কেসিসিতে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করছে সরকার : অভিযোগ মঞ্জুর

0
416

বিশেষ প্রতিনিধি :
খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেছেন, সরকার কেসিসিতে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ করছে। পুলিশের নেতৃত্বে রাতেই ব্যালট পেপারে সীল মেরে বাক্স ভরার ষড়যন্ত্র চলছে। একই সঙ্গে পুলিশ বিএনপির ভোট ব্যাংক এলাকায় ব্লক রেইড’র নামে হিংস্র রূপে হানা দেওয়ারও পরিকল্পনা করেছে। সরকারের মন্ত্রী পরিষদ এবং এমপি-মন্ত্রীসহ সিনিয়র নেতারাও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। তার মতো (মঞ্জু) একজন রাজপথের কর্মীকে খোদ শেখ হাসিনার বিরুদ্ধেই লড়াই করতে হচ্ছে। গতকাল সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে নজরুল ইসলাম মঞ্জু এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বহিরাগতদের এনে শহরের হোটেল, রেস্ট হাউজ ও আবাসিক কোয়াটারসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাগ ভাগ করে রেখেছে। এমনকি পুলিশের নামেও বিভিন্ন হোটেল বুকিং দেয়া হয়েছে। ভোটের দিন এসব বহিরাগতরা বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঢুকে নিজেরা নিজেরা সংঘর্ষে লিপ্ত হবে। এরপর ভয়ে ভোটাররা কেন্দ্র ত্যাগ করলে তারা ব্যালট কেটে বাক্সে ঢুকাবে। এভাবে নানা ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতা চালিয়ে সরকার জনতার বিজয় ছিনিয়ে নিতে চায়। এ অপতৎপরতা রূখে দিতে তিনি জনগণকে সাহসি ভূমিকা পালনের আহবান জানান।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, সরকার এবং নির্বাচন কমিশন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারে কি-না- এটি দেখতেই বিএনপি কেসিসি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। একই সঙ্গে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কারামুক্তি এবং জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার আন্দোলনের অংশ হিসেবেই বিএনপি মাঠে রয়েছে। কিন্তু বিগত সাড়ে ৯ বছরে প্রমাণিত হয়েছে বর্তমান সরকারের অধীনে কোন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। যার সর্বশেষ আঘাত সরকার এবং পুলিশের দানবীয় ও ড্রাকুলার হিংসা চেহারায় প্রতিফলিত হয়েছে।
তিনি পুলিশের হিং¯্র ভূমিকায় ধিক্কার জানিয়ে বলেন, পুলিশ এ পর্যন্ত বিএনপির ১৩৭জন এবং শরীকদলের ১০জন নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। তবে, দলের সদস্য বাদে সমর্থকসহ এ সংখ্যা আড়াই শতাধিক। পুলিশ গ্রেফতার বাণিজ্য করেছে। দলের একজন অসুস্থ্য নেতাকে হাতকড়া পরিয়ে আবার ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছে। এমনকি তার (মঞ্জুর) পরিবারও পুলিশের হিং¯্রতা থেকে রেহাই পায়নি।
নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এতকিছুর পরও জনতার বিজয় হয়েছে। শেষ দিনের প্রচারণায় ইশারা-ইঙ্গিতে জনতা তার পক্ষে বিপুল সমর্থন ও রায় জানিয়ে দিয়েছে। এ বিষয়টি তাকে অভিভূত করেছে, নতুন করে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাথে আছে পুলিশ, পেশীশক্তি আর কালো টাকা। আর বিএনপির সঙ্গে রয়েছে জনগন। নাগরিক শাসন, সুশাসন, ভোটের অধিকার এবং সুন্দর শহর গড়তে তিনি ভোটারদের মঙ্গলবার সকালেই ভোট কেন্দ্রে গিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের আহবান জানান।
প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা সমন্বয় কমিটির আহবায়ক ও প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভাকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, পরিচালনা কমিটির আহবায়ক সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সদস্য সচিব আমীর এজাজ খান, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মুজিবর রহমান, কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, সৈয়দা নার্গিস আলী, অ্যাডভাকেট লতিফুর রহমান লাবু, সিরাজউদ্দিন সেন্টু, মোস্তফা কামাল, মাওলানা নাসিরউদ্দিন, আক্তার জাহান রুকু, খান গোলাম রসুল, শেখ মোশারফ হোসেন, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, মোল্লা আবুল কাশেম, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, মনিরুজ্জামান মন্টু, শফিকুল আলম তুহিন, মনিরুজ্জামান মন্টু, মুজিবর রহমান, আজিজুল হাসান দুলু, এহতেশামুল হক শাওনসহ ২০ দলীয় জোট, বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।