিওএম)-এ ভার্চ্যুয়ালি বক্তৃতা করছিলেন। ডি-৮-এর অপর সাত সদস্য রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এতে যোগ দেন।
উন্নয়নশীল-৮ নামেও পরিচিত ডি-৮ অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা আটটি উন্নয়নশীল মুসলিম-প্রধান দেশ- বাংলাদেশ, মিশর, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও তুরস্ক নিয়ে গঠিত।
মোমেন বলেন, বিশ্ব অর্থনীতিতে কোভিড-১৯-এর বিরূপ প্রভাব হ্রাস করতে বাংলাদেশ ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার মাধ্যমে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সকল উপায় অন্বেষণে সচেষ্ট হবে।
তিনি বলেন, ‘গোটা বিশ্ব কোভিড-১৯ মহামারী সৃষ্ট নজিরবিহীন বিশ্ব জনস্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক সংকট পার হচ্ছে এমন এক সময়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের, ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রসমূহের আগের চেয়ে আরো বেশি করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তাগিদ বোধ করছি।’
মোমেন বলেন, বাংলাদেশ কেবল পণ্য নয়, পরিষেবার জন্যও বাজারে অবাধ ও ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকারে বিশ্বাসী।
তিনি বলেন, ‘একটি ডি-৮ ইনকিউবেশন উদ্যোগ বিবেচনার জন্য একটি ভাল বিকল্প হতে পারে।’ বাংলাদেশ এক্ষেত্রে ডি -৮ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান-শেয়ারিং ও সংযোগ বৃদ্ধিতে দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।’
তিনি বলেন, ‘এটি স্পষ্টতই ডি-৮ সরকার ও বেসরকারি খাতকে ডি-৮ সদস্য দেশগুলো কীভাবে কোভিড-১৯ যুগের অভিজ্ঞতার আলোকে যোগাযোগ, নেটওয়ার্কিং এবং সহযোগিতা আরও গভীর করতে এগিয়ে আসতে পারে তা তুলে ধরতে সহায়ক হবে।’
সিওএম চলাকালীন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পরের দু’বছরের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সিওএমের সভাপতিত্ব হস্তান্তর করেন।
১৯৯৯-২০০১-এর সময়কালে দুই বছরের জন্য ডি-৮ এর সভাপতির দায়িত্ব পালনের কথা উল্লেখ করে মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশ দুই দশক পরে দ্বিতীয়বারের মতো ডি-৮-এর সভাপতির পদ গ্রহণ করতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এটি এমন এক সময়ে হতে যাচ্ছে যখন আমরা একই সঙ্গে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন করছি।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, স¤প্রতি বাংলাদেশ এলডিসি গ্রুপের দেশ থেকে উত্তরণের জন্য জাতিসংঘের মানদ- পূরণ করেছে। ‘এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে ডি-৮-এর সভাপতিত্বের সুযোগ পেয়ে আমরা সত্যিই সম্মানিত এবং আনন্দিত,’ তিনি যোগ করেন।
সদস্য দেশগুলোর কাছ থেকে আরো বিনিয়োগ ও বাণিজ্য অর্জনের লক্ষ্যে ঢাকা বৃহস্পতিবার ভার্চ্যুয়ালি দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন এবং বাকি সাত ডি-৮ সদস্য রাষ্ট্রের তার সমকক্ষরা এই শীর্ষ সম্মেলন তাদেও নিজ নিজ পক্ষের নেতৃত্ব দেবেন। সম্মেলনের এবারের প্রতিপাদ্য হলো- ‘রূপান্তরকামী বিশ্বের জন্য অংশীদারিত্ব: যুবশক্তি ও প্রযুক্তিকে শক্তিশালীকরন।’
মোমেন বলেন যে এই বছরের থিমটি এই বিষয়টি মাথায় রেখে বেছে নেওয়া হয়েছে যে ডি-৮ সদস্য দেশগুলোর যুবকরা চতুর্থ শিল্প বিপ্লব (৪ আইআর) থেকে উপকৃত হতে পুরোপুরি প্রস্তুত থাকবে এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির চির পরিবর্তনশীল বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে সুসজ্জিত হবে।
ডি-৮ দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা ১১০ কোটি, যার মধ্যে ২০.৭ কোটি বা প্রায় ১৯ শতাংশের বয়স ১৫-২৪ বছরের মধ্যে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ডি-৮কে একটি প্রাণবন্ত, গতিশীল ও কর্মচঞ্চল সংস্থায় রূপান্তর করতে আমাদের কেবল এই যুবকদের অসীম সম্ভাবনা কাজে লাগানো প্রয়োজন।’
আগামীকাল শীর্ষ সম্মেলনে ডি-৮-এর বর্তমান চেয়ার, তুরস্ক আগামী দু’বছরের জন্য বাংলাদেশের কাছে সভাপতিত্ব হস্তাস্তর করবে। এ সময় ‘ডি-৮ দশক-ওয়ারি রোডম্যাপ ২০২০-২০৩০’ এবং ‘ঢাকা ঘোষণা ২০২১’ গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here