কোটা সংস্কারের দাবিতে খুলনায় শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট

0
1013

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, কোটা বৈষম্যের ঠাঁই নাই’ শ্লোগানকে সামনে রেখে খুলনার বিসিএস সহ সকল সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে গণ পদযাত্রা ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

আজ মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, খুলনা বিভাগীয় কমিটির ব্যানারে গণ পদযাত্রা শুরু হয়ে খুলনা নগরীর শিববাড়ী মোড় গোলচত্তরে অবস্থান নেয়।এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচী গ্রহন করে।

 

 

পরে সম্মিলিত ভাবে গণ পদযাত্রাটি গল্লামাড়ী মোড়ে হয়ে সোনাডাঙ্গা মোড় ঘুর শিববাড়ী গণপদযাত্রাটি জোনস্রোতে পরিণত হয়। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় সহস্রাধিক সাধারণ শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই সমাবেশে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষ্যমের কোনো ঠাঁই নেই। এদেশকে মেধাশুন্য করতে এধরণের কোটা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মেধাবিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। ফলে, অযোগ্যরা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বসে যাচ্ছে। এতে, দেশে দুর্নীতি বাড়ছে, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, একটি দেশে কোটা থাকতে পারে, তাই বলে ৫৬ শতাংশ কোটা রাখা কোনোভাবেই যুক্তি সংগত নয়। কোটা ব্যবস্থা হচ্ছে কোনো পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়কে সামনে এগিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা। কিন্তু বাংলাদেশে যে কোটা প্রবর্তন করা হয়েছে এর মাধ্যমে শিক্ষিত ও মেধাবিদের পিছিয়ে দেয়া হচ্ছে। একটি দেশে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কোটা ব্যবস্থা চলতে পারে না। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানান। সমাবেশে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহবায়ক আমিনুল রহমান বলেন কোঠা হচ্ছে পঙ্গুত্ব, বাঙ্গালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যর সাথে এই পঙ্গুত্ববরণ কখনো যায় না।তাই কোঠা সংস্কার এখন সময়ের দাবি।কোটা আন্দোলন কারীদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও এর বিচারদাবী করছি, এবং সংসদে মতিয়ার রহমানের মস্তিস্কবিকৃত কথাবর্তার জন্য অবিলম্বে জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে হবে।

এ সময় শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, গতকাল সংসদে মতিয়ার চৌধুরীর আন্দোলনরত ছাত্রদের নিয়ে কুরুচিপূর্ন মন্তব্য করায় কঠোর সমালোচনা এবং তীব্র প্রতিবাদ করছি।” আমরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস কার্যক্রম বর্জন করার ঘোষনা দিয়েছি।

 

 

আন্দোলনকারীরা এ সময় বলেন আজ (১০ এপ্রিল) বলেন, মতিয়া চৌধুরী এবং সেসব সাংসদ আন্দোলনকারীদের “রাজাকার” বলে আখ্যায়িত করেছেন তাদেরকে বিকাল ৫টার মধ্যে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে।

খুলান বিশ্ববিদ্যালয়ের অদম্য বাংলার সামনে বিক্ষোভকারীদের প্রতিনিধি বিদ্যুৎ বিশ্বাস আমিন বলেন, “আমরা বঙ্গবন্ধুর সন্তান। রাজাকারদের নয়। সরকারের ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। তারা আমাদের কাছে একমাস সময় নেয় আবার আমাদের রাজাকার বলে আখ্যা দেয়।”