কেসিসি নির্বাচনে খালেকের গ্রহণযোগ্যতা বনাম মঞ্জুর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি

0
485

এম জে ফরাজী : দুয়ারে ভোট। মহানগরীর চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হোটেল, রেস্তোরাঁ কিংবা শপিংমল সবখানেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে কে হচ্ছেন খুলনা সিটির নগর পিতা। ভোর থেকে শুরু করে গভীর রাত অবধি চলছে প্রার্থীদের বিরামহীন প্রচারণা। ভোটগ্রহণ আগামী ১৫ মে মঙ্গলবার।
এখন পর্যন্ত নগরীর উন্নয়ন ও মেয়র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে তালুকদার আবদুল খালেকের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ভোটাররা। অপরদিকে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতা হিসাবে বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু’রও জনপ্রিয়তা রয়েছে ভোটারদের মধ্যে। মূলত এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই মূল লড়াই হবে বলে ধারণা ভোটারদের।
জাতীয় নির্বাচনের আগে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিতব্য খুলনা সিটি নির্বাচনকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। এবারই প্রথম দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মেয়র প্রার্থীরা। ফলে সিটি নির্বাচন দল দুটির জন্য অগ্নিপরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর নগর পিতা নির্বাচনে ভোটারদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে উন্নয়ন এবং প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টি।
২০০৮ সালে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন তালুকদার আব্দুল খালেক। নির্বাচনে জয়লাভের পর নগরীর রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক কর্মকাণ্ড চলে। নগরীর ২২টি খাল দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রেও অভিযান চালানো হয়। ওই সময় খুলনার শহীদ হাদিস পার্ক আধুনিকায়ন, লিনিয়ার ও সোলার পার্কের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছিল। কেসিসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণে কঠোর ছিলেন তালুকদার খালেক। তিনি দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার সিন্ডেকেট ভেঙে দিয়েছিলেন। কিছু দিনের মধ্যেই তিনি নগরবাসীর কাছের মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৩ সালের নির্বাচনে জাতীয় ইস্যু ও স্থানীয় দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে বিএনপি প্রার্থী মনিরুজ্জামান মনির কাছে পরাজিত হন তিনি।
নগরবাসী মনে করেন, ২০০৮-২০১৩ সালে উন্নয়নের ক্ষেত্রে যতটা অগ্রগতি হয়, ২০১৩-২০১৮ সময়কালে ঠিক ততটাই পিছিয়ে পড়ে খুলনা নগরী। গত পাঁচ বছরে খুলনা শহরে দৃশ্যমান কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বরং নগর ভবনে নিজের দপ্তর সাজানো, নেতাকর্মীদের সাথে দূরত্ব, নাশকতার মামলায় বরখাস্তসহ নানা কারণে সমালোচিত হয়েছেন বর্তমান মেয়র মনিরুজ্জামান। ফলে এবারের নির্বাচনে তাকে মনোনয়ন দেয়নি বিএনপি। নতুন করে মনোনয়ন পেয়েছেন খুলনা-২ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম মঞ্জু। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিও রয়েছে তার। বলা হয়ে থাকে, তিনিই এ অঞ্চলে বিএনপির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা। তবে তার দলের কাছ থেকে খুলনা সবসময় উন্নয়ন বঞ্চিত হওয়ায় তাকে পড়তে হচ্ছে সমালোচনায়।
নিউমার্কেটের চা বিক্রেতা শহিদুলের সাথে কথা হয় এই প্রতিনিধির। শহিদুল বলেন, খুলনার উন্নয়নের জন্য তালুকদার আব্দুল খালেকই যোগ্য। তিনি খুলনা শহরকে বদলে দিয়েছেন। তিনি দুর্নীতি পছন্দ করেন না। অনেক বেকার লোককে ঘুষ ছাড়া চাকরি দিয়েছেন। তাই তাকেই আবারও মেয়র পদে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করা উচিত।’
আশরাফুল ইসলাম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, সরকার বরাদ্দ না দেওয়ায় মেয়র মনি উন্নয়নকাজ করতে পারেননি। তবে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বর্তমান মেয়রের চেয়ে অনেক যোগ্য। তাকে নির্বাচিত করলে খুলনা একটি আধুনিক শহরে রূপান্তরিত হবে।
সফিকুর রহমান নামের এক এনজিও কর্মী বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দুই মেয়র প্রার্থীই ভাল লোক। তারা দুজনেই খুলনা শহরে বেশ জনপ্রিয়। তবে খুলনার উন্নয়ন চাইলে তালুকদার আব্দুল খালেককে বিজয়ী করা উচিত। কারণ তার দল ক্ষমতায়। তিনি নির্বাচিত হলে বেশি বেশি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে।