কেসিসি নির্বাচন: ফের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ খালেক-মঞ্জুর

0
332

খুলনা টাইমস প্রতিবেদক:
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে প্রধান দু’দলের মেয়র প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ যেন কোন মতেই কমছে না। শনিবার পাল্টাপাল্টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে আবারও রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। আবেদনপত্রে তারা একে অপরের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
আ’লীগ সূত্র জানায়, শনিবার দুপুরে রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর আচরণবিধির ২ বিধির ৭নং অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করে ব্রিফিং এ রঙিন ব্যানারসহ নির্বাচনী প্রতীক ব্যবহারের কারণে বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর মনোনয়ন বাতিলের আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক।
কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গত ১৮ এপ্রিল’১৮ বুধবার খুলনা প্রেসক্লাবে প্রেস ব্রিফিংকালে রঙিন ব্যানার ব্যবহারসহ সেখানে ধানের শীষ প্রতীক ব্যবহার করেছেন। যা ১৯ এপ্রিল দৈনিক পূর্বাঞ্চলসহ স্থানীয় সকল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। যা আচরণ বিধির ২ এর ৭নং অনুচ্ছেদ সুস্পষ্টভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। যা মনোনয়নপত্র বাতিলযোগ্য বলে আমি মনে করি।’ এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা ও কেসিসি নির্বাচনের আপিল কর্তৃপক্ষ’র কাছেও অনুলিপি পাঠানো হয়।
বিএনপি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার রাতে নগরীর একটি ক্লাবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেককে নৌকা প্রতীকে ভোট দেয়ার আহবান সম্বলিত ব্যানার টানিয়ে সভা করেছেন জেলা শাখার নেতারা। এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু স্বাক্ষরিত অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘২০ এপ্রিল রাতে খুলনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদসহ জেলার নেতারা ইউনাইটেড ক্লাবে নৌকা প্রতীকের ব্যানার টানিয়ে সভা করেন। সেখান থেকে কেসিসি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে ভোট দেয়ার আহবান জানানো হয়। যে সংবাদ শনিবারের স্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। তাদের এ কর্মকান্ড খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০১৬ এর ২২নং বিধির লঙ্ঘন। এ বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধির ৩১ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।’
এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মেয়র প্রার্থীরা শনিবার পরস্পর পরস্পরের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছেন। এর আগে শুক্রবারের ২১নং ওয়ার্ডের ঘটনায় স্থানীয় কাউন্সিলরকে শোকজ করা হযেছে। আগের সব অভিযোগ নিস্পত্তি হয়েছে। এখন এ দু’টিরও তদন্ত করে নিস্পত্তি করা হবে।’