কেসিসি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু চায় ২০ দলীয় জোট : প্রেস ব্রিফিংয়ে মেয়র প্রার্থী মঞ্জু

0
392

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপি মনোনীত কেসিসি’র মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, সরকার চায় ভোটাররা যেনো ভোট কেন্দ্রে না যায়। রাষ্ট্রের সমস্ত যন্ত্রগুলো যেনো সরকারি দলের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে। গত কয়েকদিনে লক্ষ্য করেছি, শেখ পরিবারের সদস্যরা খুবই কর্মতৎপর ছিলেন খুলনায়। কি একটা মেসেজ তারা দিয়ে গেলেন সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে গভীর রাতের বৈঠকে। এতে আমাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।
শেখ পরিবারের প্রতি আমাদের আহ্বান থাকবে- এই ছোটখাটো নির্বাচনে না জড়িয়ে জাতীয়ভাবে জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচন নিয়ে ভাবুন। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা অসৎ উদ্দেশ্যে তাদেরকে ব্যবহার করতে চায়। তাঁরা যেনো সেই অসৎ উদ্দেশ্যে, অসৎ স্বার্থ রক্ষায় ব্যবহৃত না হন।
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চেহারা বলছে- কি একটা নির্দেশনা তাদের উপরে চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কেএমপি কমিশনারের কাছে এসব বিষয়ে তুলে ধরবো। আমরা চাই কেসিসি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। এটা সরকার পরিবর্তনের নির্বাচন নয়; ফলে স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনে সরকার ভুল করেও হস্তক্ষেপ করবে না। অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে ভোটাররা শঙ্কিত। গণমাধ্যম পজিটিভ সংবাদ পরিবেশন না করলে ভোটারদের শঙ্কা আরও বাড়তে পারে।
সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় কেডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি আয়োজিত প্রেসব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন বিএনপি’র কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর শাখার সভাপতি। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি আন্দোলনের অংশ হিসেবে চেয়ারপারসনের ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে বিএনপি খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আজ প্রতীক পেয়ে প্রচার যাত্রার শুরু থেকে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত গণমাধ্যমকর্মীদের জনগনের পাশে থেকে অতন্ত্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের অনুরোধ করেন তিনি।
প্রেসব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন যদি অবাধ সুষ্ঠু না হয়; এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়, এটিই হবে সরকারের গলার কাটা। দেশের একটি জাতীয় নির্বাচনের অপেক্ষায় ১৬ কোটি মানুষ এবং সারাবিশ্ব। চীন, ইউরোপিয়ন ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতও বলেছে একটি অংশ গ্রহনমুলক অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ গ্রহনযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। তাই এই নির্বাচনে যদি ভোট ডাকাতি হয়; তাহলে বাংলাদেশে অংশগ্রহনমুলক নির্বাচন হবে না।
নগরীতে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেয়র প্রার্থী মঞ্জু বলেছেন, নগরীর ২৪নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুকের বাড়ীতে গিয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। তার পরিবারকে হুমকি দেয়া দিয়েছে। একই বাহিনী ১০/১৫টা মোটরসাইকেল নিয়ে ৯০ দশকের সাবেক ছাত্রনেতা আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ীতে গিয়ে পরিবারকে শাসানো হয়েছে, হুমকি দিয়েছে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। ৩০নং ওয়ার্ডে সাবেক হুইপের ভাই দারা বিএনপি নেতাকর্মীদের হাত-পা ভেঙে দেবার হুমকি দিয়েছেন। ৩১নং ওয়ার্ডে একজন দাঙ্গাবাজ ছাত্রলীগ নেতা ও তার কর্মীরা ওখানে একই হুমকি দিচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন জায়গায় তাদের কর্মতৎপরতা শুরু হয়েছে গত পরশুদিন রাত থেকে। ইঙ্গিত বহন করে ওইদিকে যে এসবের নির্দেশনা ময়লাপোতা মোড় থেকে আসছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাড.শফিকুল আলম মনা, শাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সৈয়দা নার্গিস আলী, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, আব্দুল জলিল খান কালাম, সৈয়দা রেহেনা ঈসা, এস এ রহমান, মোঃ ফকরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, শেখ আব্দুর রশিদ, আসাদুজ্জামান মুরাদ, এহতেশামুল হক শাওন ও শামসুজ্জামান চঞ্চল প্রমুখ।