কেশবপুরে সুদখোরের নির্যাতনে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

0
410

কেশবপুর প্রতিনিধি:
কেশবপুরে কড়িয়াখালী গ্রামের সুদখোর সন্ত্রাসী হাফিজুর রহমান ওরফে ছোট বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভুগি রমজান আলী বাদি হয়ে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, কড়িয়াখালী গ্রামের মৃত আ: জব্বার গাজীর ছেলে রমজান আলী অভাবের তাড়নায় প্রতিবেশী মৃত আনার আলী মীরের ছেলে হাফিজুর রহমান ওরফে ছোটর নিকট থেকে ২০১১ সালে জীবন নির্বাহের জন্য ১০ হাজার টাকা কর্জ স্বরূপ গ্রহণ করে। কর্জের টাকা পরিশোধ করিতে ব্যর্থ হইলে হাফিজুর রহমান ওরফে ছোট হাফিজুর রহমানকে উক্ত টাকার সুদে আসলে পরিশোধের হুমকি প্রদান করে। হাফিজুর রহমান নিরূপায় হয়ে প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা হারে সুদের টাকা পরিশোধ করিতে থাকে। প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা হারে সুদের টাকা দেওয়ার পরও আসল পরিশোধ হয়নি মর্মে হাফিজুর রহমান রমজান আলী নিকট থেকে সুকৌশলে একটি ষ্ট্যাম্পে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পাইবে মর্মে জোর পূর্বক স্বাক্ষর করাইয়া নেই। পরবর্তীতে সে ওই ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকার সুদ বাবদ পাওনা ৭৫ হাজার টাকা হয়েছে মর্মে রমজান আলীর উপর চাপ দিতে থাকলে সে কোন টাকা দিতে না পারায় হাফিজুর রহমান আবারও জোর পূর্বক একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করাইয়া নেই। এরপর থেকে সে রমজান আলীর নিকট ২ লক্ষ টাকার সুদ দাবি করিতে থাকে। রমজান আলীর দিতে অস্বীকার করায় গত ২ বছর পূর্বে তার গোয়াল হইতে ৫১ হাজার টাকা মূল্যে ১টি এঁড়ে গরু জোর পূর্বক ধরে নিয়ে যায়। রমজান আলী হাফিজুর রহমান ওরফে ছোট হুমকীতে টিকতে না পেরে জীবন ভয়ে ও স্বাক্ষরকৃত ষ্ট্যাম্প ফেরৎ পাইবার আশায় কেশবপুরস্থ একটি এনজিও থেকে ১ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে হাফিজুর রহমানকে নগদে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার পর স্বাক্ষরকৃত ষ্ট্যাম্প ফেরৎ চাইলে ফেরৎ না দিয়ে উপরন্ত রমজান আলী ও তার পরিবারে বিরুদ্ধে বিভিন্ন ঘড়যন্ত্র মূলক মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে জেল খাটানোর হুমকি দিয়া তাড়িয়ে দেয়। সুদের টাকা দিতে না পারায় দীর্ঘ ৯ বছরে হাফিজুর রহমান ওরফে ছোট ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন সময় রমজান আলী ও পরিবারের সদস্যদের উপর অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন করে আসছে।
হাফিজুর রহমান ওরফে ছোট নিকট সুদ নেওয়া ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি রমজান আলীকে আম কাঠালের ব্যবসার জন্য টাকা দিয়েছি। আমি কোন সুদের টাকা দেয়নি।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।