কেসিসি মেয়র প্রার্থী চূড়ান্তে কৌশলী বিএনপি : আলোচনায় মঞ্জু!

0
349

এম জে ফরাজী, খুলনাটাইমস:
বর্তমান মেয়রের উপর দলীয় নেতাকর্মীর ক্ষোভ, মনোনয়ন নিয়ে প্রভাবশালী দু’প্রার্থীর স্নায়ুযুদ্ধ, প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রভাবশালী প্রার্থী ও জাতীয় নির্বাচনের আগেই সিটি নির্বাচনের জয়ের চিন্তা ইত্যাদি কারণ বিবেচনা করে খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করতে কৌশলগত সিদ্ধান্তের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিএনপি। এর ফলে মেয়র পদে দুই মনোনয়ন প্রত্যাশী নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি ও জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সাথে নতুন করে নেতাকর্মীদের আলোচনায় নাম উঠে এসেছে দলের বিএনপি কেন্দ্রীয় নেতা ও নগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নাম। যদিও তিনি মেয়র পদে নির্বাচন করতে আগ্রহী নন বলে জানিয়ে আসছেন।
সূত্র জানায়, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর দলের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির উপর নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ছিল অনেক বেশি। কিন্তু নেতাকর্মীর আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি। অনেক সময় নেতাদের সাথে মতবিরোধও দেখা গেছে। যে বিষয়টি দলের একটি অংশ তার উপর ক্ষুব্ধ। এছাড়া গত সিটি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তে জায়গা ছেড়ে দেওয়া জেলা বিএনপি সভাপতি শফিকুল আলম মনা জোড়ালোভাবে এবছর মনোনয়ন দাবি করছেন। অনেকদিন ধরেই তিনি নগরে মেয়র প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির কাছ থেকেও নিজে মনোনয়নপত্র ক্রয় করেছেন। যা নিয়ে বর্তমানে এই দুই নেতার মধ্যে ঠান্ডা স্নায়ুযুদ্ধ চলে আসছে।
বিএনপি সূত্র জানায়, মেয়র পদে মনিরুজ্জামান মনি আবারও প্রার্থী হচ্ছেন এটা অনেকটা নিশ্চিত। গত বুধবার নগর বিএনপির নির্বাহী কমিটির সভায় মেয়র পদের জন্য বর্তমান এ মেয়রকে সুপারিশ করা হয়। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের আগে খুলনা সিটিতে কর্তৃত্ব ধরে রাখতে মেয়র পদে চমক আনতে পারে বিএনপি। সেক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
একাধিক সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগে যদি তালুকদার আব্দুল খালেককে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তাহলে মেয়র পদে বিএনপির জয় কষ্টকর ব্যাপার। কেননা ২০০৮-২০১৩ সাল পর্যন্ত সাবেক এই মেয়রের শাসনামল ছিল খুলনার জন্য ‘সেরা সময়’। তার সময়ে অভূতপূর্ব উন্নয়নের জন্য তিনি আজও প্রশংসিত। কিন্তু গত নির্বাচনে এই মনিরুজ্জামান মনি’র কাছেই তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। যদি সেসময় রাজনৈতিক প্রতিকূল অবস্থা, অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে দায়ী করা হয়েছিলো।
সূত্র আরও জানায়, নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই মেয়র পদে আর নির্বাচন করতে চাইছেন না তালুকদার আব্দুল খালেক। কিন্তু সম্প্রতি জেলা ও নগর কমিটির পৃথক সভায় আসন্ন কেসিসি নির্বাচনের জন্য তাকেই যোগ্য মনে করছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এক্ষেত্রে আবারও তিনি প্রার্থী হচ্ছেন এটাও অনেকাংশে নিশ্চিত। এজন্য নিজেদের জয় ছিনিয়ে নিতে কৌশলী হচ্ছে বিএনপি।
বিএনপি সূত্র জানায়, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জুর ক্লীন ইমেজ। দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে তিনি খুলনার বিএনপিকে নিয়ন্ত্রণ করছেন। খুলনা সিটিতে কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির সিদ্ধান্তে বিপরীত দলের হেভিওয়েট প্রার্থীর মুখোমুখি হতে পারেন তিনি। এক্ষেত্রে তিনি যদি প্রার্থী হন তাহলে সেটি হবে নগরবাসীর জন্য চমক।
মেয়র পদে লড়তে আগ্রহী নন জানিয়ে নগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, খুলনা সিটিতে মেয়র পদে মনোনয়ন কিনেছেন মনিরুজ্জামান মনি ও শফিকুল আলম মনা। আগামী ৮ এপ্রিল প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেবে কেন্দ্রীয় কমিটি। তারপর প্রার্থী চূড়ান্ত হবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষেই সবার কাজ করতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ১৫ জুন অনুষ্ঠিত কেসিসির সর্বশেষ নির্বাচনে বিএনপি-সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরামের প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনি (আনারস) ১ লাখ ৮১ হাজার ২৬৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক পেয়েছিলেন ১ লাখ ২০ হাজার ৫৮ ভোট।