কেসিসি নির্বাচনে দু’কেন্দ্রে ইভিএম তিনটিতে সিসি ক্যামেরা

0
707

নিজস্ব প্রতিবেদক : খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে দু’টি ভোট কেন্দ্রে ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ব্যবহার করা হবে। ফলে এ দু’টি কেন্দ্রের ১০ বুথের ২ হাজার ৯৭৮ ভোটার ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। একই সাথে চিহ্নিত ঝুঁকিপূর্ণ ৩ কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হবে সিসি ক্যামেরা। এ নির্বাচনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৪টি।
রিটার্নিং অফিসার মোঃ ইউনুচ আলী বলেন, ইভিএমের বিষয়ে ঢাকা থেকে বিশেষজ্ঞ একটি টিম এসেছে। এছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার লক্ষে যা যা করার দরকার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী সবই করা হচ্ছে।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্র জানায়, এবারের কেসিসি নির্বাচনে নগরীর ২৪ ও ২৭নং ওয়ার্ডের ২টি কেন্দ্রের ভোটাররা ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে একটি নগরের ২৪নং ওয়ার্ডের ২০৬ নম্বর সোনাপোতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটাররা ইভিএমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই কেন্দ্রের ৪টি বুথে ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন ১ হাজার ৯৯ জন মহিলা ভোটার। এর মধ্যে শেরে বাংলা রোড (রায়পাড়া থেকে নিরালা পর্যন্ত), ইকবাল নগর মসজিদ রোড, শেরে বাংলা রোড (দ: পাশ-ময়লাপোতা থেকে রায়পাড়া পর্যন্ত) এলাকার ভোটাররা এ কেন্দ্রে ইভিএম এ ভোট দিতে পারবেন। অপরটি নগরের ২৭নং ওয়ার্ডের ২৩৯ নম্বর পিটিআই, জসিম উদ্দিন হোস্টেল (নীচতলা) কেন্দ্রের ৬টি বুথে বিকে মেইন রোড (আংশিক) দক্ষিণ পাশের ১ হাজার ৮৭৯ জন পুরুষ ভোটার ইভিএমে ভোট দিতে পারবেন।

অন্যদিকে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫৪ টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এর মধ্যে ৩টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এগুলো হলো নগরের ৬নং ওয়ার্ডের ৩৭ নম্বর সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ (কলা ভবন) কেন্দ্র, ২২নং ওয়ার্ডের ১৮৩ নম্বর পাইওনিয়ার মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় (পশ্চিম পাশ) কেন্দ্র ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের পিটিআই প্রশিক্ষণ ভবন (২য় ও ৩য় তলা) কেন্দ্র।

সূত্রটি আরো জানায়, এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এ জন্য বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটি, মনিটরিং কমিটি, ব্যয় নির্ধারণ কমিটিসহ বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভোটগ্রহণের জন্য ২৮৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ১ হাজার ৫৬১ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও ৩ হাজার ১২২ জন পোলিং অফিসারসহ মোট ৫ হাজার ২২১ জন ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে তিন দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

নগরীর সরকারি বিএল কলেজে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণ শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার।

এছাড়া বুধবার সন্ধ্যায় খুলনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম নির্বাচন কর্মকর্তা, ম্যাজিস্ট্রেটসহ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন। আর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একই স্থানে বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয় কমিটির সভায় যোগদান করবেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। এখানে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্নের জন্য নানা দিক-নির্দেশনা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কর্মকর্তারা।

এর আগে গত ৬ মে নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদা খুলনা বিভাগীয় আইন-শৃঙ্খলা সমন্বয়ক কমিটির সভা, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছেন।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, কেসিসি নির্বাচনে প্রত্যেকটি কেন্দ্রে অস্ত্রধারীসহ ২২ জন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর লোক থাকবে এবং গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্রে ২৪ জন থাকবেন। এছাড়াও ৩১টি ওয়ার্ডে ৩১টি পুলিশের টীম এবং ১০টি স্ট্রাকিং ফোর্স থাকবে। র‌্যাবের ৩২টি টীম (প্রতি পাঁচটি কেন্দ্র মিলে) র‌্যাবের টহল থাকবে। বিজিবি থাকবে ১৬ প্লাটুন। কোথাও অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে মোকাবেলা করার জন্য তিন থেকে চার প্লাটুন বিজিবি রিজার্ভ থাকবে। ৬০ জন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন এবং প্রত্যেকটি বিজিবি টহলের সাথে একজন ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট থাকবেন ১০ জন, যারা তাৎক্ষণিকভাবে বিচার করতে পারবেন।

এদিকে সিটি কর্পোরেশনে প্রথমবারের মতো মেয়র পদে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেয়র পদে ৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক (নৌকা), বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টি মনোনীত মেয়র প্রার্থী শফিকুর রহমান মুশফিক (লাঙল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত মেয়র প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক (হাত পাখা) ও সিপিবি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মোঃ মিজানুর রহমান বাবু (কাস্তে)। এবার নগরীর ৩১টি সাধারণ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ১৪৮ জন এবং ১০টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে ৩৯ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, খুলনা সিটিতে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৯৮৬ ও নারী ২ লাখ ৪৪ হাজার ১০৭ জন। ভোটকক্ষ ১ হাজার ১৭৮টি। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা ৪ হাজার ৯৭২ জন। এ নির্বাচনে ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ভোট কক্ষ রয়েছে ১ হাজার ৫৬১টি। আর অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৫৫টি। সর্বশেষ ২০১৩ সালে কেসিসির নির্বাচনে নগরীর ৮নং ওয়ার্ডে ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ করা হয়।